ধর্ষণের একটি রাজনৈতিক প্রকরণ আছে
ধর্ষণের একটি রাজনৈতিক
প্রকরণ আছে
মন্তব্য লেখকের নিজস্ব কোনভাবেই ব্যক্তিগত মতের জন্য পত্রিকা দায়ী নয়
মহাকাল ভৈরব
ধর্ষণের পেছনে একটি রাজনীতি আছে। বিতর্কিত হলেও বাস্তব এবং প্রকট বিষয়টি। সমাজবিজ্ঞান ও পলিটিকাল সায়েন্সর ছাত্র ছিলাম দুই সাবজেক্ট ই গ্রাজুয়েশনে ছিলো তাই সমাজের বিবর্তন ও তার রূপ সম্পর্কে কিঞ্চিৎ পড়াশুনার সুযোগ আমার কৈশোর যৌবনের মধ্যযামে পেয়েছি।
ইতিহাস জানে যখনই কোন সাম্রাজ্য ভেঙেছে আক্রান্ত হয়েছে বহিঃশত্রুর দ্বারা তখন প্রাথমিক ভাবে আক্রান্ত হয়েছেন নারীরা। শশাঙ্কের মৃত্যুর পর গৌড় আক্রমণ কারীরা নারীদের ওপর বন্য পশুর মতো ঝাঁপিয়েছিল। তাই শশাঙ্কের মৃত্যুর পর বাংলাকে মাৎসন্যায়ের যুগ বলা হয়। দীর্ঘ সময় রাঢ় বঙ্গ এই অত্যাচার দেখেছে। আজ ও দেখছে। আজ ও বোধকরি বাংলার বুকে মাৎসন্যায় নেমে এসেছে।
বিদেশে ধর্ষণ ও তার পেছনে রাজনীতি নিয়ে বিতর্কিত একটি বই লিখে সমাজের মুখোশ খুলে দিয়েছেন মার্কিন সমাজতত্ববিদ ডায়ানা রাসেল তার Politics of Rape (The Victim's Perspective) বইটি লিখে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র জুড়ে আলোড়ন ফেলে দিয়েছিলো বইটি। বইটিতে আক্রান্ত দের জবানী। কয়েকটি ভাগে ডায়ানা রাসেল দৃষ্টিভঙ্গি কে ভাগ করেছেন। প্রথমে তিনি লিখেছেন ধর্ষণ আক্রান্তের দৃষ্টিভঙ্গি, তারপর ধর্ষকদের মনোভাব, জাতি ও ধর্ম বর্ণ ভিত্তিক বিদ্বেষ ও ধর্ষণ, ধর্ষণ ও সমাজ এতগুলি বিষয়টিকে। আমি বইটির প্রচার করছি না তাই বিস্তারিত আলোচনা করবো না। তবে যে নাড়িয়ে দেওয়া তথ্য লিখেছেন ডায়ানা সেটা হল ধর্ষণের পেছনে মূল যে বিষয়টি কাজ করে সেটা হল সব কিছু নিয়ন্ত্রণের আগ্রাসী মনোভাব। শুধুমাত্র দৈহিক চাহিদার জন্য ধর্ষন হয়না। তাহলে ভয়াবহ শারীরিক নিগ্রহের পেছনে কোন যুক্তি খুঁজে পাওয়া যাবেনা। এর পেছনে আছে বিপরীত লিঙ্গের মানুষটার প্রতি আত্ম বিস্মৃত ঘৃণার প্রকাশ।
ডায়ানার দেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে শ্বেতাঙ্গ কৃষ্ণাঙ্গ বিদ্বেষ আছে। তাই শ্বেতাঙ্গ কৃষ্ণাঙ্গ বিদ্বেষকে প্রকট ভাবে দেখিয়েছেন ডায়ানা। ৯/১১ র পর ডায়ানার দেশে তীব্র ইসলাম বিরোধিতা শুরু হয় ধর্ষক মনোভাবে এই প্রকরণ গুলোর প্রভাব হচ্ছে সেটা ঐ দেশের ক্রাইম ইনডেক্স দেখলে প্রকট হয়। কিন্তু ভারতে? ডায়ানা তার বইতে এটার ও উত্তর দিয়েছেন। সেটা হল জাতি বিদ্বেষ। ভারতে ৮০% তফশিলী জাতি ও উপজাতির মানুষ হলেও। সমাজে গুটি কয়েক ভুস্বামী উচ্চ বর্ণের মানুষ যাদের কাছে সম্পদ আছে। তারা চায় এই আশি শতাংশ গরীব তফশিলী মানুষের ওপর আধিপত্য বজায় রাখতে। আধিপত্য বজায় রাখতেই ধর্ষণ একতা অস্ত্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়। যেহেতু উত্তর ভারতে উচ্চ বর্ণের মানুষের জমিজমা আছে আর্থিক ভাবে তারা সম্পন্ন তাই তারা রাজনৈতিক সম্পর্কের জোরে তাদের এই হিংস্রতা বজায় রাখে। স্বঘোষিত গড ম্যান দের ক্ষেত্রে অন্ধ বিশ্বাস একটা অস্ত্র। তাদের ব্যবসার ভিত্তি টিকে আছে এটা ওপরেই। তারা মনে করে ব্যাপক জনসমর্থনের জোরে তারা যা খুশি করতে পারবে। ভারতবর্ষে এই দুই প্রকরণ খুব ই প্রকট।
