বিজয়ার কথা 🔴 বিজয়ার গল্প
বিজয়ার কথা
🔴
বিজয়ার গল্প
শুভ্রজ্যোতি মজুমদার
ভারতের কণ্ঠ ব্যুরো : আমার ছেলেবেলা থেকেই বিজয়া দিনটায় মন খারাপ করতাম। আগে থাকতাম গঙ্গার ধারে। বাড়ির ছাদ থেকে দেখা যেতো প্রশস্ত মাঠ মাঠ পেরোলেই গঙ্গা। ছাদে উঠে দেখতাম প্রতিমার সারি একে একে ঘাট পেরিয়ে গঙ্গার জলে মিলিয়ে যেতো। ছাদের এক কোণে বসে মন খারাপ করতাম।
আমার বাড়ির সামনে বারোয়ারি দুর্গাপুজো হত। কাছেই গঙ্গার ঘাট তাই গভীর রাতে ঠাকুর জলে পড়তো। আর গান ও ঢাকের তালে আত্মবিস্মৃত নাচ আমাদের পাড়ার বৈশিষ্ট্য ছিলো। পূজোর অন্যদিন গুলিতে সমকালীন গান বাজানো হলেও দশমীর দিন কুমার শানু আর কিশোর কুমার ছিলো মাস্ট।
ঠাকুর জলে পড়ার পর আমাদের রীতি আছে বাড়ির বড়দের প্রণাম করার। ঠাকুমা বেঁচে থাকতে ঠাকুমা পিসি ঠাকুমা কে নমস্কার করে বিজয়া সারা হত। ঠাকুমা মারা যাবার পর পিসি ঠাকুমা কে প্রণাম করতাম। আগে বাবা তারপর আমি। বাড়িতে বিশেষ কিছু আয়োজন হতোনা তবে ঢাকীদের জন্য কেজি খানেক মিহিদানা ছোট গজা আসতো। ঢাকীদের বিলোনোর পরে মিহিদানা বাঁচলে আমরা মুড়ি দিয়ে বা এমনি খেয়ে ফুরিয়ে ফেলতাম। আমি ছেলেবেলা থেকে অম্বল দুর্বল লিভারের জন্য সমস্যায় ভুগি। তাই অম্বল নিয়ে বিড়ম্বনায় পড়তাম। বাড়িতে কেউ বিজয়া সারতে এলে সিঙ্গারা ও রসগোল্লা আসতো। বিশেষ কেউ এলে কুমোরপাড়া বা নিমাইতীর্থ ঘাটের কাছে ভেজিটেবল চপ বিক্রি হত। সেগুলোই আনা হত। আগে টিফিন কৌটো করে মিহিদানা গজা ও মিষ্টি, মানে নারকোল ছাপা ও গুড় দিয়ে বানানো নাড়ু পাঠানো হত। খেয়ে আনন্দ করতাম। একটা একটা করে সময় গেছে এখন পূজো নিয়ে সেরকম আবেগ কেন জানিনা উপলব্ধি করিনা। বাড়ি বদলেছি জীবনের অনেকটা পথ এগিয়েছি কিন্তু জীবনের আনন্দের মুহুর্তগুলো ছেলেবেলায় যেন ফেলে এসেছি। মহামায়ার পূজোর সারমর্মই বোধহয় এটাই জীবনে লোভ মায়া ত্যাগ করতে হয়। শুভ বিজয়া সকলকে, সারা বছর ভালো কাটুক সকলের। ভারতের কণ্ঠের সম্পাদক হিসেবে ভারতের কণ্ঠের পক্ষ থেকে সকলকে জানাই বিজয়ার প্রীতি ও শুভেচ্ছা।
style="text-align: justify;">






মন্তব্যসমূহ