পোস্টগুলি

নিছকই একটা গল্প! না অন্য কিছু?

ছবি
নিছকই একটা গল্প!  না অন্য কিছু? সীতাংশু মজুমদার  ভোর রাতে হঠাৎ বৃষ্টি এলো। জানলা দিয়ে শীতল বাতাস ঘরে প্রবেশ করেছে। দেবাংশু খোলা জানালা দিয়ে ঘুম কাতর চোখে বিদ্যুৎ এর ঝলকানি দেখলো। মেঘের গর্জন শুনতে শুনতে পুনরায় ঘুমিয়ে পড়লো। ঘুম ভাঙলো, ফোন এর বেলের শব্দে। অনিচ্ছা সত্বেও দেবাংশু কে বিছানা র মায়া ত্যাগ করতে হোল। মাথাটা ধরেছে, গত রাতে বড্ড বেশি খাওয়া হয়ে গেছে। দেবাংশু ফোনের কাছে গেলো ফোন তুলে হ্যালো বলার সাথে সাথে ওপারে নারী কন্ঠ। রিসিভারের ওপার থেকে: আমি বলছি! দেবা: আমি কে? ওপার থেকে: চিনতে পারছো না? না চিনতে চাইছো না?  দেবাংশু উত্তর দেওয়ার জন্য কিছুক্ষণ সময় নিলো তারপর বললো, সত্যি আমি আপনাকে চিনতে পারছি না। ফোনের ওপার: আমি পরমা দেবাংশু পরমার মুখটা মনে করলো। এতদিন বাদে পরমা! কি মনে করে? বিস্মিত হয়ে দেবাংশু জিজ্ঞেসা করলো, কি ব্যাপার? ফোনের ওপার: তিন দিন আগে শনিবার রাত্রি ১১টা য় গৌতম মারা গেছে। মারা যাওয়ার আগে সে তোমার নামটা করেছে। দেবাংশু : তুমি কি সেই জন্য আমাকে ফোন করলে?  ওপার থেকে: খুব আস্তে উত্তর এলো, না! আমি তোমার সাথে দেখা করতে চাই দেবু। আমি বড় একা হয়ে ...

বুজরুক

ছবি
   বুজরুক                                    বৈদ্যনাথ পাল      🔴  ফেরিঘাট থেকে বেশ কিছুটা দূরে বেড়াকলমির জঙ্গল কেটে দরমার বেড়া দিয়ে মাথা গোঁজার ডেরাটা কোনোমতে খাড়া করেছে নিলয় শাস্ত্রী। বর্ষায় নদী যখন উত্তাল হয় তখন জায়গাটায় খুচখাচ ভাঙন ধরলেও এই ভাঙনধরা নদীতীর-ই মধ্যতিরিশের নিলয় শাস্ত্রীর জীবনের ভাঙন অনেকটাই রুখে দিয়েছে। জায়গাটা জনমানবহীন হওয়ায় বেশ নিরুপদ্রব। নিলয় শাস্ত্রীর লুকোছাপা জীবন তাই এখানে ষোলো আনা ছাপিয়ে সাড়ে ষোলো আনা খাপ খায়।         নিলয় শাস্ত্রী এর আগে প্রায় পাঁচ বছর কালীঘাটে তার গুরু প্রণবানন্দ শাস্ত্রীর খিদমতগারি করেছে। বাবা প্রণবানন্দ শাস্ত্রী নিজেকে বলতেন কামাখ্যাসিদ্ধ তান্ত্রিক -জ্যোতিষী। এহেন বাবার প্রসাদগুণে নিলয় শাস্ত্রী জ্যোতিষীর জীবন -জীবিকায় এক কদম এগিয়েই ছিল। এই কালীঘাটে থাকার সময় চুল-দাড়ি-গোঁফ কাটতে নিলয় শাস্ত্রী কখনো এক পয়সাও খরচ করেনি। পাঁচ বছরের মতো সুদীর্ঘ সময়ে তার চুল -দাড়ি-গোঁফ তেলে -জলে বেড...

