অনু গল্প খোঁজ
অনু গল্প খোঁজ অয়ন মুখোপাধ্যায় ট্রামটা ধীরে ধীরে এগোচ্ছিল কলেজ স্ট্রিটের ভিড়ের ভেতর দিয়ে। জানলার বাইরে বইয়ের দোকানগুলো পেছনে সরে যাচ্ছিল। সাদা-কালো অক্ষর ভেসে আসছিল চোখে, অথচ কোনো শব্দের মানে দাঁড় করাতে পারছিলাম না। মনে হচ্ছিল কোথাও যেন আগে এসেছি, কোথাও আগে বসেছি, কিন্তু তার নামটা মনে পড়ছে না। পাশের সিটে বসা লোকটা হঠাৎ মুখ ঘুরিয়ে জিজ্ঞেস করল, —“কোথায় নামবেন?” আমি মুখ খুলে কিছু বলার চেষ্টা করলাম। কিন্তু ঠোঁট দিয়ে বেরোল একেবারেই অন্য শব্দ। আমি নিজেই যেন চিনতে পারলাম না সেই উত্তর। লোকটা একটু অবাক হয়ে তাকাল, তারপর হাসল, আবার নিজের দিকে ফিরল। ট্রামটা কাঁপতে কাঁপতে এগোচ্ছিল। আমি পকেট থেকে টিকিট খুঁজতে গিয়ে বের করলাম একটা পুরনো কাগজ—চিঠি হবে হয়তো। অর্ধেক মুছে যাওয়া অক্ষর, কালি ছড়ানো। উপরের দিকটা কেটে ফেলা, ঠিকানাটুকু নেই। লিখেছিলাম কাকে? কবে? মনে নেই। শুধু দেখেই বুকের ভেতর কেমন হাহাকার উঠল। আজকাল তো চিঠি উঠে গেছে তাহলে এইসব পকেটে এলো কি করে। জানলার ধারে হেলান দিলাম। রাস্তার নামগুলো চোখে পড়ছিল— এমনকি বিদ্যাসাগর , কলেজ হেকে শ্যামবাজার পাঁচ মাথার মোড় সবকিছুই… পরিচিত, অথচ কোথাও যেন ...