নিছকই একটা গল্প! না অন্য কিছু?

নিছকই একটা গল্প!

না অন্য কিছু?

সীতাংশু মজুমদার




শ্যামবাজার এ দত্ত বাড়ি, প্রতিষ্ঠিত এবং বনেদী। সে বাড়ি র ছোট ছেলে সত্য সাধন। কমপিউটার সায়েন্সের ছাত্র ছিলেন। কিছু দিন বিদেশে ঘুরে এসেছেন। 

বর্তমানে একটা বড় কোম্পানি র উচ্চপদে আছেন। তিনি একটু বেশি বয়সে বিয়ে করেন। তাঁর'ই মেয়ে পরমা।

পরমা তখন উচ্চ মাধ্যমিক দেবে। হঠাৎ ভোরে পরমা'র বাবা অসুস্থ হয়ে পড়লে ডাক পড়ে পাড়ার ছেলে দেবু আর গৌতমের। তারা দুজনে ডাক্তার ডাকা থেকে নার্সিং হোম সবটাই নিজেদের দায়িত্বে করে। পরমার সাথে তখনই আলাপ।

বাবা হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে স্বাভাবিক ভাবে ই মেয়ে হিসেবে পরমা দুঃশ্চিন্তাগ্রস্থ হয়েছে। দেবু দা গৌতম দা তাকে সান্তনা দেয়। তুমি চিন্তা করো না বাবা ভালো হয়ে যাবে। 

নার্সিং হোম থেকে ছাড়া পেলেও পরমার বাবা আর স্বাভাবিক কাজ কর্মে যেতে পারেন না। ফলে জমানো পুঁজি তে হাত। পরমা তখন কলেজে পড়ে। একদিন দুপুরে, সম্ভবতঃশনিবার হবে এবং সে দিন গৌতমের অফিস ছিলো না। গৌতম দেবাংশু কে বাড়ি তে ডেকে জিজ্ঞেস করলো, চাকরি করবি? আমাদের অফিসে সেলস ম্যানেজার নেবে। তুই তো পড়াশোনায় ভালো, চল না!

গৌতম বহু জাতিক সংস্থার ডেপুটি ম্যানেজার পদে আছে। বেশ কয়েকদিন বাদে এক সকালে গৌতমের অফিস এর গাড়ি করে তার অফিসে গিয়ে দেবাংশু আবেদন জমা দেয়।

মূলতঃ গৌতমের জন্য ই দেবাংশুর এই চাকরি টা হয়। মার্কেটিং ম্যানেজার পদে চাকরির অফার লেটার পায়। বেতন মোটা অন্যান্য সুযোগ সুবিধাও আছে। তবে সব কিছু নির্ভর করবে ওর অর্থাৎ দেবাংশু র কর্মদক্ষতা'র ওপর।

এই ভাবে গৌতমের সাথে নিবিড় সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিভিন্ন সময় অফিস বস হিসেবে গৌতম এর সাথে দেবাংশু কে যেতে হতো বিভিন্ন জায়গায়।

পরমার সাথে বেশ ভাব জমিয়েছে দেবাংশু। মাঝে মাঝে ওদের বাড়িতে যায়।

পরমার বাবা মা ও কে খুব বিশ্বাস করে। দেবাংশু ওদের বাড়ির লোক হয়ে গেছে। আর পরমার কাছে দেবাংশু বাবু নয় সে দেবু দা।
দেবু এক সময়ে একান্তে ভাবে ভাবে পরমা তার কে! সে কি প্রেমিকা? সে কি পরমার ওপর বেশী নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে? কবে সে পরমাকে বলবে আমি তোমাকে ভালোবাসি। পরমার ই বা কি ফিলিংস তার প্রতি ?

অফিসে র কাজে খুব চাপ ছিলো এ কদিন। মার্চের শেষ। ইয়ার এন্ডিং। এ সময় স্নান খাওয়া র সময় থাকে না। এই সব কোম্পানি গুলো তে টার্গেট পূরন করতে হয়।

ফলে ইচ্ছা থাকলেও পরমার সাথে যোগাযোগ করতে পারে নি দেবাংশু।

পরমার মা: হ্যাঁ রে অনেক দিন দেবু আসে নি খবর নিয়ে ছিলি? শরীর টরির খারাপ হয় নি তো?

এক নিশ্বাসে কথা গুলি বলেন পরমার মা। চা খেতে খেতে পরমা র বাবাও স্ত্রীর র কথা সমর্থন করলেন।

পরমা র কিছু করার নেই। কারন কলেজে ফাইনাল সেমিস্টার। পড়ার চাপ এ মাথা তুলতে পারে নি এই ক দিন।
মা তোর পরীক্ষা তো হয়ে গেলো এবার কি করবি? বাবা র কথায় সম্বিৎ ফিরলো পরমার।

মা বলে উঠলেন দেবুর সাথে কথা বলো। ও তো ভালো ছেলে। ভালো অফিসে কাজ করে। ওর বাবা মা কেউ নেই। শিক্ষিত এবং পরোপকারী ছেলে হিসেবে দেবাংশু তো খারাপ না। পরমাও ওকে চেনে। পরমা বুঝলো দেবু দা কে মা বাবার পছন্দ।

কিন্তু পরমা সে কি চায়?
দেবু দা তার কাছে ভগবান এর মতো। দেবু দা কে সে অন্য আসনে বসিয়েছে। তার দেবুদার প্রতি অন্য কোন আসক্তি নেই।
পরমা মা কে বলে, বাবা তোমরা কত কি ভেবে ফেলছো এত তাড়াতাড়ি।

বাবা ও সব বিয়ে টিয়ে নিয়ে ভেবো না, আমি আরো পড়তে চাই। বিয়ে করে অকালে কেরিয়ার নষ্ট করতে চাই না। (ক্রমশঃ) 







 



style="text-align: justify;">








মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

জালিয়াতি করে চলছে রেস্টুরেন্ট দোকানের মালিকের অভিযোগে বাতিল জাল ট্রেড লাইসেন্স

চন্দননগর ইস্পাত সংঘে চলছে টি সি এস এ চাকরির ট্রেনিং

বৈদ্যবাটী সীতারাম বাগানে দম্পতির রক্তাক্ত দে উদ্ধার