সপ্তমীর পূজো কথা ও হারানো শৈশব



সপ্তমীর পূজো কথা 

ও হারানো শৈশব


শুভ্রজ্যোতি মজুমদার





আজ মহাসপ্তমী আজকে কিছু ছেলেবেলার কথা দিয়ে শুরু করবো। আমার এখনো মনে পড়ে আমার ছেলেবেলা কেটেছে সুন্দর ভাবে। গঙ্গার ধারে থাকতাম। বাড়ির সামনে হত দুর্গাপূজা। যখন ম্যারাপ বাঁধা হত ত্রিপল ফেলা হত তখন একটা অদ্ভুত উত্তেজনা হত। পূজোর চারটে দিনের মধ্যে তিনটে দিন বাড়ির উল্টোদিকে বাবার বন্ধুর বাড়ির উঠোনে বসতাম চেয়ার পেতে। হাতে থাকতো অজস্র ক্যাপ আর একটা ক্যাপ ফাটানোর বন্দুক। আমার ছেলেবেলা থেকেই খেলনা বন্দুকের প্রতি একটা অদ্ভুত মায়া ছিলো। জামা কাপড় হোক আর নাই হোক পূজো আসলে টিন বা প্লাস্টিকের ক্যাপ ফাটানোর বন্দুক চাই ই চাই। বাবা মহালয়ার পর থেকে মাসকাবাড়ি বাজার করতো। তেল, গুড়, মশলা, আটা, ময়দা ঘি র সাথে বরাদ্ধ হত বুড়িমার ক্যাপের বাক্স। চারটে করে আটটা ক্যাপের বান্ডিল থাকতো। তাতে প্রত্যেক বান্ডিলে বড় জোর ৮-৯ টা পিজবোর্ডের গোল বাস্কে ভরা ক্যাপ থাকতো। এক অদ্ভুত মাদকতা ছিলো ঐ বারুদের গন্ধে। পুরোনো নতুন মিলে বাড়িতে জমা খেলনা বন্দুক জড়ো করে বাড়ির পেছনের মাঠে খেলতে যেতাম। বন্ধু বান্ধব মিলে ছোটোখাটো গেরিলা যুদ্ধ চলতো। ফৌজি কায়দায় বন্ধুরা একে অপরকে ক্যাপ বন্দুক তাক করতাম। ফটাস আওয়াজ হবার আগে নলের সামনে থেকে সরে না গেলে আউট। যে আউট হত সে শুয়ে পড়তো মাঠের নরম ঘাসে। পূজোর সময় কাটা ঘাসের অদ্ভুত সুন্দর গন্ধ পেতাম। সেই সব ছেড়ে ঠাকুর দেখতে যেতে ইচ্ছে করতো না। সেই সব স্মৃতি আজ অতীত। আজকাল কানের কাছে ক্যাপ ফাটালে কেমন যেন বিরক্ত হই। 










🔴 গড়গড়ি ঘাট ও সিদ্ধেশ্বরী তলা বারোয়ারির পূজো বহু প্রাচীন। ছেলেবেলার তুলনায় জাঁকজমক অনেকটাই বেড়েছে গড়গড়ি ঘাটে। আমার মনে পড়ে ছেলেবেলায় একটি রিভলবার গোছের ক্যাপ বন্দুক কিনে দিয়েছিলো বাবা। যাচ্ছি গড়গড়ি ঘাটে ঠাকুর দেখতে এক পুলিশ কাকু মজা করে বলেছিলেন "খোলা বন্দুক নিয়ে এরকম কর ঘুরতে নেই, বদমাইশি করলে কিন্তু আমরা ধরে নিয়ে যাই।" গাল টিপে তার ছেলেবেলার অনেক গল্প করেছিলেন। 

🔴 আজ বহু বছর পরে শ্রীরামপুর অন্নদা ভবন বা ঘোষবাড়ির ঠাকুর দেখতে গেলাম। শতবর্ষ পেরোনো এই বাড়ির পূজো যেমনটা আমার ছেলেবেলায় ছিলো আজও সেরকম অমলিন আছে। তবে আগে জাঁকজমক অল্প হত বনেদি বাড়ির পূজো তো। আজকাল সেই জাঁকজমক কিছুটা কমেছে। 

🔴 মুখার্জিপাড়া সার্বজনীনের পূজা দেখে ভালো লাগলো শ্রীরামপুর স্টেশনের কাছেই এই পূজো। এবারে থিম করেছে জ্যোতিষ। দেবীর পরিচয় প্রকাশকারী বিভিন্ন যন্ত্র দিয়ে মণ্ডপ সাজিয়েছে। দেখে বেশ ভালো লাগলো। যদিও ছেলেবেলায় এদিকে ঠাকুর দেখতে এসেছি অনেকবার তবে মুখার্জিপাড়ার পূজো দেখেছি কিনা তেমন মনে পড়ছে না। 

🔴 গোপীনাথ স্মৃতি কিশোর সংঘের পূজো আমার ছেলেবেলার মতোই অমলিন আছে। প্রতিমার অলংকার ও সাজসজ্জায় এবার অভিনবত্ব এনেছে এই পূজো কমিটি। মণ্ডপ তেমন জাঁকজমকপূর্ণ না হলেই সাজ সজ্জা ছিলো অসাধারণ।

🔴 পূজোর গল্প চলতে থাকবে এভাবেই কাল অষ্টমী পরশু নবমী হাতে মাত্র দুটি দিন তারপর আবার একটা বছরের অপেক্ষা। তবে যেটা সবচেয়ে মনকে পীড়া দেয় সেটা হল আমার হারানো শৈশব। আবার যদি বয়সটা কমিয়ে বছর কুড়ি পিছিয়ে যাওয়া যেতো তাহলে কত ভালো হত। দিনগুলি বড় সুন্দর ছিলো।







 




2 ​ 3  

style="text-align: justify;"> 20 ​ 21    





মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

জালিয়াতি করে চলছে রেস্টুরেন্ট দোকানের মালিকের অভিযোগে বাতিল জাল ট্রেড লাইসেন্স

চন্দননগর ইস্পাত সংঘে চলছে টি সি এস এ চাকরির ট্রেনিং

বৈদ্যবাটী সীতারাম বাগানে দম্পতির রক্তাক্ত দে উদ্ধার