পোস্টগুলি

কুকুরের কামড়ে জখম লক্ষীপেঁচা

ছবি
কুকুরের কামড়ে জখম  লক্ষীপেঁচা  ছবি : অনন্ত সাঁতরা কুকুরের কামড়ে জখম হয়েছে একটি লক্ষীপেঁচা। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার সময় সিঙ্গুর থানার বাসুবাটি পঞ্চায়েতের কাঁসারিপুকুর মাঠে ধানের জমিতে ইঁদুর শিকারের জন্য প্যাঁচটি বসেছিল। সেই সময় একদল কুকুর পেঁচাটিকে দেখতে পেয়ে তাঁর উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। পেঁচাটি ধরে কুকুরে টানাহ্যাঁচড়া করতে থাকে। এই ঘটনা দেখে স্হানীয় গ্রামবাসীরা ছুটে গিয়ে কুকুরের কামড়ে থেকে তাঁকে উদ্ধার করে।   পেঁচাটির ডানদিকের ডানা রক্তাক্ত হয়ে অকেজো হয়ে গেছে । জখম অবস্থায় পেঁচাটিকে মাঠের ধারে শ্রীরামপুর গ্রামের একটি বাড়িতে খাঁচার মধ্যে রাখা হয়েছে। প্রাথমিক শুশ্রূষা চলছে ক্ষতস্থানটি সারানোর । সেই সঙ্গে তাঁকে খেতে দেওয়া হচ্ছে। গ্রামবাসীরা জানান, পেঁচাটি সুস্থ হয়ে উঠলে তাঁকে প্রকৃতিতে ছেড়ে দেওয়া হবে।

চন্দননগর হাসপাতালের দুরবস্থা নিয়ে ক্যাম্প এবং প্রচার কর্মসূচী চন্দননগর নাগরিক সমাজের

ছবি
 চন্দননগর হাসপাতালের  দুরবস্থা নিয়ে ক্যাম্প  এবং প্রচার কর্মসূচী  চন্দননগর নাগরিক সমাজের চন্দননগর মহকুমা হাসপাতালের সামনে আজ 'চন্দননগর নাগরিক সমাজ' এর তরফে একটি ক্যাম্প এবং প্রচার কর্মসূচীর উদ্যোগ নেওয়া হয় হাসপাতালের দুরবস্থাকে কেন্দ্র করে।ক্যাম্পে এসে তাদের নিত্যদিনের অসুবিধা, না পাওয়ার ক্ষোভ উগরে দেন চিকিৎসা করাতে আসা রোগী এবং তাদের আত্মীয়েরা। তাদের কাছ থেকে জানা যায়, হাসপাতালে একাধিক সাধারণ সু্যোগ সুবিধা পাওয়া থেকে তারা বঞ্চিত। এক্স-রে, সিটি স্ক্যান, জরুরী ব্লাড টেস্টের মতো পরিষেবা এখানে পাওয়া যায় না বলে জানালেন এক চিকিৎসা করাতে আসা রোগী। আইসিইউয়ের মতো পরিষেবা নেই বলে অনেক বেশী মূল্যে বাইরে থেকে সেই পরিষেবা নিতে হয় বলেও অভিযোগ। ক্যাম্প থেকে প্রচুর লিফলেট বিলি করা হয়। লিফলেটের মধ্যে দুটি নম্বর দেওয়া হয় যেখানে দুটি নম্বর দেওয়া হয় অভিযোগ জানানোর জন্য। ক্যাম্পে উপস্থিত ছিলেন ডাঃ শিপ্রা রায়চৌধুরী, ডাঃ অলোক রায়চৌধুরী, ডাঃ শ্যামলী ঘোষ সহ শহরের একাধিক সমাজকর্মী এবং নাগরিকরা। ক্যাম্প থেকে ডঃ কুণাল সেন, রতনলাল রায়, সুরজিৎ সেন, জগদীশ শর্মার একটি প্রতিনিধিদল হাসপাতাল সুপারের ...

