পোস্টগুলি

পুরোহিত, হস্তরেখা ও শাসকের সত্য

ছবি
 পুরোহিত, হস্তরেখা ও  শাসকের সত্য অয়ন মুখোপাধ্যায় শান্তা দত্তের উক্তিটি একাধারে দার্শনিক, সমাজতাত্ত্বিক ও রাজনৈতিক। তিনি বলেছেন, পুরোহিত জানেন ভগবান বলে কিছু নেই, হস্তরেখাবিদ জানেন হাতের দাগে ভবিষ্যৎ লেখা নেই, আর শাসক জানেন স্বাধীনতা বলে কিছু নেই। এই তিনটি দৃষ্টান্ত আসলে একই সূত্রে গাঁথা। প্রতিবারই যাঁরা একটি ব্যবস্থার ভেতরে প্রবেশাধিকার পান, যাঁরা তার অন্তর্লোক দেখেন, তাঁরাই সবচেয়ে ভালো বোঝেন সেই ব্যবস্থার ভেতরে কতটা ফাঁপা আর কতটা ভ্রান্তি লুকিয়ে আছে। সাধারণ মানুষ বাইরে থেকে যা বিশ্বাস করে, যা ভক্তিভরে মেনে চলে, ভেতরের মানুষ জানেন তার প্রকৃত রূপ। ধর্মের ক্ষেত্রে এর প্রতিফলন স্পষ্ট। সাধারণ মানুষ দেবতার কাছে প্রার্থনা করে, দুঃখে কাতর হলে মন্দিরে যায়, পূজার্চনায় মন দেয়। কিন্তু পুরোহিত জানেন দেবতা আসলে মূর্তির মধ্যে নেই, তাঁর কাছে দেবতা হচ্ছে আচার, মন্ত্র আর প্রতীক। পুরোহিতের অস্তিত্ব টিকে আছে ভক্তের বিশ্বাসের উপর, অথচ পুরোহিত নিজে জানেন সেই বিশ্বাসের কতটা মায়া। ইতিহাসে দেখা যায় ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান বহু সময়েই মানুষের আবেগকে শাসনের হাতিয়ার বানিয়েছে। দেবতা বা ঈশ্বরের অস্তিত্বকে রাজনৈত...

পূজোর কার্নিভালে 🔴 মানুষের ঢল

ছবি
পূজোর কার্নিভালে 🔴 মানুষের ঢল                           শ্রীরামপুরে পূজোর কার্নিভাল  ভারতের কণ্ঠ ব্যুরো : হুগলি জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শনিবার পূজোর কার্নিভাল আয়োজিত হল শ্রীরামপুরে। এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মাননীয় জেলা শাসক শ্রীমতি মুক্তা আর্যা, জেলা তথ্য ও সংস্কৃতি আধিকারিক শ্রী প্রবাল বসাক, বিধায়ক শ্রী অরিন্দম গুই, শ্রী সুদীপ্ত রায়, শ্রী অসিত মজুমদার, মাননীয় সাংসদ শ্রী কল্যাণ ব্যানার্জী। কার্নিভালে বৈদ্যবাটী পৌরসভার ট্যাবলো মাননীয় সিপি শ্রী অমিত পি জাগলাভি, বিধায়িকা শ্রী অসীমা পাত্র, চন্দননগরের মেয়র শ্রী রাম চক্রবর্তী, শ্রীরামপুর পৌরসভার চেয়ারম্যান শ্রী গিরিধারী সাহা, বৈদ্যবাটী পৌরসভার চেয়ারম্যান শ্রী পিন্টু মাহাত, রিষড়া পৌরসভার চেয়ারম্যান বিজয়সাগর মিত্র প্রমুখ। সারা জেলা থেকে ১৭ টি পূজো কমিটি অংশগ্রহণ করে। শুধু পূজা প্রতিমা ই নয় বিভিন্ন পৌরসভার উদ্যোগে সুসজ্জিত ট্যাবলো ছিলো। পূজো কমিটি গুলির পক্ষে নৃত্যশিল্পী রা দুর্গার সাজে নৃত্য পরিবেশন করেন। হরিপাল থেকে আদিবাসী নৃত্যের টিম অংশগ্রহণ করেন। রায়বেশে, ছৌ, রণপা স...