কর্মসংস্থান ও সামাজিক সুরক্ষায় বিশেষ উদ্যোগী সেন্ট্রাল ব্যাঙ্ক

ছবি
 কর্মসংস্থান ও সামাজিক  সুরক্ষায় বিশেষ  উদ্যোগী সেন্ট্রাল ব্যাঙ্ক প্রতিবেদক শুভ্র মুখোপাধ্যায় কলকাতা: সামাজিক আর্থিক সুরক্ষা এবং স্বাস্থ্যগত পরিকাঠামো উন্নয়নের লক্ষ্যে সেন্ট্রাল ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার বড় উদ্যোগ। এই অনুষ্ঠানে ক্ষুদ্র, মাঝারিমানের শিল্পের জন্য ঋণ প্রকল্প গৃহিত হয়েছে। মোট ৩০০ কোটি টাকার ঋণ গৃহিত হয়। অনুষ্ঠানে হাজির ছিলেন ব্যাঙ্কের কর্পোরেট মুম্বই শাখার জিএম পি অনুপ কুমার, কলকাতা শাখার জোনাল হেড তারসেম সিং জিরা, কলকাতা (দক্ষিণ) আঞ্চলিক অধিকর্তা উজ্জ্বল কুমার চন্দ্র, কলকাতা (উত্তর) আঞ্চলিক ম্যানেজার সুনীল কুমার প্রমুখ। দেশে সামাজিক সচেতনতা ও কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে বিভিন্ন শিল্প গড়ে তোলার লক্ষ্যেই সেন্ট্রাল ব্যাঙ্কের (কলকাতা প্রধান শাখা) এই প্রয়াস। কোনও সংস্থা হাসপাতাল কিংবা নার্সিংহোম গড়ে সেখানে কর্মী নিয়োগ করতে চায়। মোট ১০০ জন প্রতিনিধি হাজির ছিলেন ব্যাঙ্কের প্রধান কার্যালয়ে। মোট ৩০০ কোটি টাকার ঋণ দেওয়া হয়েছে বিভিন্ন শিল্প সংস্থাকে।  এই অনুষ্ঠানে ব্যাঙ্কের আঞ্চলিক অধিকর্তা উজ্জ্বল কুমার চন্দ্র ছাড়াও কর্পোরেট ম্যানেজার পি অনুপ কুমার জানান, ‘‘সামাজিক উন্নয়নের ...

ভাঙড়ের কাঠালিয়ায় সিটি অফ জয় ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে প্রেজেন্টেশন শেখাতে কর্মশালা

ছবি
 ভাঙড়ের কাঠালিয়ায় সিটি  অফ জয় ইন্টারন্যাশনাল  স্কুলে প্রেজেন্টেশন  শেখাতে কর্মশালা পুলক চক্রবর্তী, ,ভাঙড়, ১৭ই নভেম্বর: ভাঙড়ের পূর্ব কাঠালিয়ায় সিটি অফ জয় ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে সোমবার সারাদিনব্যাপী এক অনন্য কর্মশালার আয়োজন করা হল। দক্ষিণ 24 পরগনা জেলার বিভিন্ন প্রত্যন্ত এলাকার স্কুল থেকে আসা ছাত্রছাত্রীরা অংশ নেয় এই কর্মশালায়। মূল লক্ষ্য—বাচ্চাদের প্রেজেন্টেশন তৈরির কৌশল শেখানো, স্পষ্টভাবে কথা বলা এবং নিজের ভাবনা যথাযথভাবে প্রকাশ করার দক্ষতা গড়ে তোলা।স্কুলের পক্ষ থেকে শিক্ষক বুলবুল হোসেন জানালেন, “শিক্ষার্থীরা যেন যোগাযোগ রক্ষার দক্ষতা বাড়াতে পারে, নিজেদের মতামত আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে উপস্থাপন করতে শিখতে পারে—এই উদ্দেশ্য নিয়ে এমন কর্মশালার আয়োজন।”দিনভর কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সুন্দরবন শিস (সাউদার্ন হেল্থ ইমপ্রুভমেন্ট সোসাইটি)-এর ডিরেক্টর, এডভোকেট ও বঙ্গভূষণ এম. এ. ওয়াহাব, রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সুদীপ্ত ভট্টাচার্য, শিসের প্রেসিডেন্ট সাবিত্রী পাল, কিশোর ভারতী স্কুলের প্রধান শিক্ষক পলাশ গাঙ্গুলি, শিক্ষিকা ইয়াসমিন বানু, শিক...

