মা দুর্গার বোধন ও মফঃস্বলের পূজা চর্চা

 

 মা দুর্গার বোধন ও 

মফঃস্বলের পূজা চর্চা

শুভ্রজ্যোতি মজুমদার


🔴 দূর্গা পূজার সম্পর্কে আমার চিরকাল একটা শিশু সুলভ ভালোবাসা ছিলো এখনো তার কিঞ্চিৎ অবশিষ্ট রয়েছে। এখন অবশ্য সেই টিনের বন্দুক আর পিচ বোর্ডের বাক্সে ভরা লাল ক্যাপ বারুদের গন্ধ চট পট শব্দের উচ্ছাস নেই। শৈশব আর নেই মাথাভরা চুল গিয়ে প্রশস্ত টাক। কিন্তু পূজার উচ্ছাস আজও অমলিন। ছেলেবেলা থেকেই বনেদি বাড়ির দুর্গাপূজা থেকে থিম সব পূজোর প্রতি আমার আগ্রহ প্রবল। আজ পঞ্চমীর শুভ লগ্নে তার কিছু অংশ পরিবেশন করবো। 

🔴  পঞ্চমী তে আমার সাথে তার পূজোর অনুভূতি শেয়ার করেছেন হিন্দি ভারত পত্রিকার সাংবাদিক আমার বন্ধু শ্রী পুলক চক্রবর্তী। কোন্নগরে তার বাড়ির কাছের ঘোষাল বাড়ির দুর্গাপূজার কিছু ছবি ও ধারাবাহিক তথ্য তুলে ধরেছেন আজ সেটা দিয়েই আমাদের শারদ চর্চা শুরু করবো।



 কোন্নগর ঘোষাল বাড়ি র ঠাকুরদলান ও বাড়ির দূর্গা প্রতিমা 

🔴পুলক চক্রবর্তী : গোটা ভারতবর্ষের সবচেয়ে বড় উৎসব দুর্গাপূজা কে ঘিরে প্রতিবছরের মতো এ বছরও বনেদি বাড়ির পুজোগুলোতে রীতি নীতি মেনে পুজোর আয়োজন চলছে। হুগলি জেলার মধ্যে অন্যতম বনেদি জমিদার বাড়ির পূজা হল কোন্নগরের ১৬/এ ড: চণ্ডীচরণ ঘোষাল লেনের প্রবীর ঘোষালের বাড়ির পূজা। এই বাড়ির দুর্গাপুজো ৫৭১ বছরে পড়ল। কোন্নগর ঘোষাল বাড়ির অন্যতম সদস্য প্রবীর ঘোষাল বলেন এই বাড়ির পুজো দীর্ঘ ৫৭১ বছর ধরে চলে আসছে। আশেপাশের এলাকার বহু মানুষ এই ঘোষাল বাড়ির পূজোয় অংশ নেন। প্রতিবছর সপ্তমী থেকে দশমী অব্দি এই পূজা প্রাঙ্গণে পরিবার সহ পাড়া-প্রতিবেশী সকলে মিলে একসঙ্গে ভোজন করে। এই বাড়ির পুজোর অন্যতম বৈশিষ্ট্য হচ্ছে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। ওস্তাদ বড়ে গোলাম আলী খান থেকে শুরু করে হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের মত বিখ্যাত শিল্পীরা কোন না কোন সময় এসে সঙ্গীত পরিবেশন করেছেন, কিন্তু এবারের যে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানটি হবে পরিবারের সদস্যরাই তাতে অংশ নেবেন বলে জানিয়েছেন বর্তমান প্রজন্মের রিঙ্কু ঘোষাল। এখানকার পুজোর বৈশিষ্ট্য হল মাকে যে মিষ্টি নিবেদন করা হয় তা কিন্তু বাইরে থেকে আসে না রীতি অনুযায়ী এ বাড়ির মেয়েরা নারু তৈরি করে সেই নাড়ু মাকে মিষ্টি হিসেবে দেন। এছাড়া এই পূজার অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো দশমীর দিন বাড়ির মা, কাকিমা, জেঠিমারা মিলে মাকে বরণ করেন, তবে তার আগে তারা পান্তা ভাত এবং ইলিশ মাছ খাওয়ার রীতি পালন করেন। বিসর্জনের পর আদা এবং ছোলা খেয়ে মিষ্টিমুখ করেন। ঠাকুর বরণের সময় আত্মীয়-স্বজন পাড়া-প্রতিবেশী সবাই মিলে কোন্নগর ঘোষাল বাড়ির সিঁদুর খেলায় মেতে ওঠে। এই পুজোর একটা অন্যতম বৈশিষ্ট্য যা শুধুমাত্র বাড়ির পরিবারের সদস্যরা নয় পাড়া প্রতিবেশীর সবাই এই পুজোতে অংশ নেন।


