চন্দননগর মহকুমা হাসপাতালে চরম দুরবস্থা
চন্দননগর মহকুমা
হাসপাতালে চরম দুরবস্থা
আইনজীবী বিশ্বজিৎ মুখোপাধ্যায়
বেশ কয়েকবার চন্দনগর মহকুমা হাসপাতালে নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে বারবার ডেপুটেশন দেয়া হয়েছে। কিন্তু দীর্ঘ এক-দেড় বছর ধরে দেখা যাচ্ছে বিশেষ কোনো উন্নতি ঘটেনি। বরং যা ছিল তা ক্রমাগত সেটা খারাপ হচ্ছে। আজকে যেটা দেখা গেল সেটা অত্যন্ত খারাপ।
১. হাসপাতাল চত্বরের মধ্যে রোগীদের জন্য যে পানীয় জলের বন্দোবস্তুটি রয়েছে সেটা দীর্ঘকাল খারাপ হয়ে রয়েছে হলে তো সাধারণ রোগীরা কোথা থেকে জল পাবে তারা জানে না। বাইরে থেকে তারা বাধ্য হচ্ছে বোতলের জল কিনতে হচ্ছে।
২. দেখা যাচ্ছে যে সুলভ শৌচালয় দুটি থাকার কথা এবং যেখানে এমার্জেন্সি সামনে সুলভ শৌচালয় সেটা দীর্ঘকাল বন্ধ হয়ে পড়ে রয়েছে। ফলতঃ যারা আসছেন তারা অসুবিধায় পড়ছেন এমনকি যে সমস্ত রোগীদের আত্মীয়রা দীর্ঘ সময় রাত্রিবেলা এখানে থাকেন তাদের পক্ষেও তারাও বিভিন্ন ধরনের প্রাকৃতিক কারণে কোন জায়গায় যেতে পারছেন না।
এছাড়াও কানন পাল নামে স্থানীয় একজন রোগী অভিযোগ করেন শৌচালয় ব্যবহারের জন্য যে অর্থ নেওয়া হয় তা যথেষ্ট বেশী।
৩. চন্দননগর হাসপাতালে যে ডেপুটেশন দেয়া হলো সেখানে কয়েকটি জিনিস উল্লেখ করি।
প্রথমত যে চন্দননগর হসপিটালে যে আইসিইউটি রয়েছে তা ২০২১ সাল থেকে তৈরি হয়ে পড়ে রয়েছে
, চালু করা হচ্ছে না এবং সেখানে ২৪ টি বেড রয়েছে এবং একটিও কার্যকরী অবস্থায় নেই তাই এই আইসিইউ সাধারণ রোগীদের স্বার্থে আগামী ৩ মাসের মধ্যে চালু করতে হবে বলে নাগরিক সমাজের তরফে চূড়ান্ত সময় দেওয়া হয়। তিনমাসের মধ্যে চালু না হলে সরাসরি আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারি দেন তারা।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে তারা জানান যে তারা বারবার বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো সত্বেও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ কোনরকম ব্যবস্থা করেননি। পরবর্তী ক্ষেত্রে আরেকটি বিষয় আলোচনা হয় সেটি হচ্ছে আইসিইউয়ের অন্তর্গত যে সমস্ত মেশিন এবং যন্ত্রপাতি থাকা উচিত সেগুলির কোনটাই চালু অবস্থায় নেই। এটা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক, দীর্ঘ এক বছর যাবৎ যেটা বলা হচ্ছে তা নিয়ে কোন রকম কার্যকারী ভূমিকা নিয়ে নেয়া হয়নি। তারপরের আরো একটা বিষয় বস্তু হাসপাতালের বহিরাগত রোগী তাদের আত্মীয়-স্বজনের থাকার বন্দোবস্ত নেই এবং তাদের রাতে বিশ্রামের কোন ব্যবস্থা নেই।
তাছাড়া প্রত্যেকটা হসপিটালের একটি রোগী কল্যাণ সমিতি আছে। বিগত এক বছর ধরে মহকুমা শাসক এবং হাসপাতালকে বলা হয়েছে রোগী কল্যাণ সমিতির এবং কারা আছেন তাদের নামটা টাঙানো হোক যাতে বাইরের লোক তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারে। কিন্তু সেরকম কোনো বন্দোবস্ত নেই। এক বয়স্ক মহিলা এলেন যার কারনে কিছু ঢুকে গিয়ে সমস্যা হচ্ছে সমস্যা হচ্ছে অথচ বারবার আসা সত্বেও বলা হচ্ছে কোন সার্জেন্ট নেই যদিও আজকে একজন সার্জনের দিন। হাসপাতাল কতৃপক্ষ বলতেও পারছে না কবে তাদের সার্জেন থাকবে। এরকম প্রচুর অভিযোগ আমাদের কাছে রোগীরা নিয়ে এসেছেন অনেকে এমনও বলছেন যে এই যে একটা বাচ্চা হওয়ার পরে তাদের বাড়িতে পৌঁছে দেবার জন্য যানবাহন সময়মত দেওয়া হচ্ছে না যা সমস্যা বাড়িয়ে তুলছে ।
আজকের চন্দনগর নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে কৌস্তভ সাহা,রতনলাল রায়, শিবপ্রসাদ ব্যানার্জি জগদীশ শর্মা এবং গোপাল শুক্লা ডেপুটেশনে যান। তাছাড়া বাইরে নাগরিক সমাজের একটি কমিটি যথাক্রমে বিশ্বজিৎ মুখার্জি, নন্দদুলাল নন্দী, নারায়ন দাস, হীরালাল সিংহ তারা সমস্ত হসপিটাল ঘুরে তথ্য সংগ্রহ করেন রোগীদের সঙ্গে কথাবার্তা বলেন এবং কথাবার্তা বলে জানা যায় যেখানে কোন ওয়ার্ড মাস্টার নেই এবং হসপিটাল কর্তৃপক্ষ জানায় 2019 থেকে word মাস্টার রিক্রুটমেন্ট বন্ধ হয়ে গেছে। আর কোন স্টাফ ছাড়া বাড়ানো হচ্ছে না। এই অবস্থা চলতে থাকলে নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে একটি স্বার্থ মামলা করা ছাড়া কোনো উপায় থাকবেনা বলে জানাচ্ছেন সংগঠনের নেতৃত্ব।

মন্তব্যসমূহ