অনুগল্প- "খিদে!"

অনুগল্প- "খিদে!"

শুভ্রজ্যোতি মজুমদার



নবমী র মধ্যরাত। দেবীর বিদায়ের আগের কয়েক ঘন্টা আগের অন্তিম মধ্যযাম। এই সময়টা ছেলেবেলা থেকেই অস্থির হত ছেলেটা। শোনা যায় নয়ের দশকের প্রথমদিক কাটোয়ার কাছে গঙ্গার ধারে একটা গ্রামের শ্মশানে অচৈতন্য হয়ে পড়ে ছিলো ছেলেটা। সেদিনেও ছিলো নবমী। হারিকাঠ চকচকে চন্দ্রহাস খড়্গ সব ই তৈরী ছিলো। কিন্তু সেই রাতের অন্ধকার অন্য কিছু পরিকল্পনা করেছিল। তান্ত্রিক চেয়েছিলেন অমর হতে। এক সিঁদুর লেপা প্রস্তর খন্ড আর পঞ্চমুন্ডির আসনের সামনে হাড়িকাঠ পেতে বলির জন্য তৈরী ও ছিলেন। বিড় বিড় করে মন্ত্র পড়ছিলেন তিনি। আর সামনে জ্বলা আগুনে আহুতি দিচ্ছিলেন অল্প অল্প সামগ্রী। 

গাছপালা ঘেরা নির্জন শ্মশান। সকালেই লোকে ভয়ে এদিক মাড়ায় না। রাতে তো কোন ছাড়। আর অজ গ্রামে রাতে তেমন মড়া পোড়ানো হয়না। সেদিনেও তেমন কেউ শ্মশানে যায়নি। নিঝুম রাতে চারিদিক কিরকম যেন থমথমে। যেন পিন পড়লেও কানের পর্দা ফেটে যাবে। এমন শান্ত আবহাওয়ায় হঠাৎ পরিবর্তন শুরু হল। তান্ত্রিক হাতে খাঁড়া হাতে রেডি। মাথা টা আলাদা করতে যেই যাবে! চোখ বুজে ফেলে ছেলেটা অস্ফুট শব্দে বিড়বিড় করে ওফ বীভৎস! 

এই সব দৃশ্য চোখের সামনে ঘোরাফেরা করছিলো ছেলেটার। এখনো ছেলেটির মনে হয় একটা অত্যন্ত অন্ধকার ছায়া আর জ্বলজ্বলে চোখ তার পিছু নেয়। কেউ যেন কানে কানে বলে -"কি রে আমার খিদে মেটাবি না? বড্ড খিদে পেয়েছে। আর আমাকে থামাতে পারবি না।"

এদিনও ছেলেটি জানলার সামনে আড়স্ট হয়ে দাঁড়িয়েছিলো। আজ ও দলাপাকানো রক্তশূন্য লাশ পড়ে ছিলো ঘরে। চোখগুলো নিথর হয়ে চেয়েছিলো জানলার দিকে। লাশটি ঠিক তেমন ভাবেই দলাপাকানো রক্তশূন্য হয়ে পড়ে ছিলো। যেমন সেদিন দলা পাকিয়ে গিয়েছিলো তান্ত্রিকের শরীর। 









 






style="text-align: justify;">





মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

জালিয়াতি করে চলছে রেস্টুরেন্ট দোকানের মালিকের অভিযোগে বাতিল জাল ট্রেড লাইসেন্স

চন্দননগর ইস্পাত সংঘে চলছে টি সি এস এ চাকরির ট্রেনিং

বৈদ্যবাটী সীতারাম বাগানে দম্পতির রক্তাক্ত দে উদ্ধার