নিকষ ছায়ার অভিশাপ
নিকষ ছায়ার অভিশাপ
মহাকাল ভৈরব
গনগনে আঁচে জ্বলছে ধুনীতে!
বিরেশ্বর মন্ত্র পড়ে ধুনীতে একদলা ধুনো ছড়িয়ে দিলো। মুহুর্তে সাদা ধোঁয়ায় ভরে গেলো বেশ কিছুটা এলাকা।
চিরকাল নিমোপাড়ার শ্মশান এড়িয়ে এসেছে রতনপুরের মানুষ। রাতে তো ওদিকের ত্রি সীমানায় কেউ যেতে চায়না কেউ। সেদিন ছিলো শীতের রাত কড়া শীতের মাঝেই ঝিরঝিরে বৃষ্টি পড়ছিলো। দূরে শেওড়া গাছের জমাট অন্ধকারের মধ্যে যেন কোন অশরীরী তাকিয়ে ছিলো জ্বলন্ত চিতার দিকে।
আজ থেকে চার বছর আগে কাঁটাখালি খালের পাশে ঐ শেওড়া গাছের নীচে শিমুলের নিথর দেহটা ঝোলানো ছিলো। জিভটা অনেকটা বেরিয়ে এসেছিলো। অমন সুন্দর মুখটা কিরকম বিকৃত হয়ে গিয়েছিলো। এমনটা গ্রামের কেউ ভাবতে পারেনি। কত হাসিখুশি প্রাণবন্ত মেয়েটার একি পরিণতি?
গ্রামের প্রাইমারি স্কুলের মদন মাস্টারের বয়স তখন তিরিশ। স্কুল থেকে ফেরার সময় সাইকেলে বাড়ি ফিরতো। তার জন্যই শিমুল অপেক্ষা করতো রোজ। মাঝে মাঝে পেয়ারা এনে দিতো। ভালোবাসতো কিনা কেউ জানেনা। সেদিন মৃতদেহ দেখার পর থেকে মাস্টার কিরকম থ হয়ে গেলো। আস্তে আস্তে তার স্বাভাবিক জীবনে কিরকম অস্বাভাবিকতার ছাপ ধরা পড়তে থাকলো। একদিন স্কুল থেকে হঠাৎ বিড় বিড় করতে করতে মাস্টার সাইকেলে করে বেরিয়ে গেলো। আর ফিরলো না। কি হল কোথায় গেলো কেউ জানেনা। দুদিন পরে তার দেহ মিললো।
তিনদিন ধরে মালোপাড়ায় মড়ক লেগেছে গেজুরে দের তিনজনের বীভৎস খুন নিয়ে শোরগোল চারিদিকে। শোনা যায় মালপাড়ার শ্মশানে মৃতদের লাশ নাকি দাহ করা যায়নি অলৌকিক কারণে। কি ঘটেছিলো সেদিন শিমুলের সঙ্গে কি হয়েছিলো? কোনোই বা ভৌতিক ঘটনা ঘটছে মালোপাড়ায়? প্রশ্নটা গাঢ় হচ্ছে প্রতিদিন। (ক্রমশঃ)
style="text-align: justify;">











মন্তব্যসমূহ