৭০ হাজার কিউসেক জল ছাড়লো ডিভিসি বন্যা পরিস্থিতির সম্ভাবনা নিম্ন দামোদর উপত্যকায়

ছবি
৭০ হাজার কিউসেক জল  ছাড়লো ডিভিসি  বন্যা পরিস্থিতির সম্ভাবনা  নিম্ন দামোদর উপত্যকায় ভারতের কণ্ঠ ব্যুরো :  প্রবল বৃষ্টির জেরে জল ছাড়তে চলেছে ডি ভি সি। পাঞ্চেত ও মাইথন ড্যাম্ব থেকে ৬৯ হাজার ৪২৫ কিউসেক জল ছাড়া হয়েছে বলে খবর। যার জেরে পূজোর পরে বন্যা পরিস্থিতি তৈরী হয়েছে নিম্ন দামোদর অববাহিকায়। পশ্চিমবঙ্গ মেদিনীপুরের ঘাটাল, হুগলীর আরামবাগ ও খানাকুলে নদী ও খাল গুলিতে জল বেড়েছে বলে খবর। খানাকুলের বাসিন্দা পল্লব মৈত্র জানান নদী গুলি বিপদসীমার কাছ দিয়ে বইছে কি হবে এখনই বলতে পারছি না।

ফ্লোটিলার আলো আর মানুষের জেগে থাকা

ছবি
ফ্লোটিলার আলো  আর মানুষের  জেগে থাকা অয়ন মুখোপাধ্যায় পৃথিবীর ইতিহাসে এমন মুহূর্ত অনেকবার এসেছে, যখন অচেনা মানুষ একে অপরের জন্য দাঁড়িয়েছে। কোনও ভূখণ্ডের সীমান্তের মধ্যে আটকে না থেকে, কোনও জাতীয়তাবাদী গর্বে না ভেসে গিয়ে, তারা দাঁড়িয়েছে কেবল মানুষ হিসেবেই। আজ যখন আমরা ভাবছি, আদর্শ বলে কিছু বাকি নেই, স্বপ্ন বলে কিছু নেই, প্রত্যেক মানুষ শুধু নিজের মুনাফা গোনে, নিজের আরামের ঘেরাটোপে লুকিয়ে থাকে—ঠিক সেই সময়ে সমুদ্রের বুকে ভেসে উঠেছে এক অভাবনীয় দৃশ্য। ফ্লোটিলা। এটা কোনও বাণিজ্যিক বহর নয়, কোনও রাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীও নয়। প্রায় ৪৪টি দেশের পাঁচ শতাধিক মানুষ একসাথে সমুদ্রযাত্রায় নেমেছেন। লক্ষ্য একটাই—ফিলিস্তিনিদের পাশে দাঁড়ানো। গাজার রক্তাক্ত মাটির জন্য, শ্বাসরুদ্ধ মানুষের জীবনের জন্য, স্বাধীনতার ডাকের জন্য তারা পাড়ি দিয়েছে এক অনিশ্চিত সমুদ্রপথে। ভেসে চলেছে বারোটি জাহাজে, ঝড়ের ভয় উপেক্ষা করে। সেই যাত্রার সঙ্গী হয়েছে ডলফিনের দলও। প্রকৃতিও যেন এই স্বপ্নযাত্রার অংশীদার। কিন্তু বাস্তব কতটা নিষ্ঠুর। গভীর রাতে ইজরায়েলি নৌসেনা থাবা বসিয়েছে। বাজেয়াপ্ত করেছে বারোটি জাহাজ। ...

দশমীতেই শেষ নয় একাদশীতে নয়া রুপে দূর্গোৎসব জলপাইগুড়ি ও শিলিগুড়িতে

ছবি
দশমীতেই  শেষ নয়  একাদশীতে  নয়া রুপে  দূর্গোৎসব   জলপাইগুড়ি  ও শিলিগুড়িতে  ভারতের কণ্ঠ ব্যুরো : আজ একাদশী হিসেব মতো দুর্গাপূজা শেষ মা জগদম্বা তার ধাম কৈলাসে ফিরে গেছেন দোলায় চড়ে। কিন্তু তাতে কি এই বাংলার বুকে এই একাদশী থেকেই শুরু অন্যরকম দুর্গাপূজা। আজ্ঞে হ্যাঁ ঠিক ই শুনছেন। তিস্তার তীরে জলপাইগুড়ি তে দেবী দূর্গার আরাধনা হয় এই একাদশী তিথি থেকে। দেবীর নাম এখানে বন্ধনী। আজকের কথা নয় বিগত ৫০০ বছর ধরে ময়নাগুড়ি ও জলপাইগুড়িতে এই পূজা হয়ে আসছে।  স্থানীয় বিশ্বাস বিজয়া দশমীর দিন মা দূর্গা কৈলাসে যাওয়ার আগে বিশ্রাম নেবার জন্য নেমেছিলেন তিস্তার পাড়ে। পশুপালক দের সঙ্গে তিনি ছিলেন এই এলাকায়। দেবীর ভোগ হিসেবে স্থানীয় পশুপালক রা ছাগল, পায়রা বলি দিতেন। বন্ধনীর পূজোর পর দেবী কৈলাসে চলে যান। দেবীর যাওয়ার পর প্রকৃতি ফসলে নাকি ভরে ওঠে। তাই স্থানীয় বিশ্বাসে বন্ধনীর পূজো হয় জলপাইগুড়িতে। উত্তরবঙ্গের রাজবংশী সম্প্রদায় বন দূর্গা দেবী হিসেবে মহামায়ার পূজা করেন। 

