সমাজ এর শোষিত বঞ্চিত পিছিয়ে পড়া মানুষদের উন্নতি তাদের লেখা পড়া, চাকরি সংরক্ষণ ছাড়া কী সম্ভব?


 সমাজ এর শোষিত বঞ্চিত

 পিছিয়ে পড়া মানুষদের উন্নতি

 তাদের লেখা পড়া, চাকরি

 সংরক্ষণ ছাড়া কী সম্ভব? 

(মন্তব্য লেখকের নিজস্ব এর

 জন্য পত্রিকা দায়ী নয়)


শুভম কুমার হেলা



নোংরা নর্দমার ভেতরে ঢুকে জানকবুল লড়াই করে পরিবেশকে পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখার পরেও নেই তাদের মান সম্মান নেই ভালো বেতন। তাদের নেই থাকার ঘর। কোভিড কালে যখন সবাই ১০ বার দিনে হাত ধুতো ৪ বার স্নান করতো, তখনও নিজের প্রানের পরোয়া না করে নর্দমায় নেমে নোংরা পরিষ্কার করতেন যারা। তাঁরা সেই সময় অনেকেরই প্রান হারিয়েছেন কিন্তু তার পরও সরকার তাদের খোঁজ রাখেনি। তারা এখনো ঠিক সময়ে মাসিক বেতন পায় না। এদের বাড়ির ছেলে মেয়েরা কি করে বিদ্যালয় যাবে? পড়ার পরিবেশ পাবে কি করে?

যাদের খারাপ লাগে কেন এই সংরক্ষণ কেন। তারা সমাজের ঠিকাদার দের প্রশ্ন করেছে কি? কেন এই পিছিয়ে পড়া মানুষগুলো সমাজে অর্থনৈতিক ও সামাজিক মান মর্যাদা, সুযোগ থেকে বঞ্চিত? প্রতিবাদ করেছে কি তারা? কেন এক বিশেষ জাতির‌ সম্প্রদায়ের মানুষদের এই কাজ‌ করার জন্য যুগ যুগ ধরে বাধ্যতামূলক করা হয়? আজ সংবিধানের অধিকার পেয়ে একটু লেখাপড়া শিখে এই সমাজ একটু মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে। তাতে তাদের সমস্যা? অনেকে দলিত পিছিয়ে পড়া মানুষদের উপর অত্যাচার এর ইতিহাস না জেনে অনেক রকম মন্তব্য করেন। তাদের সবাইকে ভুল প্রমান করতে চাইছি না বা বোঝানোর চেষ্টা করছি না। কিন্তু ভারতের জাতি প্রথার বিন্যাস ও শূদ্র বলে এক অংশের মানুষের ওপর শোষণের ইতিহাস অনেকে জানেন না।কারণ নতুন প্রজন্মের মানুষ যারা আছেন তারা ইতিহাস জানে না। তাদের এই কথা মাথায় রাখতে হবে " সংরক্ষণ এর জন্য জাত পাত নয়। জাত পাত এর জন্য শোষিত বঞ্চিত অত্যাচারিত মানুষদের পায়ে দাঁড়ানোর জন্য তাদের মুল স্রোতে আনার জন্য সংরক্ষণ(Reservation) র অধিকার দেওয়া হয়েছে। ভারতীয় সংবিধানে সমতার অধিকার আর্টিকেল ১৫ এ বলা হয়েছে ভারতীয় সীমানার মধ্যে জাতি ধর্ম বর্ণ গোত্র লিঙ্গ নির্বিশেষে সকল ভারতীয়ের সমান অধিকারের কথা স্বীকার করা হয়েছে। আর্টিকেল ২১ প্রত্যেক ভারতীয় নাগরিকের ব্যক্তিগত জীবন ও অধিকার রক্ষার কথা বলা রয়েছে। 

তাহলে সমাজে এতো বৈষম্য কেন? শুধু অর্থনৈতিক উন্নতি নয় সামাজিক ন্যায় এর মাধ্যমে সমাজে এক সাথে নিজের চাহিদা অনুযায়ী থাকার অধিকার সেটা তো ভারতীয় সংবিধান সকল ভারতীয় নাগরিক কে দিয়েছে।

ইতিহাস ভুলতে নেই আর বর্তমান ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে সম্ভব। মনুবাদী সমাজে দলিত কে এভাবে বর্ণনা করা হয়। মনুবাদী গ্রন্থের পুরুষ শুক্তে বলেছে সৃষ্টিকর্তা ব্রহ্মার মুখ থেকে ব্রাহ্মণ, হাত থেকে ক্ষত্রিয়, দেহ থেকে বৈশ্য, ও পা থেকে শুদ্রের জন্ম হয়েছে। মনুবাদী সংস্কৃতি তে পা জিনিসটাকে অশুচি মনে করা হয়। তাহলে বুঝতে পারছেন কি রকম সমাজের পিছিয়ে পড়া শ্রেণীর প্রতি অবজ্ঞা ও বিদ্বেষ পোষণ করছে মনুবাদী উচ্চ বর্ণের সমাজ। 

