বিলম্বিত ন্যায়বিচার -- বিলম্বিত বোধোদয়
বিলম্বিত ন্যায়বিচার
--
বিলম্বিত বোধোদয়
আইনজীবী বিশ্বজিৎ মুখার্জী
*কথামুখ*
সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে যে ভারতের শীর্ষ আদালতের মাননীয় প্রধান বিচারপতি সমগ্র বিচার ব্যবস্থার পরিবর্তন চাইছেন, কারণ তাঁর মনে হয়েছে ভারতের বর্তমান বিচারব্যবস্থা সাধারণ নাগরিকদের ন্যায়বিচার দিতে সক্ষম নয়। এই বিষয়বস্তুটি নিয়ে এখন ভারতের শীর্ষ আদালত থেকে বলা হলেও বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘকাল ধরে নানান মহলে নানান চর্চা চলছে। মানুষ দিনের পরে দিন আদালতের কাছে তাদের প্রাপ্য ন্যায়বিচার পেতে গিয়েছে, কিন্তু তারা ন্যায় বিচার পায়নি, তাদের সাংবিধানিক অধিকার, তাদের বেঁচে থাকার অধিকার, সমস্ত কিছুই মুছে গিয়েছে। তারা জীবনে কিছুই পায়নি। আমাদের দেশে যারা অর্থবান, তারা বুঝে গিয়েছে যে সমস্ত আইনই তাদের জন্য।
হালফিলে একটি বলিউড সিনেমা ভারতের মানুষের মনে যথেষ্ট প্রভাব ফেলেছে। সিনেমাটি হচ্ছে ‘জনি এলএলবি’। সিনেমার মোদ্দা বিষয়টি কী? প্রশাসনের কাছে ন্যায় পাওয়ার আশায় দীর্ঘ প্রতীক্ষার পরেও মানুষ যখন তা পান না, প্রশাসনের গাফিলতিতে দুর্নীতি ও খুনখারাপি চলতেই থাকে, মানুষের সবরকম সাংবিধানিক অধিকার যেখানে রাষ্ট্র-ব্যবস্থা দ্বারা পদদলিত হয়, সেখানে আদালতে গিয়ে মানুষ যথাসময়ে ন্যায়বিচার পাবেন ভেবে খানিকটা স্বস্তি অনুভব করেন। এক বিচারপতি জানাচ্ছেন, এখনো যদি দুটি মানুষের মধ্যে কোন ঝগড়াঝাঁটি হয়, তাহলে তাঁরা পরস্পরকে আদালতে গিয়ে দেখে নেওয়ার হুমকি দেন। ভারতের মানুষের মনে একটা ধারণা আছে, বিচার-ব্যবস্থার কাছে গেলে যে কোনও সমস্যার সুরাহা হয়। অথচ এই ধারণাটাই বিচার-ব্যবস্থার দীর্ঘসূত্রিতায় আজ ক্রমাগত ধাক্কা খাচ্ছে। সমাজের অত্যন্ত গভীরে এই ধাক্কাটা পৌঁছাচ্ছে।
সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্টের নিজস্ব ওয়েবসাইটে আপলোড করা এক বিচারপতির দিল্লির সরকারি বাংলোয় আগুন লাগার পরে সেখান থেকে পাওয়া আধপোড়া টাকার বান্ডিলের ভিডিয়ো যেন ভূমিকম্পের মতো আপামর ভারতের মানুষের মনে নাড়া দিয়েছে। স্বচ্ছ ভারত, নির্মল নদী, নির্মল শহর এরকম অনেক কথা আমরা শুনেছি। কিন্তু ভারতের গণতান্ত্রিক পরিকাঠামোর মধ্যে দাঁড়িয়ে স্বচ্ছ বিচার-ব্যবস্থার ধারণাটি আজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। রাষ্ট্র-ব্যবস্থায় সৃষ্ট নানান নাগরিক সমস্যার সমাধানে মানুষ যখন প্রশাসনিক ভাবে সন্তুষ্ট হতে পারেন না, তখন বিচারবিভাগের কাছে হাজির হন নিজেদের সাংবিধানিক মৌলিক অধিকার রক্ষার জন্য। মানুষের সাংবিধানিক অধিকার রক্ষায় স্বচ্ছ বিচার-ব্যবস্থা একটি অত্যন্ত জরুরি শর্ত।
*পরিস্থিতি ভিন্ন, চিত্র এক*