কিন্তু আজকাল একটা প্রকরণ দেখা দিচ্ছে যেটা চিন্তা বাড়াচ্ছে। কেন শিক্ষার মন্দিরেই ধর্ষণ হচ্ছে? লক্ষ্য করে দেখবেন যে যে প্রতিষ্ঠানে ধর্ষণের মতো জঘন্য ঘটনা ঘটেছে সবকটি সরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। যারা ধর্ষিতা বা খুন হয়েছেন তারা মধ্যবিত্ত বা নিম্নবিত্ত পরিবারের। আমি অভয়ার ঘটনার পরে এটা আগেও লিখেছি আবার বলছি সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কে রুগ্ন ও ধ্বংস করে ছাত্রছাত্রীদের বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের দিকে ঠেলে দেবার রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র। কেন বলছি? একটা উদাহরণ দিই। বিগত দশ বছরে আইন, চিকিৎসা ক্ষেত্রে প্রচুর বেসরকারি কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় তৈরী হয়েছে রাজ্যে। ক্যাপিটেশন ফি অনুষাঙ্গিক খরচের বিরাট ফর্দ ধরিয়ে একেকটি কোর্সের পাঁচ দশ লক্ষ টাকা স্টুডেন্ট পিছু নিচ্ছে প্রতিষ্ঠান গুলি। ডাক্তারিতে সেটা ৫০-৬০ লক্ষ্যের ও বেশি হয়ে উঠেছে। কিন্তু তাও একটা বড় অংশের ছেলেমেয়ে খেটে পরীক্ষা দিয়ে দেশ জুড়ে সরকারি ইনস্টিটিউট গুলিতে চান্স পাচ্ছে। তাই কি আই আই এম জোকা, সাউথ কলকাতা ল কলেজ, আর জি করের কান্ড গুলি ঘটানো হচ্ছে? উত্তর জানা নেই তবে এর পেছনে যে একতা গুরুতর সম্পর্ক আছে সেটা বোঝা যাচ্ছে।
আর জি করের ঘটনাও শুধুমাত্র চাহিদা মেটানোর বিষয় ছিলোনা। ষড়যন্ত্রের শরিক যে সরকার সেটা ছত্রে ছত্রে প্রমাণিত। এখনো আর জি করের ভিসেরাল স্যাম্পেল ও ডি এন এ টেস্টের সঠিক রিপোর্ট সামনে এলোনা। দোষী দের খুঁজে শাস্তি দেওয়া গেলোনা। আইনি জটে শুধু তারিখের ওপর তারিখ পড়লো আদালতে। এখন মনোজিৎ ইস্যুতে একতা নতুন অংক সাজানো হচ্ছে যে মনোজিৎ মানসিক বিক্রগ্রস্থ। যাতে ধর্ষণ কে লঘু করে দেখানো যায়। কারণ ভারতীয় আইনে পাগলের বা মানসিক বিকারগ্রস্থ র শাস্তি হয়না। পুরোপুরি মানসিক ভাবে সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত আইনত শাস্তি দেওয়া হবেনা। ফলে আদি অনন্তকাল কেস টা আদালতে ঝুলিয়ে রাখা যায়।
সন্দীপ ঘোষ মনোজিৎ মিশ্র দের তোয়াজ করে শাসক দল তার ব্যবসায়িক স্বার্থ কে অক্ষুন্ন রাখতে। কেন? কলেজ গুলিতে আজ প্রাক্তন ছাত্র রা ছাত্র সংসদের দখল নিয়েছে। বছরের পর বছর ক্যাম্পাসে নির্বাচন হয়না কেন? কেন র একটাই উত্তর তোলাবাজি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ছাত্র বহুদিন আগে আমাকে বলেছিলো ভর্তির সময় সরাসরি তোলা তোলা হয়না। তোলার টাকা ভর্তির খরচের সাথে জুড়ে দেওয়া হয়। এটা একটি প্রতিষ্ঠানিক ষড়যন্ত্র। এই টাকার ২৫ শতাংশ পেয়ে মনোজিৎ রা ক্যাম্পাসে দাদাগিরি মোচ্ছব করে। আর ৭৫ শতাংশ জমা পড়ে পার্টি ফান্ডে। একটাই কারণে মনোজিৎ মিশ্র সন্দীপ ঘোষ দের দাপট অক্ষুন্ন থাকে। সেটা হল সরকারের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক ও সরকারের বড় কোন নেতাদের হাত তাদের মাথাতে আছে।
আসলে পশ্চিমবঙ্গে ধর্ষণ হল রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত মানুষকে বশে রাখা ভয় দেখানোর চেষ্টা। ক্যাম্পাসে ক্যাম্পাসে যা আয় হয় তার চেয়ে বেশি হয় ইলেকটোরাল বন্ড থেকে। বেসরকারি হাসপাতাল, মেডিকেল কলেজ, বেসরকারি ল কলেজ যারা ইলেকটোরাল বন্ডে টাকা দিয়েছে তাদের স্বার্থ দেখতে হয়। তাদের কায়েমি স্বার্থের উদগ্র বহিঃপ্রকাশ ছাড়া এটা কিছু নয়। জাতীয় শিক্ষানীতি শিক্ষার বেসরকারিকরণ কে গতি দিয়েছে। আর পশ্চিমবঙ্গের সরকার তাকে উল্কার গতিতে এগোতে চাইছে। নাহলে সরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে একেকটি ( জানোয়ার ) দের গলায় লাগাম দেবার ব্যাপারে সরকার ভাবতো।
style="text-align: justify;">



মন্তব্যসমূহ