হাওড়া–ডানকুনি হয়ে সোজা ব্যান্ডেল, শেওড়াফুলি হয়ে তারকেশ্বর হুগলী জেলায় মেট্রোর প্রসার —এটাই সময়ের দাবি

 হাওড়া–ডানকুনি হয়ে 

সোজা ব্যান্ডেল,

শেওড়াফুলি হয়ে তারকেশ্বর

হুগলী জেলায় মেট্রোর প্রসার

—এটাই সময়ের দাবি

অয়ন মুখোপাধ্যায় 



মেট্রো এখন আর শুধু কলকাতার ভেতরের পরিবহণ নয়, এটি গোটা মহানগর ও তার উপকণ্ঠের প্রাণরেখা। হাওড়া পর্যন্ত মেট্রো পৌঁছেছে, নদীর তল দিয়ে টানেল হয়েছে—এ এক অভাবনীয় সাফল্য। অথচ একই নদীর ওপারে দাঁড়ানো হুগলি জেলার মানুষ এখনও বঞ্চিত। প্রশ্ন তাই স্বাভাবিক—হুগলিকে কেন উপেক্ষা করা হচ্ছে?

হুগলি এমন একটি জেলা যার চরিত্র দ্বিমুখী—একদিকে ইতিহাসের গৌরব, অন্যদিকে শিল্পাঞ্চলের কোলাহল। শ্রীরামপুর, চন্দননগর, চুঁচুড়া, উত্তরপাড়া, কোন্নগর, রিষড়া, শেওড়াফুলি—এই নামগুলো শুধু শহরের নাম নয়, এরা এক একটি জনবহুল কেন্দ্র যেখানে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ কর্মসংস্থানের টানে কলকাতা ও হাওড়ায় যাতায়াত করেন। ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ট্রেনের ভিড় আর বাসের ঠাসাঠাসি তাদের নিত্যদিনের অভ্যাস হয়ে দাঁড়িয়েছে। অথচ এই ভিড়ের চাপ কমানো বা যাতায়াতকে মানবিক করার ক্ষেত্রে মেট্রোই সবচেয়ে কার্যকর সমাধান।

দক্ষিণেশ্বর ছাড়াও বিকল্প, হাওড়া–ডানকুনি করিডর

দক্ষিণেশ্বর পর্যন্ত মেট্রো আছে কিন্তু বাস্তবে তা যথেষ্ট নয়। হুগলির প্রকৃত চাহিদা পূরণ করতে গেলে মেট্রোকে হাওড়া ময়দান থেকে ডানকুনি পর্যন্ত প্রসারিত করতেই হবে। এই রুটে এলে—

উত্তরপাড়া থেকে চন্দননগর পর্যন্ত প্রতিটি শহর মেট্রোর আওতায় আসবে।

ডানকুনি হবে এক নতুন সংযোগকেন্দ্র—যেখানে রেল, সড়ক ও মেট্রো মিলিয়ে তৈরি হবে পূর্ব ভারতের অন্যতম বড় ট্রান্সপোর্ট হাব।

শিল্পাঞ্চল নতুন প্রাণ পাবে; কর্মসংস্থানের ক্ষেত্র প্রসারিত হবে।

যাত্রীদের যাতায়াতের চাপ লাঘব হবে, লোকাল ট্রেনের উপর নির্ভরতা কমবে। ডানকুনি উত্তরপাড়া হয়ে সোজা ব্যান্ডেল। এদিকে শেওড়াফুলি হয়ে সোজা তারকেশ্বর। এই রুটে মেট্রো হোক চাইছেন হুগলী জেলার মানুষ। কারণ তাতে রাস্তায় যানজট অনেকটাই কমবে। সময় লাঘব হবে বিপুল সংখ্যাধিক মানুষের। কলকাতা ঘেঁষা হওয়ায় হুগলী জেলার জনসংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। সবাই নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে ট্রেনের ওপর। কিন্তু ট্রেন ছাড়াও আরামে কম সময়ে যাওয়ার মাধ্যম হয়ে উঠেছে মেট্রো। কলকাতার সাথে শহরতলির যোগসূত্র বাড়াতে সেই মেট্রোর সম্প্রসারণ জরুরী হুগলী জেলায়। 

