ল-ইন্টার্ন এবং জুনিয়ার লইয়ারদের কোর্টের ভিতরকার সংগ্রাম
ল-ইন্টার্ন এবং জুনিয়ার
লইয়ারদের কোর্টের
ভিতরকার সংগ্রাম
কিরণ্ময় খাঁড়া
আমাদের দেশে অধিকাংশ গার্জিয়ানরা যখন নিজের সন্তানদেরকে একটি ভালো বিষয়ে পড়াশোনা করার জন্য উৎসাহিত করেন বা ভাবেন তখন যে কথাটা স্বাভাবিকভাবে শুনতে পাওয়া যায় ডাক্তার উকিল কিংবা ইঞ্জিনিয়ার। আজকে কথা বলব যারা আইন সংক্রান্ত বিষয়ে পড়াশোনা করেন এই আইনজীবীদের পেশাগত সংগ্রাম সম্পর্কে। আমাদের দেশের মানুষ আস্তে আস্তে আইন ব্যবস্থার উপর থেকে আস্থা হারিয়েছে ফেলছেন কিন্তু আমরা যারা আইনজীবীরা সংবিধান রক্ষার স্বার্থে ভারতের আইন ব্যবস্থার সাথে চিরকাল সংগ্রাম করে আসছি তাদের বিষয়ে মানুষ অনেক ভুল ধারণা পোষণ করেন। অনেকেই ভাবেন যে আমরা আইনজীবীরা জীবনের প্রথম সময় থেকে শেষ অব্দি প্রচুর টাকা পয়সা উপার্জন করি কিন্তু একটা বিষয় কি জানেন ?
একটি সমীক্ষা বলছে ভারতের মধ্যে ৯৮% নতুন আইনজীবী এবং ইন্টার্ন-রা কোন স্টাইপেন পান না অথবা এও বলা যেতে পারে পেলেও খুব যত্সামান্য এবং একটি সমীক্ষা বলছে যে জুনিয়র অ্যাডভোকেট রা যেখানে দিনে ২০০-৩০০ টাকা রোজগার করেন সেখানেই কিন্তু সিনিয়র অ্যাডভোকেটরা ২০,০০০/- টাকা থেকেও বেশি চার্জ করেন পার হেয়ারিং। তবে কি জানেন ডাক্তারির মত আইনজীবীর পেশা ও একটি নোবেল প্রফেশন হিসেবেই ধরা হয় কিন্তু মানুষ ভাবে মামলা মোকদ্দমার সময় অ্যাডভোকেটরা অনেক টাকা পয়সা দাবি করছেন, এটা ভাবার যথেষ্ট কারণ আছে মানুষের মধ্যে কারণ আজকালকার দিনে অনেকেই মেল-প্র্যাকটিস করছেন যেটা আমাদের পেশার সাথে দ্বিচারিতা করা কিন্তূ মানুষকে ভাবতে হবে যারা ভালোভাবে প্র্যাকটিস করেন পাঁচটা বছর পড়াশোনা ১০০ টার বেশি সাবজেক্ট কত কত পরীক্ষার কত কত ইন্টার্নশিপ এবং সর্বশেষ অল ইন্ডিয়া বার কাউন্সিল এক্সাম এর পরীক্ষা দিয়ে আমরা প্র্যাকটিস করতে আসি সেই ক্ষেত্রে নলেজের একটু কদর তো মানুষকে করতেই হবে। কিন্তু জুনিয়র এডভোকেট দের এই স্ট্রাগেল দেখে সরকার যদিও বেতনসহ ইন্টার্নশিপের কথা বলেছে, তবে বাধ্যতামূলক ভাতা প্রদানের জন্য কোনো আইন প্রণয়নের ইচ্ছা তার নেই। ২০২৫ সালের জুলাই মাসে সংসদে উত্থাপিত এক প্রশ্নের জবাবে আইন ও বিচার মন্ত্রণালয় জানায় যে, আইন শিক্ষানবিশদের জন্য ন্যূনতম ভাতা নির্ধারণে কোনো বাধ্যতামূলক কাঠামো বা নির্দেশিকা তৈরির পরিকল্পনা নেই। বরং মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বার কাউন্সিল অব ইন্ডিয়া (BCI) একটি Model Code of Legal Internships প্রণয়ন করছে, যা ন্যায়সংগততা, স্বচ্ছতা ও অভিযোগ নিষ্পত্তির প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে লক্ষ্য রাখবে—তবে এটি কোনোভাবেই বাধ্যতামূলক হবে না।
