কোন্নগরে রাজরাজেশ্বরী সেবা মঠে কোজাগরী লক্ষ্মী পূজার আয়োজন
কোন্নগরে রাজরাজেশ্বরী
সেবা মঠে
কোজাগরী লক্ষ্মী
পূজার আয়োজন
পুলক চক্রবর্তী, কোন্নগর, ৬ই অক্টোবর সোমবার:- কোন্নগর রাজেশ্বরী মহালক্ষী মাতার মন্দিরে হিন্দু শাস্ত্র বিধি মেনে পালিত হল কোজাগরী লক্ষ্মী পূজা। জগৎ গুরু শঙ্করাচার্য প্রতিষ্ঠিত রাজ রাজেশ্বরী মন্দির তথা সেবা মঠের উক্ত দিবসে প্রথমে সিদ্ধি দাতা গণেশের আরাধনা করে শাস্ত্রবিধি অনুসারে কোজাগরি লক্ষী মাতার পূজা সুসম্পন্ন হল। এমনিতেই এই মন্দিরে মহালক্ষ্মী রাজরাজেশ্বরী মাতার পিঠস্থান তার মধ্যে হিন্দু শাস্ত্র বিধি অনুসারে কোজাগরী লক্ষ্মী পূজার প্রচলন যা ঘরে ঘরে পালিত হয়ে আসছে সেই উৎসব এই রাজরাজেশ্বরী মাতার মন্দিরে বিপুল সমারোহে পালিত হলো। এই দিন সকলে দেবীরূপ কে বা যোগিনীদের পূজা করা হয়। পঞ্চামৃত তে অভিষেক করানো হয়। মহালক্ষী মাতার কোজাগরী রূপের পূজা তথা শস্য দানার পূজা করা হয়। এই দিন মাতা রাজরাজেশ্বরী বা মহালক্ষী মাতা কে বেনারসি এবং ওড়না সাজে অলংকৃত ও সুসজ্জিত করা হয়। শ্রীযন্ত্রের ও শঙ্খের পূজা বিশেষভাবে করা হয়, এছাড়া হোম যজ্ঞ করা হয়। এই মন্দিরে শ্রী যন্ত্র তথা মাতা কে বিভিন্ন প্রকার ভোগ নিবেদন করা হয়। অন্ন ভোগ থেকে শুরু করে ফল- ফলাদি দিয়ে বস্ত্র, শাঁখা, সিঁদুর এমনকি সোনার গহনা নিবেদন করা হয়। এই দিন মাতা লক্ষ্মীকে সোনা, রুপা এবং স্ফটিকের অলংকারে সুসজ্জিত করা হয় এমন ভাবে যেন স্বর্গের দেবী জাগ্রত রূপে এখানে বিরাজ করছেন। এছাড়া নারী এবং শিশু কন্যাদের প্রতি বিশেষ সম্মান ও দানধ্যান করে মাতা লক্ষ্মীর অবস্থানকে জাগ্রত করা হয়। এই মন্দিরে, দুপুরে সকলকে মাতা লক্ষ্মীর ভোগ প্রসাদ বসিয়ে খাওয়ানো হয়। লক্ষী পূজা উপলক্ষে ৫০১টি প্রদীপ প্রজ্জ্বলন করা হয়। এছাড়া শঙ্খ ধনির সাথে বিভিন্ন সুগন্ধি, পুষ্প, ধুপ, দীপ প্রজ্জলন করা হয়। পাশাপাশি ১০৮ রকমের শস্য দানা এবং চারা গাছকে মাতা লক্ষীর আধার রূপে পূজা করা হয়। এই মন্দির প্রাঙ্গণে কোনরকম শব্দ দূষণ বা বিশৃঙ্খলা বা আপ্যায়নের ত্রুটি পরিলক্ষিত হয়নি। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস ধন-সম্পদ ঐশ্বররের দেবী হলেন লক্ষী। সুখ-শান্তিতে বাস করতে অর্থের প্রয়োজন। তাই সবাই চান ধন-সম্পদে থেকে পরিবার পরিজন সহ জীবন ধারণ করতে। দেবী লক্ষ্মী হলেন শ্রী সমৃদ্ধি বিকাশ ও অভ্যুদয়ের প্রতীক। মন্দিরের মূল প্রধান মহারাজ সচ্চিৎ স্বরূপ এবং শ্রীধর দ্বিবেদী এবং পন্ডিত আচার্য রবিশঙ্কর দ্বিবেদী বলেন লক্ষ্মী বিনা এই জগৎ সংসার শ্রীহীন এবং অভুক্ত। তাই মহালক্ষী মাতার রাজরাজেশ্বরী মন্দিরে ও মঠে এই পূজা চলে আসছে। পূজার আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন ঋত্বিক মিশ্রা, সৌরভ মিশ্রা, রবি চৌবে, প্রভাত পাচৌরি প্রমুখ ও বিশিষ্ট জনেরা।
style="text-align: justify;">






মন্তব্যসমূহ