ভারতজুড়ে যে সব মানুষ ন্যায়ের জন্য বিচারবিভাগের দ্বারস্থ হয়েছেন, তাঁদের বৃহত্তর অংশ শ্রমজীবী হতদরিদ্র, বা পরিবেশ-বিপর্যস্ত নাগরিক, অথবা মানবাধিকার লঙ্ঘনের সমস্যায় জর্জরিত। নিচের কয়েকটি উদাহরণেই স্পষ্ট হবে কীভাবে ভারতবর্ষের শ্রমজীবী হতদরিদ্র মানুষ বিচারের আশায় আদালতে মাথা খুঁড়ছেন, জীবিত অবস্থায় তাঁরা হয়তো কোনদিনই ন্যায়বিচার পাবেন না, কারণ তাঁদের হয়ে বলার জন্য নামিদামি আইনজীবী নেই। সমস্ত নামিদামি আইনজীবীই ধনীর পক্ষে আাদালতে দাঁড়িয়ে তাঁদের ঘোর ব্যস্ততার কথা উল্লেখ করে ফের নতুন শুনানির দিন নিয়ে চলে যান। ফলত বিচার থমকে থাকে।
• চন্দননগরে গোন্দলপাড়া চটকলে মালিকপক্ষ-চালিত একটি প্রাইমারি স্কুলের মাষ্টারমশাই মুনাপ্পা সুব্বারাও অবসর নিলেও গ্র্যাচুইটি পাননি। শ্রমদপ্তর মালিককে গ্র্যাচুইটি দিতে বললেও দেয়নি। সুব্বারাও উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হন ২০১৫ সালে। কিন্তু প্রশাসন কোনও ব্যবস্থা নেয়নি। মাষ্টারমশাই আজ আর বেঁচে নেই। এমন অসংখ্য শ্রমিক উচ্চ আদালতে মামলা করেছেন। মামলা সেখানে বস্তাবন্দি হয়ে পড়ে আছে।
• ২০১৩ সালে শব্দবাজির প্রতিবাদ করে যে সমস্ত ব্যক্তি আক্রান্ত হন এবং মারা যান, তাঁদের জন্য ক্ষতিপূরণ চেয়ে উচ্চ আদালতে মামলা হয়। কিন্তু সেই মামলার আজও নিষ্পত্তি হয়নি। অতীতে শব্দবাজির প্রতিবাদ করতে গিয়ে প্রথম আক্রান্ত হন দীপক দাস। তাঁকে কলকাতা উচ্চ আদালত ও দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের উদ্যোগে ‘শব্দ শহিদ’ ঘোষণা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়। কিন্তু ২০১১ সাল পর্যন্ত এই ধরনের আক্রান্ত ব্যক্তিদের পাশে প্রশাসন দাঁড়ালেও ২০১৩ সাল থেকে তা বন্ধ হয়ে যায়।
• ২০১৪ সালে মিনাখাঁ-য় সিলিকোসিস-এ আক্রান্ত ব্যক্তিদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার জন্য উচ্চ আদালতে যে জনস্বার্থ মামলা রুজু হয়, আজও তার নিষ্পত্তি হয়নি। মিনাখাঁজুড়ে মৃত্যুমিছিল অব্যাহত। এই মৃত্যুর জন্য দায়ী কারখানাগুলির বিরুদ্ধে প্রশাসন কোনরকম ব্যবস্থা নেয়নি। অথচ একদা হাই কোর্টের আদেশে সিলিকোসিস-এ আক্রান্ত ব্যক্তিদের ক্ষতিপূরণের জন্য মালিকের বাড়ি, সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণের বন্দোবস্ত করা হয়েছিল।
• ২০১৭ সালে প্রবীণ নাগরিকরা হাই কোর্টে এক জনস্বার্থ মামলা করেন। তাঁদের দাবি ছিল, প্রবীণ নাগরিকদের সুরক্ষার জন্য ২০০৭ সালে প্রণীত আইন মোতাবেক প্রত্যেক জেলাতে সরকারি উদ্যোগে একটি বৃদ্ধাশ্রম হোক, যেখানে প্রান্তিক প্রবীণ মানুষরা আশ্রয় পেতে পারেন। এই লেখার সময় পর্যন্ত বিচারপতিরা এই মামলা শোনার সময় করে উঠতে পারেননি।
