কূটনৈতিক ব্যর্থতা ঢাকতে কি নতুন বন্ধু খোঁজার পথে?

 "মেরেছো কলসির কানা

 তাবলে কি প্রেম দেবোনা?"

কূটনৈতিক ব্যর্থতা ঢাকতে কি

 নতুন বন্ধু খোঁজার পথে?




(মতামত লেখকের নিজস্ব পত্রিকা এই মতামতের জন্য কোনভাবে দায়ী নয়)



কালভৈরব 

"মেরেছো কলসির কানা তাবলে কি প্রেম দেবোনা?" এমন দৃশ্য দেখেও সুখ গো। এ যেন ঘোর শাক্ত ও বৈষ্ণবের মহামিলন। কালী কৃষ্ণ সবাকার। রাধাঅষ্টমী তে রাধাভাবে এমন প্রেম যে দেখবো ভাবতে কষ্ট হয়। না মহামানব নিয়ে আমি কিস্যু বলবো না। 

কিছু জিনিস মনে করবো। একটা উগ্র দক্ষিণপন্থী সরকার আর চীনের কমিউনিস্ট পার্টির মধ্যে কোন ভরত মিলাপ হচ্ছে না। এটা স্বার্থের সংযোগ। এটার প্রয়োজন হতোনা যদি ভারতের বর্তমান সরকার ও তাদের কূটনৈতিক উপদেষ্টা রা পঞ্চশীল ও জোট নিরপেক্ষ নীতিকে সমর্থন করতেন তো। আমেরিকার প্রতি পক্ষপাত করতে গিয়ে ভারতীয় কূটনীতি ব্যর্থতায় ডুবেছে। এটা অস্বীকার করার কোন উপায় নেই। 

তখন কেন্দ্রে দ্বিতীয় ইউ পি এ সরকার। তখন মসনদ থেকে ভাজপা মাইল খানেক দূরে। ২০০৭ থেকে ২০০৯ আমেরিকায় আবাসন শিল্পে মহামন্দা দেখা যায়। ব্যাপক ঋণ রিকোভারি করার ব্যর্থতা। ও ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাঙ্ক গুলিকে ঋণ দেওয়া রোধ করার জন্য মহামন্দা দেখা যায়। সারা বিশ্বের মতো বিচক্ষন প্রধানমন্ত্রী ও ভারতের একজন প্ৰখ্যাত অর্থনীতিবিদ মনমোহন সিং বুঝেছিলেন টাকা যদি শক্তিশালী না হয় তাহলে পশ্চিমী দুনিয়ায় হওয়া মহামন্দা থেকে ভারতীয় অর্থনীতি রক্ষা পাবেনা। ২০১২ সালের নভেম্বরে আর বি আই সার্ক ভুক্ত দেশ গুলির জন্য রিভাইসড করেন্সি সোয়াপ অ্যারেঞ্জমেন্ট শুরু করে। এর একটাই লক্ষ ছিলো শর্ট টার্ম ফরেন এক্সচেঞ্জ। একটাই লক্ষ্য ছিলো বিদেশের টাকা এক্সচেঞ্জ করা একটি নির্দিষ্ট রেটে। আবার ভবিষ্যতের জন্য একটি রেট ঠিক করে এক্সচেঞ্জ বজায় রাখা। ২৫০ বিলিয়ন ভারতীয় মুদ্রা বিনময়ের লক্ষমাত্রা স্থির হয়। মূলত আর্থিক মহামন্দা থেকে বাঁচার জন্য এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিল তৎকালীন কেন্দ্রীয় সরকার। একটু পিছিয়ে যাওয়া যাক ২০০৯ সালে থাইল্যান্ডে আশিয়ান সামিট হয়। প্রস্তাব করা হয় একক মুদ্রা যেটা এশিয়ার সব দেশে অবাধে চলবে। ১৯৯১ সালে ইউরোপিয়ন ইউনিয়ন ভুক্ত দেশগুলি ইউরো নামক একক করেন্সি ঘোষণা করে। চীনের তীব্র বিরোধী জাপান এই প্রস্তাব দিয়েছিলো। অদ্ভুত ব্যাপার চীন সেটা সমর্থন করেছিল। ২০০৩ সালে এই ভাজপার প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারী বাজপেয়ী এশিয়ার একটি একক মুদ্রা ব্যবস্থার পক্ষে জোর সওয়াল করেন। ক্রমশ সার্ক ভুক্ত দেশগুলিতে পর্যটন ক্ষেত্র ভারতীয় পর্যটক দের জন্য উন্মুক্ত করায় ভারতীয় মুদ্রার বিনিময় মূল্য বাড়তে থাকে এশিয়ায়। ২০১৪ সালে কেন্দ্রে কংগ্রেসের বিদায়ের পর নতুন সরকার এলেও দেশের বৈদেশিক আর্থিক নীতির খুব একটা বদল হয়নি। ফলে ক্রমশ ভারতের এশিয়া জুড়ে প্রাসঙ্গিকতা ও ভারতীয় টাকার শক্তি বাড়তে থাকে। সম্ভাবনা তৈরী হয় ভারতীয় টাকাই আগামী দিনে এশিয়ার একক মুদ্রা হিসেবে উঠে আসবে। সেক্ষেত্রে টাকার বিনিময় মূল্য ডলারের সমতুল্য বা ছাপিয়ে যেতে পারে। তখন থেকে ভারতীয় রাজনীতি তে সরাসরি হস্তক্ষেপ বাড়াতে শুরু করে আমেরিকা।

