বাংলা থেকে হিন্দি: শিক্ষাক্ষেত্রে ভাষা-আক্রমণের অশনি সংকেত
বাংলা থেকে হিন্দি:
শিক্ষাক্ষেত্রে ভাষা-আক্রমণের
অশনি সংকেত
অয়ন মুখোপাধ্যায়
রাজ্যের বহু ডিএলএড কলেজ বাংলা মাধ্যম থেকে হিন্দি মাধ্যমে সরে যাচ্ছে—এ খবরটি নিছক কোনো শিক্ষানীতির পরিবর্তন নয়, এটি এক বিপজ্জনক সাংস্কৃতিক অভিসন্ধি। বাংলার বুকেই যদি বাংলাভাষার শিক্ষাদানকে কোণঠাসা করে দেওয়া হয়, তবে তাকে আর কী বলা যায়—ভাষা-আক্রমণ, না সাংস্কৃতিক আত্মসমর্পণ?
শিক্ষার নামে ভাষা-বদল
পড়ুয়া টানতে গিয়ে বাংলা থেকে হিন্দি—এটা যেন এক গোপন ছক। যুক্তি দেওয়া হচ্ছে, ছাত্র পাওয়া যাচ্ছে না, তাই হিন্দি মাধ্যমে পড়ানো শুরু করতে হচ্ছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো—বাংলার ছাত্রছাত্রীরা কোথায় গেল? তারা কি বাংলাভাষা ত্যাগ করেছে? না কি শিক্ষা ব্যবস্থাই তাদের বাংলার প্রতি অনীহা তৈরি করে দিয়েছে?
বাংলা যে কেবল একটা ভাষা নয়, তা এরা ভুলে যাচ্ছে। এটি আমাদের পরিচয়, ইতিহাস, সংস্কৃতি, আত্মসম্মানের প্রতীক। হিন্দি চাপিয়ে দিয়ে এই মাটি থেকে বাংলাকে সরিয়ে দেওয়া হলে তা নিছক একাডেমিক ক্ষতি নয়, এটি হবে অস্তিত্বের ক্ষয়।
রাজনীতি ও বাজারের ষড়যন্ত্র
এই পরিবর্তন কেবল শিক্ষার প্রশ্ন নয়, এর পেছনে রয়েছে রাজনীতি ও বাজার। কেন্দ্রের ভাষানীতি, চাকরির বাজারে হিন্দির দাপট, আর বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়িক লোভ—সব মিলিয়ে বাংলার ঘরে ঢুকছে নতুন উপনিবেশবাদ।
আজ ডিএলএড কলেজ, কাল স্কুল, পরশু বিশ্ববিদ্যালয়। যদি প্রতিরোধ না হয়, তবে বাংলার সন্তান বাংলাতেই আর বাংলায় পড়াশোনা করতে পারবে না। হিন্দি হবে প্রভু, বাংলা হবে ভিখারি।
বাংলার আত্মা নিয়ে খেলা
ভেবে দেখুন একসময় ভাষার জন্য রক্ত দিয়েছে। বাঙালি ঢাকার রাজপথে ছাত্ররা প্রাণ দিয়েছিল মাতৃভাষার মর্যাদার জন্য। অন্যদিকে ভারতবর্ষের মতন স্বাধীন দেশে দাঁড়িয়েও বাংলার বুক থেকে যদি বাংলা হটিয়ে দেওয়া হয়, তবে সেটি হবে দ্বিতীয় দুঃস্বপ্ন।
বাংলা ভাষার অবমাননা মানে রবীন্দ্রনাথের অপমান, নজরুলের অপমান, জীবনানন্দের অপমান। আমরা কি সত্যিই এতটাই নির্বিকার হয়ে গেছি যে আমাদের সন্তানদের হাতে থেকে বাংলা ছিনিয়ে নিতে দেব?
প্রতিরোধ এখনই দরকার
এটি কেবল শিক্ষাব্যবস্থার প্রশ্ন নয়, এটি আত্মপরিচয়ের প্রশ্ন। যদি এখনই প্রতিরোধ না হয়, কাল আমাদের বাড়ির উঠোনেই শুনতে হবে—“বাংলায় পড়াশোনা করলে চাকরি পাবে না।”
অতএব—
🔴 ছাত্র, শিক্ষক, অভিভাবক সবাইকে একজোট হতে হবে।
🔴 বাংলায় পড়াশোনার সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।
🔴 হিন্দি চাপিয়ে দেওয়ার বিরুদ্ধে গণআন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।
শেষ কথা
বাংলা শুধু এক ভাষা নয়—এটি আমাদের আত্মা, আমাদের শেকড়। যাদের ষড়যন্ত্রে বাংলার মাটিতে বাংলাই পরবাসী হয়ে পড়ছে, তাদের বিরুদ্ধে আজই রুখে দাঁড়াতে হবে।
না হলে আগামী প্রজন্ম একদিন জিজ্ঞেস করবে—
“তোমরা কী করেছিলে, যখন বাংলা হারিয়ে যাচ্ছিল?”
এই লেখা যদি আপনার মনে আলোড়ন তোলে, তবে দয়া করে শেয়ার করুন। আজকের প্রতিরোধই আগামী দিনের বাংলা বাঁচাতে পারে।


style="text-align: justify;">

মন্তব্যসমূহ