এক গুচ্ছ প্রকল্পের উদ্বোধন করেও ফাঁক থেকে গেলো মুখ্যমন্ত্রী র সিঙ্গুরের সভায়
এক গুচ্ছ প্রকল্পের
উদ্বোধন করেও
ফাঁক থেকে গেলো
মুখ্যমন্ত্রী র
সিঙ্গুরের সভায়
মহাকাল ভৈরব
সিঙ্গুরের সভা থেকে এক গুচ্ছ প্রকল্পের উদ্বোধন করলেন পশ্চিমবঙ্গের মূখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সব কি ঠিক হল? এদিন বাংলার বাড়ির দ্বিতীয় ধাপ উদ্বোধন হয় যার প্রকল্প মূল্য ২৪১৮০ কোটি, উদ্বোধন হল ঘাটাল মাস্টারপ্ল্যান, ৫০ টি নতুন সুফল বাংলা বাহন, ৮০ কোটির বাংলার শষ্য বীমা, ২২ টি জেলার ৪৭৬০ জন কে পাট্টা দেন মুখ্যমন্ত্রী। কিন্তু এতকিছুর মধ্যে কিছু ফাঁক তো রয়েই গেলো।
এদিন সিঙ্গুরের সভায় মুখ্যমন্ত্রী বলেন " আমি যদি কথা দি আমি কথা রাখি ১০০% আমি ডবল ইঞ্জিন সরকার নই আমার সরকার মানুষের সরকার। কন্যাশ্রী কতদিন আগে চালু করেছি বন্ধ হয়েছে? কোনোদিন হবেনা। কন্যাশ্রী সম্পর্কে বলেন ফার্স্ট ফেজ হয়েছে সেকেন্ড ফেজ হয়েছে ইউনিভার্সিটি পর্যন্ত থার্ড ফেজ ও হবে। স্মার্ট কার্ড স্টুডেন্ট দের ১০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত করে দেওয়া হয়েছে। ক্লাস নাইনে উঠলে সবুজ সাথীর সাইকেল ক্লাস ইলেভেনে উঠলে ট্যাব টোটাল জিনিসটা বিনা পয়সায় করা হচ্ছে। বাংলার শষ্য বীমা যাদের চাষ বাস নষ্ট হয়ে যায় তাদের আমরা টাকা দিই। আশা আই সি ডি এসের জন্য মনে রাখবেন সাহেব ১০ হাজার টাকা করে দিয়েছি স্মার্টফোন কেনার জন্য। ওরা অনেক কাজ করেন।"
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক আশা কর্মী জানান, " ১০০০০ টাকা করে সরকার থেকে আই সি ডি এস কর্মীদের দেওয়া হয়েছে তাও অনেক চার বছর ধরে আন্দোলনের পরে। তাও অনেক শর্ত আরোপ হয়েছে এটা কেন্দ্রের টাকা এতদিন ধরে ঝুলিয়ে রেখেছিলো। অনেক গুলো শর্ত চাপানো হয়েছে মোবাইল দেবার পর। মোবাইল কিনে রশিদ জমা দিতে হবে সরকারের কাছে। ফোন ভেঙে গেলে সারানোর দায়িত্ব কর্মীর। ফোন হারিয়ে গেলে শাস্তি পেতে হবে কর্মীকে। মুখ্যমন্ত্রী কে পাঠানোর জন্য একটা শুভেচ্ছা বার্তা দেওয়া হয়েছে। এই সব নিয়ম মানলে তবেই মিলবে স্মার্টফোন।"
মুখ্যমন্ত্রী বলেন কৃষকদের ১০০০০ টাকা করে দি। যাদের ১ কাঠা জমি আছে তাদের ৪০০০ টাকা করে দি। ৪০০০ কোটি টাকার বেশি ক্ষতিপূরণ দিয়েছি। কৃষি জমি থেকে শুরু করে ৭ লক্ষ লোককে পাট্টা দিয়েছি ২৯০ টি উদ্বাস্তু কমিটিকে স্বীকৃতি দিয়েছি।
এদিন মূলগ্রামের জমি হারানো বৈধ পাট্টাদার সাগর ভূমিজ বলেন টিভিতে দেখলাম মুখ্যমন্ত্রী গরীব দের পাট্টা দেবার কথা বলেছেন। কিন্তু এই হুগলী জেলার মূলগ্রামে আমাদের তো পাট্টা কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। আমি দিদিকে বলো তে জানিয়েছি ওনারা বি এল আর ও কাছে যেতে বললো। কিন্তু কার্যত আমাদের তফশিলী আদিবাসী দের অধিকার জমি কেড়ে নেওয়া হচ্ছে।
বিজেপি কে রোখার শক্তপোক্ত বার্তা দিলেও চাপা অস্বস্তি পিছু ছাড়লো না। যতই যাই হোক সিঙ্গুরে শিল্পের আশ্বাস দিতে পারেনি বিজেপি। মানুষের প্রত্যাশা ছিলো হয়ত পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শিল্পের বিষয়ে কোন আশার আলো শোনাবেন। কিন্তু ওয়্যার হাউস আর আমাজন ফ্লিপ কার্ট ছাড়া কোন আশার কথা শোনাতে পারলেন না। হুগলী জেলার বিভিন্ন অস্বস্তির কাঁটা শাসক দল এড়িয়ে গেলেও তার ঝাঁজ যে তীব্র বুঝতে অসুবিধা হয়না।
তিনি বলেন কৃষিও চলবে শিল্প চলবে কিন্তু কৃষিজমি নষ্ট করে নয়। এখানে আমাজন ফ্লিপ কার্ট ব্যবসা করবে ওয়্যার হাউস হবে। বেকার দের কাজ হবে বলে ঘোষণা করলেন কার্যত কারখানা হওয়া নিয়ে কিছু বললেন না। এদিন সবচেয়ে বড় চমক ছিলেন ঘাটালের সাংসদ অভিনেতা দীপক অধিকারী ও হুগলীর সাংসদ রচনা ব্যানার্জী। বহু স্কুল থেকে ছাত্রছাত্রী রা এসেছিলো।

মন্তব্যসমূহ