ইরান থেকে রাশিয়া পর্যন্ত গ্যাস পাইপ লাইন। বা বিভিন্ন ইকোনমিক করিডোর শঙ্কায় ফেলে দেয় আমেরিকা কে। মূলত কেন্দ্রে সরকার বদলের জন্য ভাজপার উত্থান। ভারতের উগ্র দক্ষিণপন্থী দলটি আমেরিকা ঘেঁষা। এটাই স্বাভাবিক ছিলো। আমেরিকা ভেবেছিলো বৃহৎ খরিদ্দারের বাজার ভারতে বাণিজ্য করার খোলা ছাড় পাবে আমেরিকা। কিন্তু বাঁধ সাধলো ভাজপা সরকারের গুজরাটি ব্যবসায়ী দের অগ্রাধিকার দেওয়ার নীতি। পরিষেবা ক্ষেত্র, বীমা, মিউচুয়াল ফান্ডস, প্রতিরক্ষা সবেতেই বিদেশী বিনিয়োগ চাইছিলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র র ব্যবসায়ী রা। টেলিকম ক্ষেত্রেও প্রবেশের চেষ্টা করছিলো তারা। ভার্জিন মোবাইল, হাচ এতকাল বাণিজ্য করেছে এদেশে কিন্তু ক্রমশ সরকারের নীতি বদলের জন্য তারা ব্যবসা গোটায় ভারত থেকে। 

বাইডেনের সময়ে বা ট্রাম্পের সময়ে চীন নিয়ে মার্কিন অস্বস্তির জন্য ভারত ও আমেরিকা কাছাকাছি এসেছিলো। কিন্তু বাঁধ সাধলো মিশাইল ডিফেন্স সিস্টেম রাশিয়ার থেকে কেনা নিয়ে। চীন নিয়ে আমেরিকার চীন চীনে ব্যাথা এতদিন ভারত সম্পর্কে আমেরিকাকে বিদ্বেষ মনোভাব পোষণ করা থেকে বাধা দিয়েছিলো। কিন্তু আমেরিকার কাছে কূটনীতিক বলিষ্ঠতার অভাব ক্রমশ আমেরিকা কে ভারতের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক চাপাতে ও ভয় দেখানোর সুযোগ করে দিয়েছে।

 ১৯৬১ সাল আমেরিকা ও সোভিয়েত ইউনিয়নের বিরোধ চরমে। বিশ্বযুদ্ধ হয় হয় এমন অবস্থা তখন ভারতের সভাপতিত্বে ১২০ টি দেশ সিদ্ধান্ত করে মার্কিন উদারনীতিবাদী শিবির বা সমাজতান্ত্রিক শিবিরে তারা যুক্ত হবেনা। কারণ একটাই কোন শিবিরের রোষে যাতে ধ্বংস বা যুদ্ধের খয়ক্ষতি যেন না পোয়াতে হয়। এই অবস্থান বজায় রেখে দুই শিবির থেকেই সুযোগ সুবিধে পাওয়া যেত। 

দীর্ঘ বহু দশক ধরে এই রণনীতি নিয়েই দেশ পরিচালিত হয়েছে কেন্দ্রে যেই সরকারে থাক কূটনৈতিক নীতি পরিবর্তন করেনি। কাশ্মীরে সন্ত্রাসবাদী হামলার পর সামরিক পদক্ষেপ সময়ের দাবী কিন্তু মাঝখান থেকে আমেরিকার হস্তক্ষেপ কে প্রকারান্তরে মেনে নিয়েই দুর্বলতা প্রকাশ হয়েছে ভারতীয় কূটনীতির। আমেরিকা পাকিস্তান কে মধ্যপ্রাচ্য ও চীনের মাঝে একটা বাফার জোন হিসেবে ব্যবহার করে। মার্কিন সামরিক ভাণ্ডারের একটা অংশ সম্ভবত পাকিস্তানে রয়েছে চীন যদি অপ্রতিরোদ্ধ হয়ে ওঠে তাকে যাতে রোখা যায়। আমেরিকা পাকিস্তানে লাদেন কে মেরেও পাকিস্তান কে সন্ত্রাসবাদী রাষ্ট্র হিসেবে ঘোষণা করেনি তার স্বার্থের জন্য। এই সোজা বিষয়টি ভারতীয় কূটনীতিক দের নজর এড়িয়ে গিয়েছিলো। 
এখন মার্কিন টারিফ অর্থাৎ শুল্ক যুদ্ধে এঁটে উঠতে চীন কে বন্ধু বানাতে মরিয়া মহানুভব। যাতে বিশ্বের বৃহত্তম গণতান্ত্রিক দেশের কুটনৈতিক দুর্বলতা ঢাকা যায়। কিন্তু চীন রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়া। মার্কিন বিরোধী শিবির ভুক্ত দেশ। এবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তার গুপ্তচর সংস্থা ভারত চীন নৈকট্যর জন্য পাক অধিকৃত কাশ্মীরে ভারত বিরোধী সন্ত্রাসবাদী দের মদত দেয়। বা পাকিস্তান ও মার্কিন গুপ্তচর দের সাহায্যে প্রক্সি ওয়ার পরিস্থিতি তৈরী হয় আমি অন্তত আশ্চর্য হবোনা। আসলে সর্ব ঘটের থুড়ি সব দোষের কারণ নেহেরু এই মানসিকতা দেশের সর্বনাশ ডেকে আনছে দেশের মহানুভব সেটা মানতে চাইছেন না।

bannerbanner




style="text-align: justify;">

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

জালিয়াতি করে চলছে রেস্টুরেন্ট দোকানের মালিকের অভিযোগে বাতিল জাল ট্রেড লাইসেন্স

চন্দননগর ইস্পাত সংঘে চলছে টি সি এস এ চাকরির ট্রেনিং

বৈদ্যবাটী সীতারাম বাগানে দম্পতির রক্তাক্ত দে উদ্ধার