মহানগরীর পাতালে মহাবিপদের বাস
মহানগরীর পাতালে
মহাবিপদের বাস
লেখকের বক্তব্য তার নিজস্ব এর জন্য সম্পাদক
কোনভাবে দায়ী নন
মহাকাল ভৈরব
ভারতের কণ্ঠ ব্যুরো: আচ্ছা কোনোদিন ভেবেছেন আমরা আসলে একটা প্রবাহমান গতিশীল পৃথিবীতে বাস করি। যেখানে পায়ের তলার মাটিটাও গতিশীল। যেকোনো সময়ে ওপরে থাকা আমাদের বাড়ি ঘর দোর কে দোলা দিয়ে থাকে।
ভূমিকম্প স্বাভাবিক বিষয়। আমি সেটা নিয়ে বলছি না আমি চিন্তা করছি অপরিণত নগরায়নের কুফল নিয়ে। তুর্কি ভূমিকম্প থেকে আমরা কার্যত কোন শিক্ষাই নিইনি সেটা নিয়েই আমরা ভয় পাচ্ছি।
গত ১ সপ্তাহ থেকে ক্রমাগত ভাবে হিমালয় পার্বত্য এলাকায় খুব কম তীব্রতার ভূমিকম্প হয়ে চলেছে। আর সেটা আমাদের রাজ্য পশ্চিমবঙ্গের খুব কাছে ঘটে চলেছে সেটাই চিন্তার।
আজ ২৪ শে জুলাই মনিপুর সংলগ্ন মায়ানমারে ভূমিকম্প হয়েছে মাত্ৰা ৪.২। আজ ই ভুটানের কাছে তিব্বতে ভূমিকম্প হয়েছে তীব্রতা ৩.৬। গতকাল সিকিম সংলগ্ন নেপালে ৩.৭ তীব্রতার ভূমিকম্প হয়েছে। ২০ জুলাই অরুণাচল প্রদেশের চীন বর্ডার ঘেঁষা সুবনশিরিতে ভূমিকম্প হয়েছে, মাত্ৰা ৩.৪। ঐ দিন ই নেপাল সংলগ্ন তিব্বতে ও আসামে ৩ মাত্রার ভূমিকম্প হয়েছে। সব তথ্য পেয়েছি কেন্দ্রীয় সরকারি সংস্থা ন্যাশনাল সেন্টার ফর সাইসমোলোজি থেকে। এথেকে এটা পরিষ্কার হয় নেপালে বা উত্তর পূর্ব ভারতে খুব শক্তিশালী ভূমিকম্প বোধহয় আমরা দেখতে চলেছি আমরা। ক্রমান্বয়ে পর্বত সৃঙ্গের কাছাকাছির হিমবাহ গলে যাবার জন্য ও ভারতীয় প্লেট ক্রমশ ইউরেশিয়ান প্লেটের নীচে চলে যাবার কারণেই হচ্ছে বলে মত ভূ বিজ্ঞানি দের।
ভূমিকম্প নিয়ে আমার বিন্দুমাত্র চিন্তা নেই যেটা নিয়ে ভয় সেটা হল পশ্চিমবঙ্গের আচমকা বেড়ে ওঠা আবাসন শিল্প। শাসকের কালো টাকা সাদা করার প্রয়াস হিসেবে পশ্চিমবঙ্গে আবাসন শিল্পে কালো টাকার বিনিয়োগ বাড়ছে। কিন্তু এই আবাসন গুলি তৈরিতে কেন্দ্রের ন্যাশনাল ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট এসোসিয়েশন র নিয়ম বিধির তোয়াক্কা করা হচ্ছেনা।
আইআইটি খড়গপুরের জিওলজি ও জিওফিজিক্স বিভাগের গবেষক অধ্যাপক শঙ্কর কুমার নাথ, মানিক দাস অধিকারী, এন দেবরাজ, সৌম্য কান্তি মাইতি তাদের গবেষণা পত্র Seismic vulnerability and risk assessment of Kolkata City, India য় লিখেছেন, কলকাতা হল ভারতবর্ষের দ্বিতীয় বৃহত্তর জনবসতি ভুক্ত রাজ্য। ২২. ২৭ ডিগ্রি থেকে ২২. ৪০ ডিগ্রি নর্থ (অক্ষাংশ) ও ৮৮.১৮ থেকে ৮৮.২৮ ডিগ্রি ইস্ট (দ্রাঘিমাংশ) গঙ্গার তীর এলাকায় অবস্থিত। ২০১১ সালের আদমসুমারী অনুযায়ী অতিরিক্ত জনসংখ্যা বৃদ্ধির জন্য মার্শ ল্যান্ড বা ডোবা ও জলাভূমি এলাকা সল্ট লেক এলাকায় জনবসতি বেড়েছে। বেঙ্গল বেসিনের ভেতরে একটি ফাটল আছে যাকে ইওসিন্ হিঞ্জ জোন বলে। যা প্রবল ভূকম্পপ্রবন এটি অবস্থান করে উত্তর ও দক্ষিন চব্বিশ পরগনা বরাবর বাংলাদেশ পর্যন্ত বিস্তৃত। উত্তরে হিমালয় এবং উত্তর পূর্ব ভারতের ভূকম্প প্রবন এলাকা ও রয়েছে। গবেষণা পত্রে ১৯৩৪ এর বিহার নেপাল ভূমিকম্প, ২০১১ র সিকিম ভূমিকম্পের তথ্য ও রয়েছে। ভুবিজ্ঞানী দের অনুমান ক্রমশ জলাভূমি ও ডোবা এলাকায় ফ্ল্যাট ও আবাসন গড়ে উঠেছে। শক্তিশালী ভূমিকম্প হলে বাড়ির ভীত বসে গেলে বাড়ি ভেঙে যেতে পারে। যদিও কালা পায়না শুনিতে।
style="text-align: justify;">

style="text-align: justify;">



মন্তব্যসমূহ