বিশ্ববিদ্যালয় আজ: জ্ঞান বনাম রাজনৈতিক আগ্রাসন
বিশ্ববিদ্যালয় আজ:
জ্ঞান বনাম
রাজনৈতিক আগ্রাসন
অয়ন মুখোপাধ্যায়
ইউনিভার্সিটি। বিশ্ববিদ্যালয়। এক সময় এটি ছিল সারস্বত সাধনার মন্দির—জাতি, ধর্ম, বর্ণ, লিঙ্গ বা সামাজিক অবস্থান নির্বিশেষে প্রবেশাধিকার থাকা স্থান। প্রবেশাধিকার নির্ধারিত হত একমাত্র যোগ্যতার ভিত্তিতে। নালন্দা, তক্ষশীলা—শ্রেষ্ঠ পণ্ডিতরাও দ্বারপণ্ডিতের কঠিন প্রশ্নে উত্তীর্ণ হতে হতো। ‘এন্ট্রান্স’ তখন শুধু দরজা নয়, জ্ঞানের মর্যাদার প্রতীক।
আজ? আজ সেই মর্যাদা ছিন্নভিন্ন। এক মূঢ়, দুর্বিনীত, হিংস্র রাজনীতিকের হাতে আমাদের শিক্ষা, সংস্কৃতি, শিল্প-বাণিজ্য, অর্থনীতি ও কর্মসংস্থান ঝুঁকির মুখে। জ্ঞানমনস্কতা? তুচ্ছ। প্রাতিষ্ঠানিক রীতিনীতি? ধ্বংসপ্রায়।
আর হায় রে! বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য তার সচিবালয়ে গণেশ পুজো করছেন। প্রথার অবক্ষয় নয়, এটি শিক্ষার হৃদয়ে রাজনৈতিক আগ্রাসনের চরম প্রমাণ।
ধরে নিন, যদি কোনো ইসলাম ধর্মাবলম্বী উপাচার্য তার সচিবালয়ে রমজানের নামাজের ব্যবস্থা করতেন—আমরা কি তখনও নীরব থাকতাম? আমাদের ধর্মনিরপেক্ষ সংবিধান কি তখনও আমাদের নৈতিক শক্তি দিত? নাকি রাজনীতির লোভ ও ধর্মীয় ছাপের কাছে আমরা তখনও নতমুখী হতো?
ভাঙতে ভাঙতে ভাঙতে… আজ আমরা সেই সর্বনাশের ধ্বংসপ্রান্তে দাঁড়িয়েছি। প্রাচীরটি—যা কখনও জ্ঞানের, সংস্কৃতির, স্বাধীনতার প্রতীক ছিল—আজ ধ্বংসপ্রায়। রাজনৈতিক আগ্রাসন ঢুকেছে শিক্ষার মন্দিরে, জ্ঞানের প্রতীকগুলিকে মর্যাদাহীন করে দিয়েছে।
এটি শুধুই প্রশ্ন নয়। এটি চরম সতর্কবার্তা।
যদি আজ আমরা চুপ থাকি, নীরব থাকি, দেখেও দেখাশোনা না করি, আগামীকাল কেউই এই প্রাচীরের ঐতিহ্য অনুভব করতে পারবে না। আমাদের সংস্কৃতি, আমাদের জ্ঞান, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় হারাচ্ছে—শুধু একটি পুজোর জন্য নয়, দীর্ঘদিনের অবহেলা ও রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের জন্য।
আজই জেগে উঠতে হবে। আজই দাঁড়াতে হবে। না হলে আগামী প্রজন্মের জন্য আমরা আমাদের শিক্ষা ও সংস্কৃতিকে হারিয়েই থাকব।
এরকম বিজ্ঞাপন দিতে ইচ্ছুক হলে
আমার সঙ্গে যোগাযোগ করুন
খরচ মাত্র ৩০০ টাকা।


style="text-align: justify;">

.jpg)
মন্তব্যসমূহ