সামাজিক ও অর্থনৈতিক যুক্তি

একটি উন্নত শহর শুধু আকাশছোঁয়া অট্টালিকা বা শিল্পাঞ্চল দিয়ে গড়ে ওঠে না, তার সঙ্গে প্রয়োজন মানুষের সহজ যাতায়াতের সুযোগ। যদি প্রতিদিন কাজের জন্য বেরোতে হয় এবং ঘণ্টার পর ঘণ্টা নষ্ট হয়, তবে মানুষের উৎপাদনশীলতা কমে যায়, মানসিক চাপ বাড়ে। মেট্রো এই সমস্যার নিরসন করতে পারে। একইসঙ্গে পরিবেশবান্ধব যান হিসেবে এটি ধোঁয়া আর শব্দদূষণ কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

আজকের দিনে যখন জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে সারা পৃথিবীতে উদ্বেগ চলছে, তখন শহরের পরিবহনকে টেকসই করা ছাড়া আর কোনো পথ খোলা নেই। মেট্রো সেই টেকসই ভবিষ্যতের প্রতিশ্রুতি।

নীতিগত প্রশ্ন

হাওড়া পর্যন্ত মেট্রো সম্ভব হলে হুগলিতে কেন নয়? নদী পেরিয়ে টানেল তৈরি হয়েছে, প্রযুক্তির কোনো সীমাবদ্ধতা নেই। তাহলে সমস্যাটা কোথায়? যদি এটি রাজনৈতিক বা পরিকল্পনাগত অবহেলা হয়, তবে তা একেবারেই অগ্রহণযোগ্য। কারণ এখানে শুধু একটি প্রকল্পের প্রশ্ন নেই—এখানে লক্ষ লক্ষ মানুষের দৈনন্দিন জীবন, তাদের ভবিষ্যৎ, তাদের স্বাস্থ্য এবং তাদের অর্থনৈতিক নিরাপত্তার প্রশ্ন জড়িয়ে আছে।

উপসংহার

আজ তাই হুগলির দাবি স্পষ্ট এবং জোরালো—হুগলিতে মেট্রোর সম্প্রসারণ চাই।

এটি কোনো বিলাসিতা নয়, সময়ের অনিবার্য প্রয়োজন। সরকারের নীতি নির্ধারকদের উচিত এই কণ্ঠস্বর শোনা, বাস্তব সমস্যার গুরুত্ব বোঝা এবং অবিলম্বে হাওড়া–ডানকুনি রুটের পরিকল্পনা হাতে নেওয়া।

হুগলি ইতিহাসে একদিন বাংলার অর্থনীতির কেন্দ্র ছিল, আজও শিল্পাঞ্চলের প্রাণকেন্দ্র। যদি মেট্রো পৌঁছে যায় এখানে, তবে এই জেলার মানুষ নতুন করে স্বপ্ন দেখতে পারবে—একটি দ্রুত, সবুজ, মানবিক শহরাঞ্চলের স্বপ্ন।




এই রকম বিজ্ঞাপন দিতে

 যোগাযোগ করতে পারেন

 মূল্য মাত্র ৩০০ টাকা 






style="text-align: justify;">


মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

জালিয়াতি করে চলছে রেস্টুরেন্ট দোকানের মালিকের অভিযোগে বাতিল জাল ট্রেড লাইসেন্স

চন্দননগর ইস্পাত সংঘে চলছে টি সি এস এ চাকরির ট্রেনিং

বৈদ্যবাটী সীতারাম বাগানে দম্পতির রক্তাক্ত দে উদ্ধার