বিশ্ব এইডস দিবস ২০২৫ উদযাপনে সচেতনতা র‍্যালি

ছবি
 বিশ্ব এইডস দিবস ২০২৫  উদযাপনে সচেতনতা র‍্যালি বিশ্বব্যাপী উদ্যোগের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য এইডস প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ সমিতি (WBSAP&CS)-এর সহায়তায় এবং ওয়েস্ট বেঙ্গল ভলান্টারি ব্লাড ডোনার্স’ সোসাইটি (WBVBDS)-এর উদ্যোগে রাজ্যের ৭টি জেলায়— মুর্শিদাবাদ, হাওড়া, হুগলী, উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, বীরভূম এবং পূর্ব বর্ধমান— ১লা ডিসেম্বর থেকে ১৫ই ডিসেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত আয়োজিত হচ্ছে বর্ণাঢ্য এইডস সচেতনতা র‍্যালি পদযাত্রা। আজ ৪ঠা ডিসেম্বর ২০২৫ হুগলী জেলার খানাকুল-১ ব্লকের রঘুনাথপুর থেকে শুরু হয়ে সুসজ্জিত সচেতনতামূলক পদযাত্রা বিস্তীর্ণ এলাকা পরিক্রমা করে রাধানগরে রাজা রামমোহন রায় এর জন্মভিটেতে এসে শেষ হয়েছে। *"নিরাপদ রক্ত - সুরক্ষিত জীবন"* (Safe Blood Save Lives) শীর্ষক র‍্যালির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন লেফটেন্যান্ট বিদ্যুত হালদার- এন সি সি ইনচার্য রাজা রামমোহন রায় মহাবিদ্যালয়। উপস্থিত ছিলেন ডাক্তার সৌমিত্র দাস, অমিত আঢ্য - হেড মাস্টার রামনগর অটল বিদ্যালয়, দেবাশীষ মুখার্জি (গোলাপ সুন্দরী)- প্রধান শিক্ষক মাছপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়, রাজ্য রক্তদান আন্দোলনের নেতৃত্ব কবি ঘোষ,...

নিকষ ছায়ার অভিশাপ

ছবি
  নিকষ ছায়ার অভিশাপ মহাকাল ভৈরব গনগনে আঁচে জ্বলছে ধুনীতে! বিরেশ্বর মন্ত্র পড়ে ধুনীতে একদলা ধুনো ছড়িয়ে দিলো। মুহুর্তে সাদা ধোঁয়ায় ভরে গেলো বেশ কিছুটা এলাকা।  চিরকাল নিমোপাড়ার শ্মশান এড়িয়ে এসেছে রতনপুরের মানুষ। রাতে তো ওদিকের ত্রি সীমানায় কেউ যেতে চায়না কেউ। সেদিন ছিলো শীতের রাত কড়া শীতের মাঝেই ঝিরঝিরে বৃষ্টি পড়ছিলো। দূরে শেওড়া গাছের জমাট অন্ধকারের মধ্যে যেন কোন অশরীরী তাকিয়ে ছিলো জ্বলন্ত চিতার দিকে। আজ থেকে চার বছর আগে কাঁটাখালি খালের পাশে ঐ শেওড়া গাছের নীচে শিমুলের নিথর দেহটা ঝোলানো ছিলো। জিভটা অনেকটা বেরিয়ে এসেছিলো। অমন সুন্দর মুখটা কিরকম বিকৃত হয়ে গিয়েছিলো। এমনটা গ্রামের কেউ ভাবতে পারেনি। কত হাসিখুশি প্রাণবন্ত মেয়েটার একি পরিণতি?  গ্রামের প্রাইমারি স্কুলের মদন মাস্টারের বয়স তখন তিরিশ। স্কুল থেকে ফেরার সময় সাইকেলে বাড়ি ফিরতো। তার জন্যই শিমুল অপেক্ষা করতো রোজ। মাঝে মাঝে পেয়ারা এনে দিতো। ভালোবাসতো কিনা কেউ জানেনা। সেদিন মৃতদেহ দেখার পর থেকে মাস্টার কিরকম থ হয়ে গেলো। আস্তে আস্তে তার স্বাভাবিক জীবনে কিরকম অস্বাভাবিকতার ছাপ ধরা পড়তে থাকলো। একদিন স্কুল থেকে হঠাৎ বিড় বিড় করতে ক...

নিছকই একটা গল্প! না অন্য কিছু?

ছবি
  নিছকই একটা গল্প!  না অন্য কিছু? পর্ব - ২ সীতাংশু মজুমদার  এই নাও চা! চায়ের কাপ টেবিলে রাখার খট শব্দে দেবাংশু'র সম্বিৎ ফিরলো। দুটি টোষ্ট মাখন মাখানো একটা ডিমের পোচ এই প্রতিদিনের প্রাতরাশ । এটা খেয়ে ই দেবাংশু অফিসে বেড়িয়ে যায়। সাধারণত দুপুরের খাবার দেবাংশু অফিসে ই খায় । তবে রাতে তার ভাত চাই সাথে দু তিন রকমের পদ । নমিতা রান্না করে দেবাংশু র খাবার আলাদা করে ফ্রিজে তুলে রাখে । দুপুরে মা বোনের সাথে নিজের খাবার ভাগ করে খায়। সন্ধ্যা সাতটা নাগাদ দেবাংশু অফিস থেকে ফেরে । তখন চা করে দিয়ে ফ্রিজ থেকে খাবার গুলো বের করে ।দেবাংশু ই বলে দিয়েছে তার যখন খাবার ইচ্ছা হবে তখন ইলেকট্রিক ওভেনে নিজেই গরম করে নেবে ।বেশ কিছুদিন এটা চলে আসছে এর ব্যতিক্রম ঘটে নি । কলি়ং বেলটা দেবাংশু বাজালো দুবার । ভিতর থেকে আওয়াজ এলো, যাচ্ছি!  আরে তুমি? (পরমা বিস্মিত, সে ভাবতেও পারিনি) পরমা: এসো ভেতরে এসো।  দেবাংশু ভিতরে এলে, ফ্ল্যাট এর দরজা বন্ধ করলো পরমা। আমি তো ভাবতে ই পারিনি যে তুমি আমার ডাকে সাড়া দেবে? তুমি ফোনটা নামিয়ে রাখলে যখন আমি বুঝলাম তুমি আমাকে এড়িয়ে যেতে চাইছো । দশ বছর অনেক সময...