মনু সংহিতা তাতে তো শুদ্রের অধিকার কেই সম্পূর্ণ ভাবে অস্বীকার করা হয়েছে। মনু সংহিতায় বলা হয়েছে শূদ্রের নিজস্ব সম্পত্তি ও পাকা ঘরের অধিকার নেই। ভাঙ্গা বাড়িতে থেকে পরের জন্য কায়িক শ্রম করাই তাদের উচিত। এই মনু সংহিতা নারীদের প্রতিও অসম্মানজনক মন্তব্য লেখা রয়েছে। বলা হয়েছে নারী জন্ম থেকেই বহুগামিনী( শরীরী কামনায় জর্জরিত ) তাই জন্মে পিতা, যৌবনে স্বামী, বার্ধক্যে পুত্রের অনুগত হয়ে থাকাই উচিত। মনু সংহিতা ভারতের বহুত্ববাদী চরিত্রের পরিপন্থী। তাই তো বাবাসাহেব আম্বেদকর পুড়িয়ে দিয়েছিলেন এই গ্রন্থ।

আজকাল পরিকল্পনা মাফিক একটি 

গুজব ছড়ানো হচ্ছে। সমাজে কোটা পদ্ধতির জন্য সমাজের একটি অংশের চাকরি সম্ভাবনা শেষ হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু আসলে সরকার নিজেকে পুঁজিবাদের চামচা হিসেবে পরিনত করেছে। লাগামহীন দুর্নীতি,এক এক করে ভারতীয়দের ট্যাক্সের টাকায় তৈরি হওয়া সরকারি সংস্থা রেল, ব্যাংক, বিমা, বিএসএনেল, ইত্যাদি রাষ্ট্রায়ত্ব ক্ষেত্রকে, সরকার বড় বড় পুঁজিপতিদের কাছে বিক্রি করছে। যার ফলে কাজ থেকে ছাঁটাই বাড়ছে, সামাজিক সুরক্ষা থাকছে না, আর ৮ ঘন্টা কাজের জায়গায় ১২ ঘন্টা কাজের নতুন শ্রম আইন সংশোধনের মাধ্যমে সরকার নিয়ে আসতে চলেছে বিজেপি সরকার। বিজেপি আজকাল মুখে নিজেদের পিছিয়ে পড়া শ্রেণীর বন্ধু হিসেবে দেখাচ্ছে কিন্তু ওরা হল বড়লোক উচ্চবর্ণের লোকেদের দল। একবার ক্ষমতা পেলেই সেই জাতি প্রথা আবার ফিরিয়ে আনবে। উত্তর প্রদেশে কি হয়েছে দলিত দের ধর্ষণ বেড়েছে। ওখানে তো ভাজপা সরকার। বিজেপি হিন্দুরাষ্ট্রের কথা বলছে, যেখানে সংবিধান বলতে ঐ মনুসংহিতাকে প্রতিষ্ঠা করতে চাইছে তারা। তাহলেই বুঝুন একবার বিজেপির ধোঁকায় ফাঁসলে দলিতদের অধিকার বলতে কিছুই থাকবে না। ঢোল গাঁওয়ার শূদ্র পশু নারী সকল তাড়ন কে অধিকারী মনুবাদী এই শ্লোক আছে। এর মানে ঢোল মানে ঢোলক, গাঁওয়ার মানে এঁড়ে লোক, শূদ্র মানে নিম্নসম্প্রদায়ের মানুষ, পশু, ও নারীকে তাড়ন মানে মারা উচিত। তাহলেই বুঝুন হিন্দু রাষ্ট্র একবার তৈরী হলে দলিত মানুষের কি হবে।

লড়াই কিন্তু দুদিকেই অর্থনৈতিক এবং সামাজিক দুই লড়াই কিন্তু লড়তে হবে। জাত পাত, প্রাদেশিকবাদ, ধর্মীয় মৌলবাদ কে আড়ালে করে মানুষের সব কিছু কেড়ে নিচ্ছে আর আমরা নিরব থেকে দেখছি।

 
bannerbanner




style="text-align: justify;">

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

জালিয়াতি করে চলছে রেস্টুরেন্ট দোকানের মালিকের অভিযোগে বাতিল জাল ট্রেড লাইসেন্স

চন্দননগর ইস্পাত সংঘে চলছে টি সি এস এ চাকরির ট্রেনিং

বৈদ্যবাটী সীতারাম বাগানে দম্পতির রক্তাক্ত দে উদ্ধার