“বলাগড়ের অভিজ্ঞতা, বাংলার ভবিষ্যৎ: ভূমিপুত্র সংরক্ষণ না হলে কী হবে?”

 “বলাগড়ের অভিজ্ঞতা,

 বাংলার ভবিষ্যৎ: ভূমিপুত্র

 সংরক্ষণ না হলে কী হবে?”

অয়ন মুখোপাধ্যায় 




বাংলা পক্ষ বহুদিন ধরেই দাবি করে আসছে—বাংলায় কর্মসংস্থানে ভূমিপুত্র সংরক্ষণ না থাকলে বাংলার ভবিষ্যৎ অন্ধকার। এই প্রসঙ্গে আজকেই মনোজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় ফেসবুকের পোস্টের মাধ্যমে জানতে পারলাম স্থানীয় বলাগড়ে র শ্রমিকরা ওখানে কাজ পাচ্ছে না তাঁর বক্তব্য থেকেই আমি প্রথম গভীরভাবে ভাবতে শুরু করি, বিশেষত আমি নিজে যেহেতু হুগলি জেলার বলাগড় বিধানসভার অন্তর্গত মানুষ, তাই চোখের সামনে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলো আমাকে আরও বিচলিত করে তুলেছে।

শিল্প থেকে বাঙালির বিতাড়ন

বলাগড় বিধানসভার Agarwal Group-এর ESS DEE Aluminium Limited–এর ঘটনা তারই প্রকৃষ্ট উদাহরণ। একসময় যখন এই কারখানার মালিকানা বাঙালির হাতে ছিল, তখন স্থানীয় শ্রমিকরাই কাজের সুযোগ পেতেন, তাদের ন্যূনতম সুবিধা ও সুরক্ষা নিশ্চিত হতো। কিন্তু মালিকানা হাতবদলের পর চিত্র পাল্টে যায়। এখন একের পর এক বাঙালি শ্রমিক ছাঁটাই হচ্ছেন, আর সেই জায়গায় নিয়োগ পাচ্ছেন বহিরাগত শ্রমিক—মূলত উত্তরপ্রদেশ ও বিহার থেকে আসা শ্রমজীবীরা।

এই পরিবর্তন কেবল একটি প্রতিষ্ঠানের সমস্যাই নয়। বাংলার বহু শিল্প ও ব্যবসা–প্রতিষ্ঠানে একই চিত্র দেখা যাচ্ছে। বাঙালি শ্রমিক ও কর্মীর সংখ্যা ক্রমশ কমছে, অথচ বহিরাগতদের সংখ্যা বাড়ছে দ্রুতগতিতে।

অর্থনীতি ও শ্রমবাজারের ভারসাম্যহীনতা

বাংলার অর্থনীতির মূল সমস্যাগুলির একটি হলো—শিল্পপ্রবাহের অভাব। নতুন বড় শিল্প আসছে না, ফলে কর্মসংস্থানের সুযোগ সীমিত। তার ওপর যে অল্প কিছু কর্মসংস্থান তৈরি হচ্ছে, তাও ধীরে ধীরে চলে যাচ্ছে বহিরাগত শ্রমিকদের হাতে। কারণ সহজ—তাদের মজুরি কম, শ্রমিক ইউনিয়ন কার্যত দুর্বল, আর মালিকদের সঙ্গে দরকষাকষির সাহসও তারা করে না। এর ফলে স্থানীয় বাঙালি শ্রমিকরা প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ছেন।

সমাজ ও রাজনীতিতে প্রভাব

শুধু কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রেই নয়, এর প্রভাব পড়ছে সমাজ-রাজনীতিতেও। বহিরাগতরা বাংলায় এসে স্থায়ী বসতি গড়ছেন, বাংলার সরকারি প্রকল্প ও সুযোগ-সুবিধার সুবিধাভোগী হচ্ছেন। এতে একদিকে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর উপর চাপ বাড়ছে, অন্যদিকে রাজনৈতিক ভারসাম্যও বদলে যাচ্ছে। জনসংখ্যাগত পরিবর্তন প্রায়শই রাজনৈতিক পরিবর্তনের পথ তৈরি করে।

ভূমিপুত্র সংরক্ষণ কেন জরুরি?

ভারতের একাধিক রাজ্যে sons of the soil নীতি চালু আছে। মহারাষ্ট্র, কর্ণাটক, অন্ধ্রপ্রদেশসহ বহু রাজ্যে স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য চাকরিতে নির্দিষ্ট শতাংশ সংরক্ষণ রয়েছে। ফলে সেই রাজ্যের যুবসমাজ অন্তত ন্যূনতম কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা পায়।

কিন্তু বাংলায় এখনো সেই নীতি কার্যকর হয়নি। এর ফলে বাংলার যুবসমাজ কর্মহীন থেকে বাইরে পাড়ি দিচ্ছে, আর বাংলার মাটিতেই কাজ দখল করছে বহিরাগতরা। এ এক ধরনের দ্বিগুণ ক্ষতি—একদিকে দক্ষ বাঙালি যুবকরা বাংলার বাইরে চলে যাচ্ছে, অন্যদিকে বাংলার মাটিতে ক্রমশ শেকড় গাড়ছে বহিরাগত শ্রমশক্তি।

উপসংহার

বাংলার সামনে এই মুহূর্তে যে চ্যালেঞ্জ দাঁড়িয়ে আছে, তা কেবল অর্থনৈতিক নয়, সামাজিক ও রাজনৈতিকও বটে। শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলিতে বহিরাগত শ্রমিকদের অবাধ প্রবেশ শুধু বেকারত্ব বাড়াচ্ছে না, বাংলার সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক ভবিষ্যতকেও বিপদের মুখে ফেলছে।

এখানেই শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের ব্যর্থতা চোখে পড়ে। টিএমসি গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে ক্ষমতায় থেকেও কার্যকর শিল্পায়ন নীতি আনতে পারেনি। বরং পুরনো প্রকল্পগুলো বন্ধ হয়েছে, নতুন বড় শিল্প আসেনি। এর ফলে বাংলার বেকারত্ব দেশের অন্যতম শীর্ষে। আর যে অল্প কিছু কাজ আছে, তাও দখল করছে বহিরাগতরা।

তাই এখনই পদক্ষেপ না নিলে দেরি হয়ে যাবে। বাংলার রাজনৈতিক নেতৃত্বকে বুঝতে হবে—ভূমিপুত্র সংরক্ষণ কেবল একটি দাবি নয়, এটি বাংলার আত্মরক্ষার অস্ত্র। বাংলার যুবকদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা না গেলে, আগামী দিনে বাংলার সামাজিক-রাজনৈতিক অস্তিত্বই প্রশ্নের মুখে পড়বে।

ছবি ও ভাবনা মনোজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় থেকে প্রাপ্ত।কৃতজ্ঞতা স্বীকার মনোজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়


div>
class="separator" style="clear: both; text-align: center;">

এরকম বিজ্ঞাপন দিতে ইচ্ছুক হলে

 আমার সঙ্গে যোগাযোগ করুন

 খরচ মাত্র ৩০০ টাকা।

bannerbanner




style="text-align: justify;">

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

জালিয়াতি করে চলছে রেস্টুরেন্ট দোকানের মালিকের অভিযোগে বাতিল জাল ট্রেড লাইসেন্স

চন্দননগর ইস্পাত সংঘে চলছে টি সি এস এ চাকরির ট্রেনিং

বৈদ্যবাটী সীতারাম বাগানে দম্পতির রক্তাক্ত দে উদ্ধার