• ২০১৭ সালে বিভিন্ন কারখানার অবসরপ্রাপ্ত শ্রমিকরা তাদের ন্যূনতম প্রভিডেন্ট ফান্ড, পেনশন বাড়ানোর জন্য কেন্দ্রীয় সরকারকে অনুরোধ করলে কেন্দ্রীয় সরকার জানায়, পেনশন বৃদ্ধির দাবি যথার্থ হলেও তা বাড়ানো সম্ভব নয়, কারণ সরকারের অর্থ নেই। শ্রমিকদের ন্যূনতম পেনশন ১০০০ টাকার বেশি দেওয়া যাবে না। যদিও ২০১৭ সালের পরে জনপ্রতিনিধিদের পেনশন বৃদ্ধি হয়েছে, কিন্তু শ্রমজীবীদের পেনশন বৃদ্ধির ব্যাপারে সরকারের যত অনিচ্ছা। ভারতীয় সংবিধানের বিশ্লেষণ অনুযায়ী সরকারকে এমন একটি পেনশন দিতে হবে, যাতে একজন প্রবীণ নাগরিক তাঁর পরিবার নিয়ে বেঁচে থাকতে পারেন সুস্থভাবে। বর্তমানে মাত্র ১০০০ টাকায় প্রবীণ দম্পতিদের আধমরা হয়ে বাঁচতে হচ্ছে, কারণ সরকারের টাকা নেই। হাই কোর্টেরও সময়াভাবে প্রবীণ নাগরিকদের জনস্বার্থ মামলা শোনা হয়ে ওঠে না।
• ২০১৬ ও ২০১৮ সালে পরিবেশ-কর্মিরা হাই কোর্টে জলাভূমি ভরাটের বিরুদ্ধে মামলা করলে হাই কোর্ট জলাভূমি সংরক্ষণের আদেশ জারি করে। কিন্তু সেই আদেশ প্রশাসন পালন করল না। তার ফলে ২০১৮ সালে হাই কোর্ট অবমাননার মামলা হল। কিন্তু আজও তার শুনানির জন্য বিচারকরা ফুরসত পাননি।
• বিভিন্ন সাঁতার-প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে কোনরকম নিয়মনীতি না থাকায় ক্রমাগত শিশুমৃত্যু হচ্ছে বলে ২০১৮ সালে হাই কোর্টে একটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়। কিন্তু আজ পর্যন্ত রাজ্য সরকার সাঁতার-প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলি সম্পর্কে কোন নিয়মনীতি স্থির করতে পারেনি। অন্যান্য রাজ্যে সাঁতার-প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে যে সমস্ত নিয়মনীতি মানা হয়, তা পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রেও সরকারি ভাবে কার্যকারী করা হোক বলে যে দাবি করা হয়েছিল, তা-ও গৃহীত হয়নি। পাঁচ বছর পেরিয়েছে, একটা দিনের জন্যও আদালতে এর শুনানি হয়নি।
*তবু জাগে আশা*
সুপ্রিম কোর্ট বা হাই কোর্টে শ্রমজীবী মানুষের দায়ের করা মামলায় বিচারপতিরা বহুক্ষেত্রে যুগান্তকারী রায় দিয়েছেন মানুষের মানবাধিকার এবং পরিবেশ সংরক্ষণের ক্ষেত্রে বা অসহায় মানুষের জীবন-জীবিকার স্বার্থে। সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি আক্ষেপ করেছেন বিলম্বিত বিচারের বিষয়টি নিয়ে। বিলম্বিত বিচার প্রকৃতপক্ষে ন্যায়ের পরিপন্থী। কলকাতার উচ্চ আদালতের কয়েকজন বিচারপতি জানিয়েছেন, বিচারপ্রার্থীরা ইচ্ছে করলে আদালতে বাংলা ভাষায় তাঁদের আর্জি জানাতে পারেন। ভারতবর্ষের অন্যত্রও দেখা যাচ্ছে হিন্দি ভাষা বা অন্যান্য আঞ্চলিক ভাষাতেও সওয়াল-জবাব হচ্ছে। সম্প্রতি কলকাতা উচ্চ আদালতের কয়েকটি বিচার প্রক্রিয়ায় বিচারপতিরা সাধারণ মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা, সমস্যাকে সামনে তুলে ধরে দুর্নীতি দূর করে ন্যায়বিচারের চেষ্টা করেছেন।