নিছকই একটা গল্প! না অন্য কিছু?

ছবি
নিছকই একটা গল্প!  না অন্য কিছু? সীতাংশু মজুমদার  ভোর রাতে হঠাৎ বৃষ্টি এলো। জানলা দিয়ে শীতল বাতাস ঘরে প্রবেশ করেছে। দেবাংশু খোলা জানালা দিয়ে ঘুম কাতর চোখে বিদ্যুৎ এর ঝলকানি দেখলো। মেঘের গর্জন শুনতে শুনতে পুনরায় ঘুমিয়ে পড়লো। ঘুম ভাঙলো, ফোন এর বেলের শব্দে। অনিচ্ছা সত্বেও দেবাংশু কে বিছানা র মায়া ত্যাগ করতে হোল। মাথাটা ধরেছে, গত রাতে বড্ড বেশি খাওয়া হয়ে গেছে। দেবাংশু ফোনের কাছে গেলো ফোন তুলে হ্যালো বলার সাথে সাথে ওপারে নারী কন্ঠ। রিসিভারের ওপার থেকে: আমি বলছি! দেবা: আমি কে? ওপার থেকে: চিনতে পারছো না? না চিনতে চাইছো না?  দেবাংশু উত্তর দেওয়ার জন্য কিছুক্ষণ সময় নিলো তারপর বললো, সত্যি আমি আপনাকে চিনতে পারছি না। ফোনের ওপার: আমি পরমা দেবাংশু পরমার মুখটা মনে করলো। এতদিন বাদে পরমা! কি মনে করে? বিস্মিত হয়ে দেবাংশু জিজ্ঞেসা করলো, কি ব্যাপার? ফোনের ওপার: তিন দিন আগে শনিবার রাত্রি ১১টা য় গৌতম মারা গেছে। মারা যাওয়ার আগে সে তোমার নামটা করেছে। দেবাংশু : তুমি কি সেই জন্য আমাকে ফোন করলে?  ওপার থেকে: খুব আস্তে উত্তর এলো, না! আমি তোমার সাথে দেখা করতে চাই দেবু। আমি বড় একা হয়ে ...

বুজরুক

ছবি
   বুজরুক                                    বৈদ্যনাথ পাল      🔴  ফেরিঘাট থেকে বেশ কিছুটা দূরে বেড়াকলমির জঙ্গল কেটে দরমার বেড়া দিয়ে মাথা গোঁজার ডেরাটা কোনোমতে খাড়া করেছে নিলয় শাস্ত্রী। বর্ষায় নদী যখন উত্তাল হয় তখন জায়গাটায় খুচখাচ ভাঙন ধরলেও এই ভাঙনধরা নদীতীর-ই মধ্যতিরিশের নিলয় শাস্ত্রীর জীবনের ভাঙন অনেকটাই রুখে দিয়েছে। জায়গাটা জনমানবহীন হওয়ায় বেশ নিরুপদ্রব। নিলয় শাস্ত্রীর লুকোছাপা জীবন তাই এখানে ষোলো আনা ছাপিয়ে সাড়ে ষোলো আনা খাপ খায়।         নিলয় শাস্ত্রী এর আগে প্রায় পাঁচ বছর কালীঘাটে তার গুরু প্রণবানন্দ শাস্ত্রীর খিদমতগারি করেছে। বাবা প্রণবানন্দ শাস্ত্রী নিজেকে বলতেন কামাখ্যাসিদ্ধ তান্ত্রিক -জ্যোতিষী। এহেন বাবার প্রসাদগুণে নিলয় শাস্ত্রী জ্যোতিষীর জীবন -জীবিকায় এক কদম এগিয়েই ছিল। এই কালীঘাটে থাকার সময় চুল-দাড়ি-গোঁফ কাটতে নিলয় শাস্ত্রী কখনো এক পয়সাও খরচ করেনি। পাঁচ বছরের মতো সুদীর্ঘ সময়ে তার চুল -দাড়ি-গোঁফ তেলে -জলে বেড...