নিছকই একটা গল্প! না অন্য কিছু?
নিছকই একটা গল্প!
না অন্য কিছু?
সীতাংশু মজুমদার
আজ ঘুম থেকে উঠতে দেরি হলো দেবাংশুর। অফিসে যেতে ইচ্ছে না হলেও যেতে হবে। প্রতিদিন এর মতো নমির হাতে চা জলখাবার খেয়ে অফিসে র গাড়ি আসতেই বেরিয়ে গেল দেবাংশু।
রিসেপশনিষ্ট: স্যার আপনাকে বড় সাহেব স্মরণ করে ছিলেন। আপনি আসলে ওনাকে জানাতে বলেছেন। গ্লাস এ চুমুক দেয় দেবাংশু কথা শুনতে শুনতে। চা এর অর্ডার দিয়ে ফোন এ হাত দিলো। ঘরের আলোচনা করা'র এই ফোন ।
দেবাংশু: হ্যালো কি ব্যাপার হঠাৎ তলব?
বড় সাহেব: ও প্রান্ত আজ এতো দেরি কেনো?
দেবাংশু বস হিসেবে জিজ্ঞাসা না কি?
ও প্রান্ত: দাদা হিসেবে বলা যায় না
ও প্রান্তঃ শোন আজ এক সাথে লাঞ্চ করবো। কথা আছে।
গৌতম: বেয়ারাকে বলে বাইরে থেকে খাবার আনিয়ে ছিলো গৌতম।
ফিস ফ্রাই/স্যালাড /সামান্য ফ্রায়েড রাইস আর চিলি চিকেন ।
ফ্রাই ভাঙতে ভাঙতে( সাহেবি কায়দায় ফ্রাই ভেঙে ফর্ক দিয়ে মুখের কাছেই এনে) গৌতম বলে।
মানুষের দিন শেষ হয়ে আসছে দেবু। আমাদের কাজের জায়গায় হাত দিয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা।
দেবাংশু: হ্যাঁ ঠিক বলেছো সৌন্দর্যের দুনিয়া তে ভাগ বসিয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা।
গৌতম: তুই কি দেখেছিস একটি ফ্যাশন পত্রিকা অগাস্ট সংখ্যায় দুপাতা জোড়া একটা বিজ্ঞাপনের মডেল হিসেবে ব্যবহার করেছে এক সুন্দরী মানবীকে।
হ্যাঁ দেখেছি (দেবাংশু জানায়)
গৌতম: এ ভাবে অলীক সৌন্দর্যের মাপকাঠি বেড়ে চললে আমাদের কোম্পানি লাঠে উঠবে ।
গৌতম বলে আগামী মাসে দিল্লি তে বোর্ডের সভা হবে। জরুরি! তুই ও থাকবি।
পরমার মা: কি ব্যাপার দেবু কতদিন বাদে এলে
আমাদের একেবারেই ভুলে গিয়েছো। এসো ভেতরে এসো
এক নিশ্বাসে কথা গুলো বলে গেলেন পরমা র মা।
তাঁর গলায় একটা দেবুর প্রতি অভিমান ছিলো বসো আমি পরী কে ডেকে দিচ্ছি।
চা এর কাপে চুমুক দিতে দিতে দেবাংশু ভাবে তাকে কি ভাবে এরা নিবিড়ভাবে ভালো বেসে ফেলেছে।
পরমা: কি ব্যাপার তোমার তো পাত্তাই নেই।
চমক ভাঙলো পরমার কথায় দেবাংশু নিরবতা ভাঙলো। বলো!
দেবাংশু : অফিসে র কাজের চাপে আসতে পারি নি। আজ এসেছি। কয়েক দিন বাইরে যাবো তার আগে দেখা করতে।
দেবাংশু: তুমিও তো আমার কোনো খবর নিলে না।
পরমা: না গো ফাইনাল সেমিস্টার নিয়ে খুব ব্যাস্ত ছিলাম।
পরমার বাবা মা দুজনে ই ঘরে ঢুকলেন। বাবা কোনো ভনিতা না করে ই বল্লেন তুমি তো আমাদের পরিবারের ই একজন হয়ে গেছো। তাই পরমার ব্যাপার এ তোমার সাথে আলোচনা করতে চাই।
(দেবাংশু পরমার দিকে তাকালো)
পরমার স্নান হয়ে গেছে।
পরনে ঘি রঙের টপ এবং প্লাজো। হালকা মিষ্টি একটা গন্ধ কি সেন্ট না ক্রিম বোঝা যাচ্ছে না।
পরমার বাবা র কথায় দেবাংশু জানালো যে কয়েকদিন এর জন্য কলকাতা র বাইরে থাকবে। ফিরে এসে আলোচনা করা যাবে কি? পরমার বাবা জানালেন ঠিক আছে তারাহুড়ো র কিছু নেই ।
পরমার মা একটা প্লেটে চিকেন পাকোড়া স্যালাড এবং সস নিয়ে দেবাংশু কে খেতে দিলেন।
পকোড়ায় কামর দিতে দিতে দেবাংশু বললো কাকু পরীর কি বিয়ে ঠিক করেছেন?
বাবা মা উত্তর দেওয়ার আগে পরমা ই বলে উঠলো হ্যাঁ আর সাথে জানো তোমার সাথে।
এবার পরমার বাবা মুখ খোলেন-
হ্যাঁ ঠিক ই তো আমাদের দেবু কি ছেলে হিসেবে খারাপ? মা ও বাবার কথা সমর্থন করলেন।
(পরমা পুনরায় বললো)তোমাদের বলেছি না এখন বিয়ে টিয়ে নয়। আমি আরো পড়বো অধ্যাপনা করবো তারপর বিয়ে।
দেবাংশু কিছু বলতে যাচ্ছিল,
পরমা বলতে না দিয়ে নিজেই বললো দেবু দা তুমি কি আজ খুব ব্যস্ত? আমায় একটু সময় দিতে পারবে? দেবাংশু মাথা নাড়লো।
পরমা বলে কলেজস্ট্রিট যাবো। সমাজ তত্ব এর কিছু ব ই কিনতে হবে।
দেবাংশু জানালো কোনো অসুবিধা তার নেই। তার গাড়ি তে পরমা যেতে ই পারে।
পরমা বল্লো একটু দাঁড়াও আমি আসছি।
পরমা র মা বলেন দ্যাখো পাগলি র মত পরিবর্তন করে কি না।
(দেবাংশু র ডাক পড়েছে ম্যানেজিং ডিরেক্টর এর ঘরে।)
মে আই কামিং স্যার?
ম্যানেজিং ডিরেক্টর: ইয়েস কামিং প্লিজ, সিট ডাউন।
দেবাংশু উল্টো দিকে র চেয়ারে বসলো।
কনগ্রাচুলেশন মিঃ দেবাংশু
আপনার প্রমোশন হয়েছে। আপনি কোম্পানি র সিনিয়র ম্যানেজার হয়েছেন। কোম্পানি আপনাকে ছয় মাস এর জন্য গুজরাটে পাঠাচ্ছে। মার্কেট এর অবস্থা পর্যালোচনা র জন্য। আপনার প্লেনের টিকিট এবং হাত খরচের টাকা।
দেবাংশু টিকিট এবং টাকার খাম টা নিলো। (ক্রমশঃ)
style="text-align: justify;">











মন্তব্যসমূহ