কয়েকটি ঘটনা মনে পড়ে। বিহারের প্রায় ৭০০ জন শ্রমিককে একবার রাজ্য সরকার আর্থিক দুরবস্থার জন্য বেতন দিতে পারেনি। শ্রমিকরা আদালতের শরণাপন্ন হন। মামলাটি বিচারপতি কুলদীপ সিং-এর এজলাসে উঠলে তিনি বললেন, সরকারের আর্থিক অবস্থা যখন এতই খারাপ তখন বিহারের মুখ্য সচিবেরও বেতন বন্ধ থাকুক। সরকার যখন এই গরিব শ্রমিকদের বেতন দিতে পারবে, সেদিন তাঁরও বেতন হবে। মুহূর্তে সমস্ত অবস্থার পরিবর্তন হয়ে শ্রমিকরা অল্প কয়েকদিনের মধ্যেই বেতন পেলেন। গোন্দলপাড়া চটকল-এর ন্যায্য গ্র্যাচুইটি না পাওয়া কয়েকজন শ্রমিককে ক্রেতা সুরক্ষা আদালত মালিককে ন্যায্য পাওনা মিটিয়ে দিতে আদেশ দিলেও চটকলের মালিক তাঁদের টাকা দেয় না। উপরন্তু হাই কোর্টে বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত-এর এজলাসে মামলা করে। বিচারপতি চটকলের মালিককে নির্দেশ দেন, অবসরপ্রাপ্ত শ্রমিকদের ন্যায্য অবসরকালীন পাওনা সাত দিনের মধ্যে মেটাতে। আবার এটাও দেখা গিয়েছে, আদালতে যখন জন-আদালতের মতো দ্রুত বিচার-ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে দুর্নীতি বন্ধ করার চেষ্টা করা হচ্ছে, প্রান্তিক মানুষ ও শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি-দাওয়া মেটানোর চেষ্টা হচ্ছে, তখন বহু জায়গাতে গেল গেল রব উঠছে। বিচার-ব্যবস্থা ও প্রশাসন জনমুখী না হলে ‘অফ দ্য পিপল, বাই দ্য পিপল, ফর দ্য পিপল’ এই বাক্যবন্ধনী ব্যর্থ হয়ে গণতন্ত্র ধ্বংস হবে।
*অতঃকিম্*
‘ব্ল্যাক জাস্টিস’ নামে এক তথ্যচিত্রে জানা গিয়েছে, এই মুহূর্তে ভারতে মহকুমা আদালত, জেলা আদালত, হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোর্ট মিলিয়ে প্রায় ৫ কোটি মামলা থমকে রয়েছে সুবিচারের আশায়। এসব মামলার প্রতিটির সঙ্গে কমবেশি ৬জন মানুষ জড়িয়ে আছেন। অর্থাৎ প্রায় ৩০ কোটি মানুষ (আমেরিকা বা ১৫টি অস্ট্রেলিয়ার জনসংখ্যার সমান) সুবিচারের অনন্ত অপেক্ষায় রয়েছেন। এছাড়াও রয়েছে বিভিন্ন প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল। এসব ট্রাইব্যুনালেও আরও প্রায় ৫ কোটি মামলা ঝুলে রয়েছে। এর মানে ১০ কোটি মামলায় প্রায় মোট ৬০ কোটি মানুষ (ভারতের জনসংখ্যার প্রায় ৪৩%) সুবিচারের দিন গুনছেন। পৃথিবীতে ভারত ও চিন ছাড়া আর কোন দেশে এত মানুষ নেই। এই কারণেই আরজিকর সহ ভারতের অন্যান্য অঞ্চলে কোন অপরাধ সংঘটিত হলে মানুষ আওয়াজ তোলেন ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’। ভারতবর্ষের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া আগামী দিনে টিকবে কি না, মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার থাকবে কি না, তা সবটাই নির্ভর করছে বিচার-ব্যবস্থার স্বচ্ছতার ওপর, দ্রুতলয়ে বিচারের বাণী শোনানোর ওপর। নইলে সেদিন আর বেশি দেরি নেই, যখন পৃথিবীর এই বৃহত্তম গণতন্ত্র ‘ব্যানানা ডেমোক্রেসি’ হয়ে দাঁড়াবে। আইনি জগতে একটি চালু কথা আছে – ‘জাস্টিস ডিলেইড, জাস্টিস ডিনায়েড।’ এই ১০ কোটি বকেয়া মামলার নিষ্পত্তি হতে কত সময় লাগবে! এটি আদৌ সম্ভব তো! রবীন্দ্রনাথ আক্ষেপ করে বলেছিলেন- ‘বিচারের বাণী নীরবে নিভৃতে কাঁদে।’ আজ বিলম্বিত ন্যায়বিচারে প্রান্তিক মানুষ নীরবে নিভৃতে কাঁদেন। সময় এসেছে দ্রুত বিচারের দাবিতে নাগরিক সমাজের পথে নেমে বৃহত্তর আন্দোলনের।
style="text-align: justify;">


মন্তব্যসমূহ