SIR: নাগরিকত্বের আতঙ্ক ও রাজনৈতিক কৌতূহলের নতুন ভূগোল

ছবি
 SIR: নাগরিকত্বের আতঙ্ক  ও রাজনৈতিক  কৌতূহলের নতুন ভূগোল অয়ন মুখোপাধ্যায় ভারতীয় রাজনীতির বর্তমান পরিস্থিতিতে SIR এমন এক দস্তাবেজ, যা প্রশাসনিক পরিসীমা ছাড়িয়ে মানুষের মানসিক জগতে পৌঁছে গেছে। মাঠপর্যায়ের অফিসাদের পর্যবেক্ষণ—নিরাপত্তা, উত্তেজনা, জনমত, জনসংখ্যা স্থানান্তর—এসবের ওপর ভিত্তি করে তৈরি হলেও, আজ এটি রাজনৈতিক কৌশল, দলীয় প্রচার এবং মিডিয়া উত্তেজনার কেন্দ্রে পরিণত। আগে যেসব তদারকি রিপোর্ট নিঃশব্দে তৈরি হতো, সেগুলো আজ আর নিঃশব্দ নেই। চায়ের দোকানের সাধারণ আলোচনাই দেখিয়ে দেয় কত দ্রুত SIR মানুষের কথোপকথনে ঢুকে পড়েছে। “আমাদের ব্লকে নাকি অনেক মানুষের নাম বাদ গেছে”—এই একটি বাক্যের মধ্যেই আছে সন্দেহ, ভয় এবং রাজনৈতিক উত্তেজনা। কেউ বলে—“কালই আমাদের নামগুলো তুলতে হবে।” কেউ বলে—“SIR মানেই তো সন্দেহ।” একটি প্রশাসনিক রিপোর্ট আজ কাগজের বাইরে ছড়িয়ে গিয়ে মানুষের আচরণ ও মানসিকতা পর্যন্ত প্রভাবিত করছে। তাই SIR এখন নথি নয়—এটি রাজ নৈতিক অনুভূতির প্রতীক। নাগরিকত্ব হারানোর ভয়: নতুন যুগের মনস্তাত্ত্বিক বাস্তবতা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নথি নির্ভর নাগরিকত্ব রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্র...
ছবি
 শারদীয়া চ্যারিটেবল  ট্রাস্টের স্বেচ্ছায়  রক্তদান উৎসব “একের রক্ত অন্যের জীবন,  রক্তই হোক আত্মার বাঁধন” কলকাতা, ১৯ অক্টোবর: সাংবাদ দাতা: শুভ্র মুখোপাধ্যায় শারদীয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট, যা গত ১৩ বছর ধরে সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষের কল্যাণে বিভিন্ন সেবামূলক কাজ করে চলেছে, তাদের বার্ষিক স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচির দ্বিতীয় পর্বটি সফলভাবে সম্পন্ন করেছে। চেতলা হিন্দ সংঘ ও শারদীয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই রক্তদান শিবিরটি অনুষ্ঠিত হয় ১৯শে অক্টোবর (রবিবার), চেতলা হিন্দ সংঘ প্রাঙ্গণে। “একের রক্ত অন্যের জীবন, রক্তই হোক আত্মার বাঁধন”— এই মূল ভাবনাকে সামনে রেখে আয়োজিত দ্বাদশ বর্ষের এই রক্তদান উৎসবে প্রায় চল্লিশজন রক্তদাতা স্বেচ্ছায় রক্তদান করেন। বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য যে, এ বছর রক্তদাতাদের মধ্যে নারীদের অংশগ্রহণ ছিল প্রশংসনীয় ও উৎসাহব্যঞ্জক। শারদীয়ার পক্ষ থেকে সৌমন কুমার সাহা সকল রক্তদাতা ও সহযোগী সদস্যদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, “আড়ম্বর বা উপহার ছাড়াই, শুধু মুমূর্ষু মানুষের পাশে দাঁড়ানোর অঙ্গীকার নিয়েই আমরা বছরের পর বছর এই রক্তদান উৎসবের আ...

সামাজিক মূল্যবোধ নির্মাণে ভারতীয় শাস্ত্রের ভূমিকা বিষয়ে আলোচনাসভা

ছবি
সামাজিক মূল্যবোধ নির্মাণে  ভারতীয় শাস্ত্রের ভূমিকা  বিষয়ে আলোচনাসভা আজ,১৪ই কার্ত্তিক, ১৪৩২(০১|১১|২০২৫), শনিবার, বিকালে পশ্চিমবঙ্গের স্মরণীয় সংস্কৃত ভাষা-চর্চ্চাকারী পণ্ডিত রামগোপাল স্মৃতিরত্নের নামাঙ্কিত মঞ্চে,পি-১৪,বিপ্লবী হরেন্দ্র ঘোষ সরণী,হাওড়া-১ ঠিকানায় "সামাজিক মূল্যবোধ নির্মাণে ভারতীয় শাস্ত্রের ভূমিকা" শীর্ষক আলোচনার আয়োজন করল হাওড়া সংস্কৃত সাহিত্য সমাজ। প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা-প্রাক্তন সম্পাদক প্রয়াত পণ্ডিত নিত্যানন্দ মুখোপাধ্যায়ের স্মরণে আয়োজিত এই আলোচনার মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনের অন্যতম বিশিষ্ট সদস্য স্বামী শাস্ত্রজ্ঞানন্দ মহারাজ। তিনি তাঁর প্রাঞ্জল বক্তব্যে সনাতন ধর্ম্মশাস্ত্রের সূচনা থেকে ধীরে ধীরে মূল্যবোধের বিবর্ত্তন বিষয় সবিশেষ উপস্থাপন করেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন অধ্যাপিকা ড.রত্না বসু। সমাজের বর্ত্তমান সম্পাদক ড.দেবব্রত মুখোপাধ্যায়ের সঞ্চালনায় মঞ্চস্থ এই অনুষ্ঠানের শেষপর্য্যায়ে বিভিন্ন স্তরের সঙ্গীতানুষ্ঠান পরিবেশিত হয়। অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে নিখিলবঙ্গ সংস্কৃত সেবি সমিতির প্রাক্তন সাধারণ ...