হিন্দমোটরের শ্রমিকের কান্না
হিন্দমোটরের শ্রমিকের কান্না
মন্তব্য লেখকের নিজস্ব
শ্রমিকনেতা মলয় সরকার
১৯৪৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় হিন্দুস্থান মোটরস কারখানা। এককালে এর তৈরী অ্যাম্বাসাডর ছিলো স্টাইল স্টেটমেন্ট। ডিজেল চালিত গাড়িটি এককালে মানুষের অত্যন্ত পছন্দের ছিলো নব্য উচ্চবিত্ত বা মধ্যবিত্তের স্বপ্নের সাথী। হাজারো ট্যাক্সি চালকের রুজি রোজকারের অন্যতম হাতিয়ার। সরকারী আমলা ও মন্ত্রী বিধায়ক দের বাহন। আজ সেই গৌরবময় অতীত ইতিহাস মুছে গেছে কিন্তু শ্রমিকরা তো আছে। সাথে আছে তাদের জীবন যন্ত্রনা।
বিড়লাদের এই হিন্দুস্থান মোটর কারখানায় এককালে ১৫ হাজার প্রমিক কাজ করতেন। পরিকল্পনার অভাবে কর্তৃপক্ষ কারখানাটিকে রুগ্নতার দিকে নিয়ে যান। ৭একর জমির ওপর গড়ে ওঠা এশিয়ার প্রথম অটোমোবাইল ইন্ডাস্ট্রি রুগ্নতার হাত থেকে বাঁচানোর জন্য ২০০৬ সালে তদানীস্থন বামফ্রন্ট সরকার হিন্দুস্তান মোটরস্ কর্তৃপক্ষের আবেদনক্রমে কারখানার অব্যবহৃত ভূমির মাধ্য ৩১৪ একর ভূমি বিক্রীর শর্ত সাপেক্ষে অনুমতি দেন। যে শর্তগুলীর মধে প্রধান বিষয় ছিল বিক্রয়মূল্যের অর্থের পুরোটাই হিন্দমোটর কারখানার পুনরুজ্জীবন এবং তার আধুনিকীকরণে ব্যয় করতে হবে এবং বিক্রীত ভূমিতে শ্রমিকদের স্বার্থে ও এলাকার জলাভূমি সংরক্ষন,
ও পরিবেশ রক্ষার্থে ব্যবহার করতে কত্তৃপক্ষ বাধ্য থাকবে। ঐ সমস্ত শর্ত কে মান্যতা না দিয়ে, বিক্রয় প্রাপ্ত অর্থ শিল্পে বিনিয়োগ না করে শ্রীরাম গ্রুপ কে আবাসন তৈরীর জন্য জমির স্বত্ব তুলে দেন। যারা শুরু থেকেই সমগ্র এলাকার পরিবেশকে ধ্বংস করে, কোন শর্ত না মেনে একের পর এক আবাসন গড়ে তুলছেন। যার বিরুদ্ধে বহু সভা, কনভেনশন সংগঠিত হয়েছে। কিন্তু বিড়লা কতৃপক্ষ ঐ সমস্ত অন্যায় কাজ মেনে নিচ্ছেন।
২০১১ সালে রাজ্যে শাসন ক্ষমতার তৃণমূল আসীন হবার পর শ্রীরাম রুপের কর্মকাণ্ডে বৃদ্ধি হয়। শাসক দলের মদতে তাদের কার্যধারা বহুতল যেমন বৃদ্ধি করেন ঠিক একইভাবে বিড়লা কর্তৃপক্ষ ২০১৪ সালের ২৪ শে মে 'সাসপেনশন অব্ ওয়াক' নোটিশ দিয়ে কারখানার বন্ধ করে দেন।
এই নোটিশ'কে চ্যালেঞ্জ করে CITU অনুমোদিত হিন্দুস্তান মোটরস ওয়াকার্স ইউনিয়ন কলকাতা হাইকোর্টে মামলা করেন। যে মামলার অন্তবর্তীকালীন আদেশে মাননীয় বিচারপতি একটি স্থগিতাদেশ জারী করেন এবং কারখানায় ভূমি ও মেশিনারী কোনও ডাকে হস্তান্তর ও স্থানান্তরকরণ করা যাবে না বলে নির্দেশ দেন।
উল্লেখ থাকে হিন্দমোটর কর্তৃপক্ষ কলকাতা হাইকোর্টে স্থগিতাদেশ পাবার পর দিল্লী হাইকোর্টে আপিল করেন এবং আরও ৫০ একর ভূমি বিক্রীর অনুমতি পান ও মেই জমি অন্য এক সংস্থাকে বিক্রী করেন। এখানে উল্লেখ্য ২০০০ সালের আগেই কর্তৃপক্ষ মেশিনারী সহ কারখানার একাংশ হস্তান্তর করেন যা হায়দ্রাবাদ ইভাস্ট্রীজ নামে পরিচিত। কিন্তু কোন মেনেই নতুন করে হিন্দমোটর কারখানাকে বাঁচানোর জন্য ব্যবস্থা নেন না। পুনরুজ্জীবনে হলে জন্য নতুন বারে অর্থ বিনিয়োগ না করায় এই গুরুত্বপূর্ণ শিল্পটি ক্রমশই রুগ্ন হয়। হ
সম্প্রতি টিটাগড় ওয়াগান কর্তৃপক্ষ (যাঁরা হায়দ্রাবাদ ইন্ডাস্ট্রীজ পরবর্তী সময়ে ক্রয় করেন) হিন্দুস্তান মোটরস্ এর জমির অধিকার বলবৎ করতে নিজস্ব সিকিউরিটি নিয়োগ করেছেন যা হাইকোর্টের স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশের ভয়ঙ্কর অমান্যতা বলে আমরা মনে করি। এ ব্যাপারে না রাজ্য সরকার, না রাজ্য প্রশাসন না বিড়লা 'কর্তৃপক্ষ কোনও রকম বিবৃতি দিচ্ছেন না, বা নিবন্ধীকৃত ইউনিয়ন নেতৃত্বকে কোনওভাবে অবহিত করেছেন না। আমাদের দাবী
② কর্তৃপক্ষের একতরফাভাবে হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করার বিরুদ্ধে প্রশাসনকে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।
② শিল্পের জমিতে শিল্প স্থাপন করে শ্রমিকদের পুর্নবহাল (যাদের অবসর নেবার বয়স হয়নি) করতে হবে। এবং সমবায়ের জমাকৃত অর্থ সহ সমস্ত বকেয়া দ্রুত হিন্দমোটর কর্তৃপক্ষকে পেমেন্ট করতে হবে। বিড়লা কতৃপক্ষকে বামফ্রন্ট সরকার জমি বিক্রীর অনুমতি প্রদানের সময় যে সমস্ত শর্ত আরোপ করেছিলেন বা সম্পূর্ন লঙ্ঘন করে শ্রীরাম গ্রুপ যে আবাসন প্রকল্পের কাজ করছে, তা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।
style="text-align: justify;">


মন্তব্যসমূহ