বন্যা ভাসায় উত্তরবঙ্গ, ঢাকের তালে নাচে শহর
বন্যা ভাসায় উত্তরবঙ্গ,
ঢাকের তালে নাচে শহর
অয়ন মুখোপাধ্যায়
উত্তরবঙ্গ জলমগ্ন। নদীর জল উপচে পড়েছে বাঁধ ভেঙে গেছে , রাস্তা ভেসে গেছে, ঘরবাড়ি ডুবে আছে। কোমর জলে মানুষ কেউ গাছের ডালে বসে বাঁচার চেষ্টা করছে, কেউ প্লাস্টিকের বোতল বেঁধে বানানো ভেলায় করে খাবার আনছে। সরকারি খবরে বলা হচ্ছে—“সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।” কিন্তু যাদের ঘর ভেসে গেছে, তারা জানে সেই ব্যবস্থার নামটা কেবল কাগজে থাকে, মাটিতে নয়।
এইদিকে কলকাতায় চলছে উৎসব। আলো, সাজ, বাজনা। মুখ্যমন্ত্রী মঞ্চে হাসছেন, তাল মিলিয়ে নাচছেন, মাইকে চলছে তার কণ্ঠে গান। বলা হচ্ছে—“এটা আগেই ঠিক করা ছিল।” যেন বিপর্যয়টা দেশের বাইরে ঘটেছে, আমাদের জীবনে নয়।
দুই বাংলার ছবি এক নয়, দুই জগৎ। উত্তরবঙ্গে মানুষ খুঁজছে শুকনো খাবার, দক্ষিণবঙ্গে মানুষ খুঁজছে ভালো অ্যাঙ্গেল—সেলফি তোলার জন্য। টেলিভিশনে দেখা যায়, একদিকে ত্রাণ শিবিরের ভিড়, আর অন্যদিকে কনসার্টের ভিড়।
এই সময়ে মানুষ খেয়ালই করে না—আমরা কতটা অভ্যস্ত হয়ে গেছি নির্লিপ্ত থাকতে। কেউ মরে গেলে খবরটা আমাদের চোখে এক মিনিটও থাকে না, আমরা স্ক্রিনটা বদলে ফেলি। পরের ভিডিও, পরের গান, পরের হাসি।
যে শহর একদিন প্রতিবাদ জানাতে জানত, আজ সেই শহর নাচে আর তালি দেয়। মানুষ এখন খোঁজে আনন্দের অজুহাত, দুঃখের নয়। রাজনীতি জানে—এই আনন্দই ঢেকে দেবে জলমগ্নতার গন্ধ, মাটির ক্ষতি, মানুষের কান্না। তাই উৎসব চলতেই থাকে, যেমন করে চলে বিজ্ঞাপন।
কেউ জিজ্ঞেস করে না—এই উৎসবের আলোটা কোথা থেকে আসে? সেই আলোয় কতটা অন্ধকার ঢাকা পড়ে যায়?
উত্তরবঙ্গে বৃষ্টি মানে আজ আতঙ্ক। কলিকাতায় বৃষ্টি মানে ইনস্টাগ্রাম পোস্ট—“Rain vibes!”একই রাজ্য, দুই পৃথিবী।
রাজনীতি জানে, স্মৃতির স্থায়িত্ব কমে গেছে। তাই আজকের বিপর্যয় কালকের খবর নয়। কাল নতুন মঞ্চ, নতুন গান, নতুন মুখ।সব কিছু “পূর্ব নির্ধারিত।”
এই সময়ে প্রশ্ন তোলাই বড় অপরাধ। তাই শহর চুপ থাকে।আর সেই নীরবতায় ঢাক বাজে আরও জোরে।
style="text-align: justify;">






মন্তব্যসমূহ