ফার্মাসিউটিক্যাল ফিল্ড কর্মীদের শ্রম আধিকারিক আদালতে ঐতিহাসিক জয়
ফার্মাসিউটিক্যাল
ফিল্ড কর্মীদের
শ্রম আধিকারিক
আদালতে ঐতিহাসিক জয়
নিউজ ব্যুরো: রাজ্য শ্রম দফতরের যুগ্ম শ্রম আধিকারিক (পি) শ্রীমতি শর্মিষ্ঠা ঘোষ ভট্টাচার্যের সিঙ্গল বেঞ্চে দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের শেষে নিজেদের প্রাপ্য গ্র্যাচুইটির টাকা আদায় করতে সক্ষম হল অ্যাডোনিস ল্যাবরেটরিস কোম্পানির ১৩ জন প্রাক্তন ফিল্ড কর্মী। আদালতের রায়ে প্রায় ৩০ লক্ষ টাকা মিটিয়ে দিতে বাধ্য হল কোম্পানি কর্তৃপক্ষ। বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়, কোভিড-পরবর্তী সময় থেকেই এই বিরোধের সূত্রপাত। অভিযোগ, কোভিড কালে ফিল্ড কর্মীদের ওপর চাপ বজায় রেখে সম্পূর্ণ হিসাব বুঝে মুনাফা ঘরে তোলার পরও প্রতিশ্রুত প্রাপ্য অর্থ প্রদান থেকে সরে আসে অ্যাডোনিস কর্তৃপক্ষ। বকেয়া বেতন ও গ্র্যাচুইটির দাবি তুলতেই কর্মীদের ওপর শুরু হয় মানসিক চাপ, হুমকি এবং অশালীন ভাষায় নির্দেশ জারি করার অভিযোগও ওঠে।
এই পরিস্থিতিতে ২৬ জন ফিল্ড কর্মী সম্মিলিতভাবে কোম্পানি ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন এবং পদ্ধতিগতভাবে ইস্তফা দেন। কিন্তু চাকুরী-নিবৃত্তি সংক্রান্ত বকেয়া বেতন, গ্র্যাচুইটি ও অন্যান্য প্রাপ্য অর্থ দিতে অস্বীকার করে কোম্পানি। বারবার অনুরোধ সত্ত্বেও ফল না মেলায় ২০২২ সালে কলকাতা হাই কোর্টের আইনজীবী সুমিত ব্যানার্জির সঙ্গে যোগাযোগ করেন বঞ্চিত কর্মীরা। তিনি মামলার দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং সংশ্লিষ্ট আদালতে গ্র্যাচুইটির টাকা আদায়ের জন্য মামলা দায়ের হয়। বছর দুয়েকের মধ্যেই মিলল আশাতীত ফল।
সম্প্রতি জনাকীর্ণ এজলাসে আদালত রায় ঘোষণা করে ফিল্ড কর্মীদের প্রায় ৩০ লক্ষ টাকা পরিশোধের নির্দেশ দেন। উভয় পক্ষের আইনজীবীর উপস্থিতিতে মুম্বাই হেড অফিস থেকে প্রেরিত চেক কোম্পানির দুই কর্মী প্রতিনিধি মোহিত সেনগুপ্ত ও ইন্দ্রনীল মজুমদারের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
উল্লেখযোগ্য যে, ২০২২ সালের শেষে যেখানে ২৬ জন কর্মী মামলা লড়াইয়ে সামিল হয়েছিলেন, সেখানে নানা প্রলোভন ও চাপের মুখে মাঝপথে সরে দাঁড়ান অনেকেই। শেষ পর্যন্ত ১৩ জন কর্মীই দৃঢ়তার সঙ্গে লড়াই চালিয়ে যান। দিনের পর দিন আদালতের নির্দিষ্ট তারিখে উপস্থিত থেকে, ব্যক্তিগত দুঃখ-কষ্ট উপেক্ষা করে তাঁরা ন্যায়ের জন্য অপেক্ষা করেছেন। কারও পরিবারে ক্যান্সারের মতো মারণ রোগে স্বামী বা স্ত্রীর মৃত্যু হয়েছে, তবুও লড়াই থেকে পিছু হটেননি তাঁরা।
রায় ঘোষণার দিনে সেই সব মুখে ফুটে ওঠে স্বস্তির হাসি, অনেকের চোখে জল। অন্যদিকে, যাঁরা আগে বা মাঝপথে লড়াই ছেড়ে দিয়েছিলেন, তাঁদের মধ্যে হতাশার ছবি স্পষ্ট।
অ্যাডোনিস ল্যাবরেটরিসের প্রাক্তন ফিল্ড কর্মীদের এই আইনি জয় শ্রমজীবী মানুষের অধিকার রক্ষার ক্ষেত্রে এক গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।
style="text-align: justify;">












মন্তব্যসমূহ