মেসির ভারত সফরের স্মৃতিতে যুবভারতীর নামই এল না! লিখলেন বাকি তিন শহর নিয়ে
মেসির ভারত সফরের
স্মৃতিতে যুবভারতীর
নামই এল না!
লিখলেন বাকি
তিন শহর নিয়ে
শুভ্র মুখোপাধ্যায়
কলকাতা: তিলোত্তমা কলকাতায় ২০১১ সালে ফিফা প্রীতি ম্যাচ খেলে গিয়েছিলেন লিওনেল মেসি। আর্জেন্টিনার ‘ক্যাপ্টেনস আর্মব্যান্ড’ পরে সেইপ্রথম দেশের প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে ম্যাচে। মেসির অভিষেক হয়েছিল যে মাঠে, সেই মঞ্চই ১৪ বছর পরে কলঙ্কিত হয়ে গিয়েছে। যুবভারতীতে দেড় ঘণ্টা থাকার কথা ছিল। অনেক অনুষ্ঠান হওয়ার কথা ছিল মুখ্যমন্ত্রী, সৌরভদের সঙ্গে। সবটাই বানচাল হয়ে যায় দর্শকদের বিক্ষোভে।
মেসি ভারত সফর শেষ করে বার্সেলোনায় ফিরে গিয়েছেন। কিন্তু তিনি নিজের ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে যে ভিডিও পোস্ট করেছেন, সেখানে একবারের জন্যও যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনের কথা উল্লেখ নেই। বরং বাকি তিন শহর, মুম্বাই, হায়দরাবাদ ও দিল্লির কথা রয়েছে। কলকাতার স্মৃতি হিসেবে মেসি উল্লেখ করেছেন লেকটাউনে তাঁর ৭০ ফুটের মূর্তির কথা।
অবাক হতে হয়, রাজ্যের ‘সদ্য প্রাক্তন’ ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস, যিনি মেসির সঙ্গে ছবি তোলার জন্য মরিয়া ছিলেন, তাঁর কথাও মেসি কিছু জানাননি। বরং তিনি সঞ্জীব গোয়েঙ্কা, পার্থ জিন্দালদের মতো শিল্পপতিদের সান্নিধ্যের কথা লিখেছেন এবং ভিডিওতে তাঁদের দেখা গিয়েছে। পাশাপাশি বলিউড তারকা শুভশ্রীর সঙ্গে ছবিও নেই মেসির পোস্টে। ভিডিওর ক্যাপশনে অবশ্য কলকাতা শহরের উল্লেখ করেছেন ‘ফুটবল রাজপুত্র’।
মেসি গত ১৩ ডিসেম্বর যুবভারতীতে আসার পরে এমন বিশৃঙ্খলা হয়েছিল যে, তিনি মাত্র ২২ মিনিট থেকেই মাঠ থেকে বেরিয়ে সোজা হোটেলে চলে যান। তারপর দেড়টার ফ্লাইট ধরে হায়দরাবাদ চলে গিয়েছিলেন। সেই স্মৃতি যে মেসির কাছে খুব একটা সুখকর নয়, সেটি তাঁর পোস্টে যুবভারতীর কথা বাদ যাওয়াতেই পরিষ্কার। অরূপ বিশ্বাস, শুভশ্রীদের কথা না থাকলেও স্পোর্টস প্রোমোটার শতদ্রু দত্তের কথা লিখেছেন মেসি। যিনি এই মুহূর্তে ১৪ দিনের পুলিশী হেফাজতে রয়েছেন।
মেসি অবশ্য ভারত সফরের স্মৃতি সঙ্গে করেই বার্সেলোনা তাঁর দ্বিতীয় বাড়িতে পৌঁছেছেন। তিনি লিখেছেন, “নমস্কার ভারত। দিল্লি, মুম্বাই, হায়দরাবাদ ও কলকাতায় আমি গিয়েছিলাম। যেরকম আতিথেয়তা ও ভালবাসা পেয়েছি, তার জন্য ধন্যবাদ। আশা করছি, ভারতে ফুটবলের ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল।”
মেসি যে ভারত কোনও একদিন খেলবেন, সেটিও বুঝিয়েছেন। তবে অনেকেই মনে করছেন, মেসি এবার ভারত সফরের চারদিনে একদিনও কোনও ম্যাচ খেলেননি, কারণ তাঁর দুই পায়ের বিমা রয়েছে ৮ হাজার কোটি টাকা। ওই বিপুল পরিমাণ টাকার কথা ভেবেই তাঁকে দিয়ে কোনও ম্যাচ খেলানোর রাস্তায় হাঁটেনি এ দেশের সরকার। তাই তিনি হয়তো বলতে চেয়েছেন, আগামী দিনে ভারতে এসে কোনও দলের হয়ে ম্যাচ খেলবেন সাময়িকভাবে।
যে ভিডিও পোস্ট করা হয়েছে মেসির তরফে, তাতে দেখা গিয়েছে তিনি দুই সতীর্থ সুয়ারেজ ও ডি’পলের সঙ্গে হাসিমুখে রয়েছেন সর্বত্রই। এমনকী দিল্লিতে খুদে ফুটবলারদের সঙ্গে ক্লিনিকে অংশ নেওয়ার ছবিও রয়েছে। মেসি আরও বলেছেন, ‘‘গত কয়েক দিন ধরে ভারতে যে ভালবাসা পেয়েছি, তার জন্য ধন্যবাদ। এক দুর্দান্ত অভিজ্ঞতা হয়েছে আমাদের। এই সফর খুব কম সময়ের ছিল, তারপরেও যে ভালবাসা পেয়েছি, তাতে সব ক্লান্তি দূর হয়ে গিয়েছে।”
মেসির কথায়, আমরা জানতাম ভালবাসা পাবই, কিন্তু কতোটা সেই ধারণা ছিল না। সকলে পাগলের মতো ভালবাসা দিয়েছে আমাদের। এই অভিজ্ঞতা নিয়ে দেশে ফিরছি। আশা করছি, এক দিন আমরা ভারতে খেলব। তবে খেলতে না পারলেও ভারতে আসবই।’’
style="text-align: justify;">











মন্তব্যসমূহ