মণিপুরে ৫৪ কোটির মাদক উদ্ধার করলো নারকোটিক্স কন্ট্রোল ব্যুরো ও আসাম রাইফেলস

ছবি
মণিপুরে  ৫৪ কোটির  মাদক উদ্ধার  করলো  নারকোটিক্স  কন্ট্রোল ব্যুরো  ও  আসাম রাইফেলস ভারতের কণ্ঠ ব্যুরো : আসাম রাইফেলস ও এন সি বি র যৌথ তৎপরতায় আজ ধরা পড়লো প্রায় ৫৪ কোটি টাকার মাদক। মনিপুর রাজ্যের চান্দেল জেলা থেকে এই বিপুল পরিমান মাদক উদ্ধার হয়েছে। ভারতীয় সেনা সূত্রে খবর বিশেষ ইন্টেলিজেন্ট ইনপুট সূত্রে খবর পেয়ে আমরা মাদক বিরোধী অপারেশন শুরু করেছিলাম। তরিঘড়ি সমস্ত চেকপোষ্টে মোবাইল ভেহিকেল চেক পয়েন্ট তৈরী করা হয়েছিলো চান্দেল জেলার বালায়। ভারত মায়ানমার বর্ডারের কাছে এই চেকপয়েন্ট করা হয়েছিলো।  নজরদারির সময় একটি সাদা জিপসি গাড়ি ও একটি মোটরবাইক চেকপয়েন্ট থেকে কিছু দূরে দাঁড়িয়ে পড়ে। অস্বাভাবিক লাগায় নিরাপত্তা বাহিনীর জওয়ান রা গাড়ি চেক করতে এগিয়ে যান। ততক্ষনে অবশ্য যারা এসেছিলো গাড়ি চালিয়ে তারা চম্পট দিয়েছে কাছের জঙ্গলে। ঐ সাদা জিপসি গাড়ি থেকেই মাদক উদ্ধার হয়েছে।

বিজয়ার কথা 🔴 বিজয়ার গল্প

ছবি
বিজয়ার কথা  🔴  বিজয়ার গল্প শুভ্রজ্যোতি মজুমদার ভারতের কণ্ঠ ব্যুরো : আমার ছেলেবেলা থেকেই বিজয়া দিনটায় মন খারাপ করতাম। আগে থাকতাম গঙ্গার ধারে। বাড়ির ছাদ থেকে দেখা যেতো প্রশস্ত মাঠ মাঠ পেরোলেই গঙ্গা। ছাদে উঠে দেখতাম প্রতিমার সারি একে একে ঘাট পেরিয়ে গঙ্গার জলে মিলিয়ে যেতো। ছাদের এক কোণে বসে মন খারাপ করতাম।  আমার বাড়ির সামনে বারোয়ারি দুর্গাপুজো হত। কাছেই গঙ্গার ঘাট তাই গভীর রাতে ঠাকুর জলে পড়তো। আর গান ও ঢাকের তালে আত্মবিস্মৃত নাচ আমাদের পাড়ার বৈশিষ্ট্য ছিলো। পূজোর অন্যদিন গুলিতে সমকালীন গান বাজানো হলেও দশমীর দিন কুমার শানু আর কিশোর কুমার ছিলো মাস্ট।  ঠাকুর জলে পড়ার পর আমাদের রীতি আছে বাড়ির বড়দের প্রণাম করার। ঠাকুমা বেঁচে থাকতে ঠাকুমা পিসি ঠাকুমা কে নমস্কার করে বিজয়া সারা হত। ঠাকুমা মারা যাবার পর পিসি ঠাকুমা কে প্রণাম করতাম। আগে বাবা তারপর আমি। বাড়িতে বিশেষ কিছু আয়োজন হতোনা তবে ঢাকীদের জন্য কেজি খানেক মিহিদানা ছোট গজা আসতো। ঢাকীদের বিলোনোর পরে মিহিদানা বাঁচলে আমরা মুড়ি দিয়ে বা এমনি খেয়ে ফুরিয়ে ফেলতাম। আমি ছেলেবেলা থেকে অম্বল দুর্বল লিভারের জন্য সমস্যায় ভুগি। তাই অম্বল নিয়...