এর আগে, ২০২৪ সালের অক্টোবর মাসে BCI ইতিমধ্যেই একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেয়—তারা অ-বাধ্যতামূলক নির্দেশিকা জারি করে, যেখানে শহরাঞ্চলে ইন্টার্ন ও নবীন আইনজীবীদের জন্য মাসে ন্যূনতম ২০,০০০ টাকা এবং গ্রামীণ এলাকায় ১৫,০০০ টাকা ভাতা দেওয়ার সুপারিশ করা হয়। এই নির্দেশিকা কমপক্ষে তিন বছরের জন্য প্রযোজ্য হবে বলে উল্লেখ করা হয়, যেখানে মেন্টরশিপ, কর্মমূল্যায়ন ও স্বচ্ছতা বজায় রাখার প্রত্যাশা করা হয়েছে। একই সঙ্গে, ক্ষুদ্র আইন সংস্থা বা এককভাবে কাজ করা আইনজীবীদের আর্থিক সীমাবদ্ধতাও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।
২০২৪ সালের শুরুতে আইনজীবী মহলে ন্যায্য ভাতার দাবিতে সক্রিয়তা তীব্র হয়। দিল্লি হাইকোর্ট BCI ও দিল্লি বার কাউন্সিলকে ইন্টার্ন ও নবীন আইনজীবীদের ন্যায্য ভাতা ও পারিশ্রমিক সংক্রান্ত প্রতিনিধিত্বের বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দেয়। একই সময়ে বোম্বে হাইকোর্টে অজিত বিজয় দেশপান্ডে নামের এক ব্যক্তি একটি জনস্বার্থ মামলা (PIL) দায়ের করেন, যেখানে তিনি বার্ষিক আয় ১ লাখ টাকার নিচে থাকা জুনিয়র আইনজীবীদের জন্য মাসিক ৫,০০০ টাকার ভাতার দাবি জানান। আদালত বিষয়টির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করলেও আবেদনটি খারিজ করে দেয়—কারণ স্পষ্ট আইনগত নির্দেশনা বা সরকারি আর্থিক সহায়তা ছাড়া আদালত কোনো বাধ্যতামূলক ভাতা ব্যবস্থা ঘোষণা করতে পারে না। বিচারকরা মুম্বাইয়ের উচ্চ জীবনযাত্রার খরচের বিষয়টি উল্লেখ করে বলেন, “বাস্তবে একজনের বেঁচে থাকার জন্য ৪৫,০০০ টাকারও বেশি প্রয়োজন হতে পারে।” তবে আদালত এটিও স্পষ্ট করে দেয় যে, নৈতিক সমর্থন আইনি ক্ষমতার বিকল্প নয়।
বৃহত্তর পরিসরে বাধ্যতামূলক ভাতা আইনের বিরোধীরা যুক্তি দেন—আইনজীবী প্রশিক্ষণ, নেটওয়ার্কিং ও পেশাগত পরিচিতিই প্রকৃত মূলধন; অর্থ নয়। এই ধারণাই অনেক প্রতিষ্ঠানের কাছে অজুহাত হিসেবে ব্যবহৃত হয়—ইন্টার্নরা অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ, ‘গুডউইল’ ও প্রতিষ্ঠানের নাম পাওয়ার বিনিময়ে কাজ করে—এটি একপ্রকার অলিখিত বিনিময়। এক জনপ্রিয় আইন পোর্টাল এই বাস্তবতাকে “উন্মুক্ত অথচ অনুচ্চারিত” সত্য হিসেবে বর্ণনা করেছে। অনেক ইন্টার্ন গ্রীষ্মকালীন বা বছরের মধ্যে দীর্ঘ সময় ধরে এসব প্রতিষ্ঠানে কাজ করে, কারণ তারা অভিজ্ঞতা ও খ্যাতির জন্য কাজটিকে মূল্যবান মনে করে—যদিও অনেকেই স্বীকার করে, “অন্তত অন্য প্রতিষ্ঠানগুলো খারাপ কাজের জন্যও ভালো টাকা দেয়।”
style="text-align: justify;">






মন্তব্যসমূহ