দেশ জুড়ে শ্রদ্ধার সঙ্গে পালিত হল শ্রীকৃষ্ণ জন্মাষ্টমী
দেশ জুড়ে শ্রদ্ধার সঙ্গে
পালিত হল শ্রীকৃষ্ণ জন্মাষ্টমী
পুলক চক্রবর্তী,১৬ আগস্ট, শনিবার দেশ রাজ্য জুড়ে শ্রদ্ধার সঙ্গে পালিত হল শ্রীকৃষ্ণ জন্মাষ্টমী। এদিন মথুরা বৃন্দাবন, সহ দেশ জুড়ে শ্রী কৃষ্ণ জন্মাষ্টমী পালিত হয়। আজমেড়ে বিশেষ সাজে সেজেছিলেন কৃষ্ণ সেখানে বিশেষ শ্রীঙ্গার করা হয় এদিন। মহারাষ্ট্র ও দেশের অন্যপ্রান্তে দই র হাঁড়ি ভেঙে জন্মাষ্টমী পালিত হয়। এরাজ্যে মায়াপুরে জন্মাষ্টমী উপলক্ষ্যে বিশেষ পূজার আয়োজন করেছিল ইস্কন। মাহেশের কৃষ্ণ মন্দিরে শ্রদ্ধার সঙ্গে পালিত হয় জন্মাষ্টমী। আগ্রা তে জন্মাষ্টমী উপলক্ষ্যে বিশেষ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ছবি ধরা পড়ে প্রতিবছর এবারেও তার বিকল্প কিছু হয়নি। এবারেও হিন্দু ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ একসঙ্গে মিলে জন্মাষ্টমী পালন করেন। রাজস্থানের রাজপুত রাজা ভারমলের কন্যা যোধা বাইকে বিবাহ করেছিলেন সম্রাট আকবর। অন্য সম্প্রদায়ের হলেও স্ত্রীর ধার্মিক স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করেন নি। কথিত আছে যোধাবাই র ইচ্ছাতেই এককালে দুই সম্প্রদায় মিলে আগ্রা য় শ্রীকৃষ্ণ জমাষ্টমী পালন করা হচ্ছে। সেই ঐতিহ্য আজও অমলিন।
কানাইপুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় সুকান্ত পল্লী গ্রামে, সাবেকি ব্যানার্জি তথা বনেদি বাড়ির জন্মাষ্টমী পূজা মহা ধুমধাম এর সাথে পালন করা হচ্ছে। রবিবারও এই পূজা চলবে, সঙ্গে নন্দ উৎসব ও পালন করা হবে। জানা গেছে পূর্ববঙ্গের বরিশাল জেলায়, পাজি পুতি পাড়ায়, প্রথমে জন্মাষ্টমী পূজা শুরু হয়। দেশভাগের পর ব্যানার্জি পরিবার এখানে চলে আসার পরও এই পুজো বন্ধ হয়নি বলে জানান নতুন প্রজন্মের সদস্য অনামিকা ব্যানার্জি। পরিবার সূত্রে জানা গেছে প্রতিবছরের মতো ৫৬ ভোগ এবং শ্রীকৃষ্ণের পছন্দ অনুসারে ননী, ক্ষীর ,মিষ্টি, পোলাও, নোনতা পোলাও, বাসন্তী পোলাও, ঘি ভাত,১৮রকমের ভাজা ,২১ রকমের ফল সহ তুলসী নিবেদনে শ্রীকৃষ্ণের আরাধনায়, মহাসমারোহে সেজে ওঠে ব্যানার্জি বাড়ির নন্দ উৎসব তথা জন্মাষ্টমীর সাজ। ফুলের মধ্যে পদ্ম, গেদা, গোলাপ, রজনীগন্ধা, টগর, করবি, টিউলিপ, সূর্যমুখী, বেলী, জুই, কদম ফুল সকল রঙিন ফুলের সাজে শ্রীকৃষ্ণের বাল্য রুপ অর্থাৎ গোপালকে সাজানো হয়। একটি শিশুর জন্ম থেকে যা যা নিত্য প্রয়োজনীয় আমরা দিয়ে থাকি যেমন মশারি, বালিশ, চাদর, দোলনা, খেলনা,কেক, মিষ্টি, পায়েস, সকল কিছু দিয়ে পুত্ররূপে সাজানো হয় গোপাল কে। এমনকি হাতে তৈরি পিঠে, মালপোয়া, তালের লুচি, তালের বড়া, ছাড়াও কেক কাটা হয় সন্তান জ্ঞানে। বর্তমান গৃহ কতী শ্রীমতি পারুল ব্যানার্জি বলেন সব রকম ফল, পোলাও, তালের বড়া, মাখন, মোহনভোগ ইত্যাদি খাবার রান্না করে দেয়া হয় গোপালকে। গোপালের পরনে ধুতি, মাথায় মুকুট, গলার হার, কানের দুল, হাতে বালা, কোমরের কটিবন্ধন, পায়ে নুপুর পরানো হয়। এই উপলক্ষে ব্যানার্জি বাড়িতে জন্মাষ্টমীর ভক্তরা আসতে থাকে। কৃষ্ণের মঞ্চ আলোকমালায়, সেজে ওঠে। ফুল দিয়ে সাজানো হয় ছোট গোপালকে। রাতে প্রায় চার শত মানুষকে খাওয়ানো হয়। এরপর ছোট্ট বালক, বালিকাদের ভোজন করানো হয়। রাতে শ্রীকৃষ্ণের ভোগ দেওয়া হয়। এতে থাকে কেশর, সহ দুধ, লুচি, আলুর দম, পরমান্ন এবং আখরোট, আম আমন্ড, পেস্তা বাদাম। ভক্তদের কাছ থেকে শোনা যায় ব্যানার্জি পরিবারের কোন একজনকে ছোট্ট কৃষ্ণ স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন। এরপর থেকেই চলছে বছরের পর বছর জন্মাষ্টমী ব্রত। কথিত আছে এই দিনটাই ছোট্ট কৃষ্ণকে হাসতে দেখেন সবাই। নতুন প্রজন্মের মৈত্রী ব্যানার্জি, বিথীকা ব্যানার্জি, ইশানী ব্যানার্জি অশোক ব্যানার্জি, মঞ্জু ব্যানার্জি, অনিমা পাইন এবং সোমা চক্রবর্তী রা বলেন আমাদের মধ্যেই শ্রীকৃষ্ণ বা রাধেশ্বর শ্রীকৃষ্ণ গোপালের অবস্থান এই মনোভাব কে জাগ্রত করে তুলতে হবে। মানুষের মধ্যে ভক্তি প্রেমের ভাবধারা গড়ে তুলতে এবং শিশুদের মধ্যে ভগবানের অধিষ্ঠান কল্পনা করে জীব সেবায় নিয়োজিত হতে হবে আমাদের সকলকে ।
class="separator" style="clear: both; text-align: center;">.jpg)
এরকম বিজ্ঞাপন দিতে ইচ্ছুক হলে
আমার সঙ্গে যোগাযোগ করুন
খরচ মাত্র ৩০০ টাকা।


style="text-align: justify;">


মন্তব্যসমূহ