শ্রীরামপুরের পুরোনো গোস্বামী বাড়ির দুর্গাপূজা

🔴  শ্রীরামপুর পুরাতন গোস্বামী বাড়ির পূজা বলতে গেলে ৪২০ বছর পুরানো। শ্রী সুধীর কুমার মিত্রের হুগলী জেলার ইতিহাস ও বঙ্গসমাজ গ্রন্থ থেকে জানা যায় গোস্বামী, সাহা, দে এই কয়েকটি পরিবার শ্রীরামপুরের বনেদি পরিবার। কথিত আছে বিষ্ণুপুরের রাজা শ্রী শ্রী রাধামোহন, গোপালজিউ ও শ্রীরাধিকার পূজা নিষ্ঠাভাবে করার জন্য গোস্বামী পরিবারকে প্রচুর নিস্কর জমি দিয়েছিলেন। এই পরিবারের মূল পদবি চক্রবর্তী। বৈষ্ণব হওয়ায় গোস্বামী পদবী এরা পেয়েছিলেন সম্ভবত। রাজা গোপীকৃষ্ণ গোস্বামী এই বংশের একজন শ্রেষ্ঠ মানুষ। তার বিচক্ষণতা ও দানশীলতার জন্য তাকে সরকার রাজা উপাধি দিয়েছিলো। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চ উপাধিপ্রাপ্ত ব্যক্তি ছিলেন। কলকাতা হাইকোর্টে ওকালতি করতেন পরে বঙ্গীয় প্রাদেশিক সরকারের মন্ত্রনা সভার সদস্য হন। সুধীর মিত্র লিখেছেন তৎকালে রাজা গোপীকৃষ্ণ গোস্বামী ভারত সম্রাটের সাথে আহার করেছিলেন। এই গোপীকৃষ্ণ গোস্বামীর তৃতীয় পুত্র ছিলেন রাজা কিশোরীরাল। তিনিও দানশীলতার জন্য জনপ্রিয় ছিলেন। তার পুত্র তুলসীচন্দ্র গোস্বামী মহা পন্ডিত ও বিদ্বান হিসেবে খ্যাত ছিলেন তৎকালে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এম এ ডিগ্রি লাভ করেন। দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাস গঠিত স্বরাজ্য দলে যোগদান করেন। এই পরিবারেই গত ৪২০ বছর ধরে দুর্গাপূজা হয়। শ্রীরামপুরে নতুন ও পুরোনো দুই গোস্বামী বাড়িতেই সাড়ম্বরে দূর্গাপূজা হয়।  

         
             
                                 দাস বাড়ির দুর্গাপূজা 

🔴  ২৩৬ বছরে পড়েছে দাস বাড়ির দুর্গাপূজা। এটাও শ্রীরামপুরের অন্যতম একটি প্রাচীন পূজা। পরিবারের পূর্বপুরুষ শ্রী পাঁচকড়ি দাস এই দুর্গাপূজা প্রতিষ্ঠা করেন। দেবী এখানে একচালা। সেই প্রাচীন টানা চোখের মাতৃপ্রতিমার মায়ামাখা মুখ সহজেই চোখে পড়ে। যত্ন সহকারে দাস বংশ এখনো ঐতিহ্য ও নিষ্ঠার সঙ্গে দূর্গাপূজা করেন। 

    
                       বজ্রযোগিনী র গুহ বাড়ির দুর্গাপূজা

🔴  শ্রীরামপুরের অন্যতম প্রাচীন দুর্গাপূজা হল বজ্রযোগিনী র গুহ বাড়ির পূজা। শ্রীরামপুর ও পরিবারের আদি বাসস্থান ঢাকার কাছে মুন্সীরগঞ্জ এলাকার বজ্রযোগিনী স্থানের পূজো মেলালে বাড়ির পূজো ১৩০ বছরের বেশি পুরানো। এই বাড়ির দূর্গা প্রতিমার বৈশিষ্ট্য প্রতিমার রং কিছুটা গোলাপী। এবং দেবী ত্রিপুরাসুন্দরী বা মহাবিদ্যা ষোড়শী র মতো একটা বাল্য আভা আছে। দেবী অনেকটা শিশু সুলভ। বজ্রযোগিনী তক্ষশীলা মহাবিহারের অধ্যক্ষ শ্রী অতীশ দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞানের জন্য বিখ্যাত। পাল যুগে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। বৌদ্ধ তন্ত্রে বজ্রযোগিনী বা উগ্রতারা একজন উপদেবী। তার নাম অনুযায়ী মুন্সীরগঞ্জ এলাকার অন্তর্গত ঐ স্থানের নাম হয়েছে বজ্রযোগিনী। 





বড়বাগান তরুণ সংঘ

🔴 বড়বাগান তরুণ সংঘের পূজা এবারে অভিনবত্বে ও মণ্ডপ সজ্জায় এক অনন্য রূপ পরিগ্রহ করেছে। থিম খাঁচার ভিতরে জীবন। আমরা কেউ না কেউ কোন বাঁধা ও মনবৃত্তির দুর্বলতায় বন্দী সেই খাঁচা থেকে মুক্তির বার্তা ছিলো বড়বাগানের থিম। প্রতিমা সাবেকি তবে প্রতিমার মধ্যে একটা বুদ্ধিদীপ্ত আধুনিকতার ছোঁয়া বর্তমান। 



শ্রীরামপুর মেরিনার্স র পূজো

🔴 শ্রীরামপুর মেরিনার্সের পূজো এবার ২৪ বছরে পড়লো। তাদের এবারের থিম মাতৃমন্দির। গ্রাম্য পরিবেশে শ্রী শ্রী মা সারদার বাড়ি ও তার বাণী কে সামনে রেখে থিম নির্মাণ করেছে শ্রীরামপুর মেরিনার্স ক্লাব। মূর্তির সজ্জা ও থিম নিয়ে অভিনবত্ব সত্যি প্রশংসনীয়। 







 এই রকম বিজ্ঞাপন দিতে

 যোগাযোগ করতে পারেন 

১ মাসের বিজ্ঞাপন খরচ

 মাত্র ৩০০ টাকা 






style="text-align: justify;">





মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

জালিয়াতি করে চলছে রেস্টুরেন্ট দোকানের মালিকের অভিযোগে বাতিল জাল ট্রেড লাইসেন্স

চন্দননগর ইস্পাত সংঘে চলছে টি সি এস এ চাকরির ট্রেনিং

বৈদ্যবাটী সীতারাম বাগানে দম্পতির রক্তাক্ত দে উদ্ধার