বহুস্বরের শরৎচন্দ্র: পোস্টমডার্ন পাঠ ও হুগলির ভূগোল
বহুস্বরের শরৎচন্দ্র: পোস্টমডার্ন পাঠ ও হুগলির ভূগোল অয়ন মুখোপাধ্যায় শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় বাংলা সাহিত্যের এমন এক লেখক, যিনি পাঠকের আবেগে চিরকাল বেঁচে থাকবেন। তাঁর সাহিত্য কেবল প্রেম-বিরহের বর্ণনা নয়; এটি সামাজিক দলিল, নারীর প্রতিবাদের কণ্ঠস্বর, রাজনৈতিক প্রতিরোধ, আবার একইসঙ্গে ভূগোল ও কল্পনার মিলনও। আর এই ভূগোলের কেন্দ্রে রয়েছে তাঁর জন্মভূমি—হুগলি জেলা। পোস্টমডার্ন দৃষ্টিকোণ থেকে শরৎচন্দ্রকে নতুন করে পড়তে গেলে বোঝা যায়—তিনি বহুস্বরের লেখক, যাঁর টেক্সটে বাস্তব ও কল্পনা, স্থানীয়তা ও প্রতীক, ব্যক্তি ও সমাজ সব একসঙ্গে কাজ করে। ১৮৭৬ সালে হুগলির দেবানন্দপুর গ্রামে শরৎচন্দ্রের জন্ম। এই গ্রাম তাঁর সাহিত্যের প্রথম পাঠশালা। এখানকার দারিদ্র্য, নদীপারের জীবনের অনিশ্চয়তা, সমাজের বৈষম্য—সবই তাঁর উপন্যাসে প্রতিফলিত হয়েছে। শ্রীকান্ত উপন্যাস পড়লে আমরা দেবানন্দপুরকে শুধু ভৌগোলিক গ্রাম নয়, এক মানসিক ভূগোল হিসেবে পাই। শৈশব, ভ্রমণ, প্রেম-বিরহ ও সামাজিক টানাপোড়েন এখানে বহুস্বরের আখ্যান হয়ে ওঠে। দেবদাস আমাদের সামনে আনে তালসোনাপুর নামের এক গ্রাম, যা বাস্তব ও কল্পনার সংমিশ...